
দলের অন্দরে ক্ষোভ, ভাঙনের জল্পনা এবং নেতৃত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের আবহে বড় সাংগঠনিক পরিবর্তনের পথে হাঁটল তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শুক্রবার কালীঘাটে অনুষ্ঠিত জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে নেওয়া হল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন সাংগঠনিক কাঠামোতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা বজায় থাকলেও তাঁর ক্ষমতার পরিধিতে কিছুটা পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে।
দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক পদে বহাল থাকছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তাঁর সঙ্গে যুগ্ম জাতীয় সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেনকে। ফলে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও সমন্বিত কাঠামো তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন :: এবার বিপাকে অভিষেকের ডায়মন্ড হারবার এফসি! ‘টাকার উৎস’ নিয়ে বড় তদন্তের হুঁশিয়ারি ক্রীড়ামন্ত্রীর!
এদিকে দলের রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে। এতদিন এই পদে ছিলেন সুব্রত বক্সি। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চাইছিলেন। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরোধে তিনি এতদিন দায়িত্বে ছিলেন। সম্প্রতি দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর শারীরিক কারণ দেখিয়ে ফের দায়িত্বমুক্তির আবেদন জানান তিনি। সেই আবেদন মঞ্জুর করে তাঁকে রাজ্য সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি জাতীয় কার্যকরী কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন।
দলের নতুন সাংগঠনিক কাঠামোয় সাজদা আহমেদ, মমতাবালা ঠাকুর এবং নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাজ্য সহ-সভাপতি করা হয়েছে। রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়েছেন বাবর আলি, পুলক রায়, অসীমা পাত্র, অরূপ বিশ্বাস এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
এক্সিকিউটিভ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, রানা চট্টোপাধ্যায়, বিদেশ বসু, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত, তাপস চট্টোপাধ্যায়, বসুন্ধরা গোস্বামী এবং গৌতম দেব।
যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সায়নী ঘোষকে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মধুরিমা ঠাকুর। মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন মালা রায়। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি করা হয়েছে প্রিয়াঙ্কা অধিকারীকে।
শ্রমিক সংগঠন আইএনটিটিইউসির সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন মলয় ঘটক। হকার সংগঠনের দায়িত্বে রয়েছেন মদন মিত্র। কৃষক সংগঠনের নেতৃত্বে থাকবেন বেচারাম মান্না এবং খেত মজদুর সংগঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পূর্ণেন্দু বসুকে। তফসিলি জাতি ও উপজাতি সংগঠনের দায়িত্ব সামলাবেন বীরবাহা হাঁসদা।
দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং কুণাল ঘোষ। কোষাধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শুভাশিস চক্রবর্তীকে।



