
কলকাতা পুরসভার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার পর থেকেই পুরবোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। পুরবোর্ড বহাল থাকবে নাকি প্রশাসক নিয়োগ করা হবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। পাশাপাশি, পুরবোর্ড টিকে থাকলে নতুন মেয়রের দায়িত্ব কে সামলাবেন, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে রবিবার দুপুর ৩টেয় বাইপাস সংলগ্ন তৃণমূল ভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ওই বৈঠকে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর এবং দলের গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারীদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাক্তন মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম নতুন মেয়র হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে এবং তা নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা জোরদার হয়েছে।
আরও পড়ুন :: দিল্লি থেকে শিলিগুড়ি মাত্র ৬ ঘণ্টায়! রাজ্যে আসছে বুলেট ট্রেন, নবান্নে ঐতিহাসিক ঘোষণা রেলমন্ত্রীর
ফিরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর কলকাতা পুরসভার প্রশাসনিক কাজকর্মে অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। কেন পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চিঠিও পাঠানো হয়েছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সেই বিষয়ে জবাব দিতে হবে। এরই মধ্যে নতুন মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে সক্রিয় হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রবিবারের বৈঠকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। দলীয় মহলের একাংশের দাবি, শোভন চট্টোপাধ্যায়কে আবারও মেয়রের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
তবে শোভন চট্টোপাধ্যায় বর্তমানে কাউন্সিলর নন, ফলে তাঁকে কীভাবে মেয়র করা সম্ভব, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। যদিও কলকাতা পুরসভার সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, কলকাতার যে কোনও বাসিন্দাকে মেয়র পদে নিয়োগ করা যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে তাঁকে ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হতে হবে।
অন্যদিকে, বর্তমান পুরবোর্ডের মেয়াদও আগামী ছয় মাসের মধ্যেই শেষ হওয়ার কথা। যদিও শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম নিয়ে আলোচনা চলছে, তৃণমূলের একাংশ আবার ডেপুটি মেয়র অথবা মেয়র পারিষদের দায়িত্বে থাকা কোনও সদস্যকে মেয়রের পদে বসানোর পক্ষেও মত দিচ্ছেন। এই সমস্ত বিষয় নিয়েই আলোচনার উদ্দেশ্যে, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি রওনা হওয়ার আগে তৃণমূল ভবনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডেকেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।



