
একুশে জুলাইয়ের ‘শহিদ দিবস’ (Martyrs’ Day) পালন নিয়ে এবার নজিরবিহীন টানাপোড়েন রাজ্য রাজনীতিতে। তৃণমূলের ভাঙন ও দলের রাশ কার হাতে থাকবে— এই দ্বন্দ্বে যখন জেরবার ‘কালীঘাট শিবির’, ঠিক তখনই আসরে নামলেন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। বুধবার সকালে ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর অনুগামীদের তীব্র কটাক্ষ করলেন তিনি। দিলীপের সাফ কথা, “দম থাকলে ব্রিগেডে যান। কর্মী থাকলে ব্রিগেড ভরিয়ে দেখান।” ২১ জুলাই ধর্মতলায় সভার অনুমতি না মেলা এবং মাঠ ভরাটের আশঙ্কা নিয়ে কালীঘাট তৃণমূলকে যেভাবে দিলীপ ঘোষ বিঁধেছেন, তা নিয়ে এখন তোলপাড় রাজনৈতিক মহল।
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানে তৎকালীন সরকারের পুলিশের গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন এবং গুরুত্বপূর্ণ এই দিনটি প্রতি বছর মেগা ইভেন্ট হিসেবে পালন করে তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু ২০২৬ সালের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা।
আরও পড়ুন :: চিকিৎসকদের ‘৯৬ ঘণ্টা ডিউটি’ বিতর্কে অবস্থান বদল স্বাস্থ্যমন্ত্রীর! ‘অনুরোধ করেছি’, জানালেন শারদ্বত
তৃণমূল এখন খণ্ডবিখণ্ড। একদিকে সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট শিবির’, অন্যদিকে পরিষদীয় দলের রাশ নিজেদের হাতে রাখা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল তৃণমূল’পন্থী শিবির। দুপক্ষই এবার ২১ জুলাইয়ের অধিকার দাবি করে লড়াইয়ে নেমেছে, যার জেরে চরম অস্বস্তিতে ঘাসফুল শিবির।
প্রতিবার ধর্মতলার ভিক্টোরিয়া হাউসের সামনে যে মেগা মঞ্চ বাঁধা হতো, এবার সেখানে পুলিশি নিষেধাজ্ঞার জেরে কাউকেই অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে বৈঠক করে বিকল্প জায়গা হিসেবে মেয়ো রোডে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ২১ জুলাই পালনের ছাড়পত্র পেয়ে গিয়েছে ঋতব্রত শিবির। ফলে আইনি ও কৌশলগত লড়াইয়ে তারা আপাতত একধাপ এগিয়ে।
পুলিশের তরফে কালীঘাট তৃণমূলকে বিকল্প হিসেবে ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে (Brigade Parade Ground) সভা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সূত্রের খবর, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির সেই প্রস্তাবে রাজি হয়নি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে:
মাঠ ভরানোর আশঙ্কা: দল ভাঙনের পর এই মুহূর্তে ব্রিগেডের মতো বিশাল মাঠ কর্মী-সমর্থক দিয়ে ভরানো সম্ভব কি না, তা নিয়ে গভীর সংশয় রয়েছে কালীঘাট শিবিরে।
ফিকে হওয়ার ভয়: ফাঁকা ব্রিগেডের ছবি সংবাদমাধ্যমে এলে তা দলের ভাবমূর্তির পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
যদিও এই প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও পিছু হটতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন, জায়গা না মিললে প্রয়োজনে রিকশায় চেপেই একুশে জুলাইয়ের সভা করবেন তিনি।
বুধবার সকালে নিউটাউনের ইকো পার্কে প্রাতঃভ্রমণ সেরে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে ‘মুড়ি পার্টি’তে যোগ দেন দিলীপ ঘোষ। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কালীঘাট তৃণমূলের ব্রিগেড ভীতি নিয়ে খোঁচা দেন তিনি।
দিলীপ ঘোষ বলেন, “দম থাকলে ব্রিগেডে যান। মাঠ ভরবে কি না, তা নিয়ে এত চিন্তা কেন? যদি সত্যিই কর্মী থাকে, তবে ব্রিগেড ভরিয়ে দেখান। আর তা না পারলে বাড়িতে শহিদদের ছবিতে মালা দিন। বাড়িতে বসে সম্মান জানালে কি সম্মান জানানো হয় না?”



