পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা! আদানির পর লার্সন অ্যান্ড টিউব্রোর শীর্ষ কর্তার সঙ্গে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

দীর্ঘ সময়ের শিল্প স্থবিরতার পর পশ্চিমবঙ্গে কি এবার বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে? বাংলা কি আবারও দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পথে এগোচ্ছে? রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই এই প্রশ্ন ঘিরে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই আবহে শিল্প বিনিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনায় আরও গতি আনতে আদানি গোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর এবার লার্সেন অ্যান্ড টিউব্রোর চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
শনিবার কলকাতা বিমানবন্দরে লার্সেন অ্যান্ড টিউব্রোর চেয়ারম্যান এস. এন. সুব্রহ্মণ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রায় আধঘণ্টা ধরে চলা এই বৈঠকের পর নিজের এক্স হ্যান্ডেলে বৈঠকের ছবি শেয়ার করে বিষয়টি জানান তিনি। এক্স-এ শুভেন্দু লেখেন, ‘রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধি, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও সর্বোপরি যুব সমাজের কর্মসংস্থান তৈরির মতো বিষয়গুলি নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে।’ পাশাপাশি তিনি উল্লেখ করেন, পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়নের প্রসার এবং বৃহৎ বিনিয়োগের উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে এই বৈঠককে ‘পশ্চিমবঙ্গের শিল্প পুনর্জাগরণ’-এর ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ বলেও বর্ণনা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও পড়ুন :: পুরবোর্ড থাকবে নাকি প্রশাসক? নতুন মেয়র নিয়ে রবিবার তৃণমূল ভবনে বৈঠক ডাকলেন মমতা
উল্লেখ্য, গত বুধবার নবান্নে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আদানি গোষ্ঠীর কর্ণধার গৌতম আদানির পুত্র করণ আদানির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণ, লজিস্টিক্স হাব গঠন এবং গ্রিনফিল্ড সড়ক প্রকল্পের মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই বর্তমান সরকার দাবি করে আসছে যে, বাংলাকে একটি স্বচ্ছ ও শিল্পবান্ধব গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলির সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ধারাবাহিক বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, বৃহৎ শিল্প সংস্থাগুলি যদি পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়, তাহলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বিপুল কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র উন্মুক্ত হতে পারে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।



