রাশিফল ও ভবিষ্যৎ

রথযাত্রায় পুরী যাচ্ছেন? লাখ লাখ মানুষের ভিড়ে ভোগান্তি এড়াতে ১৬ জুলাইয়ের আগেই জেনে নিন জগন্নাথধামের এই ৫টি জরুরি নিয়ম!

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রথযাত্রায় পুরী যাচ্ছেন? লাখ লাখ মানুষের ভিড়ে ভোগান্তি এড়াতে ১৬ জুলাইয়ের আগেই জেনে নিন জগন্নাথধামের এই ৫টি জরুরি নিয়ম! - West Bengal News 24

বর্ষার মেঘে ঢাকা ওড়িশার সৈকত শহর পুরী এখন রথযাত্রার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। উৎসব শুরু হতে আর মাত্র কয়েকটি দিন বাকি। আগামী ১৬ জুলাই থেকে শুরু হবে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা (Rath Yatra 2026)। নয় দিনব্যাপী এই উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে ২৪ জুলাই ‘বহুদা যাত্রা’ বা উলটোরথের মাধ্যমে। পুরীর গ্র্যান্ড রোডে রথের রশি স্পর্শ করতে কিংবা এই বিপুল জনসমাগম প্রত্যক্ষ করতে চাইলে এখন থেকেই ভ্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করে ফেলুন। যাত্রা শুরুর আগে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন।

১) শ্রীক্ষেত্রের রথযাত্রার প্রধান আকর্ষণ জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার তিনটি বিশাল কাঠের রথ। নির্দিষ্ট ধর্মীয় রীতি ও আচার মেনে প্রতি বছর এগুলি নির্মাণ করা হয়। শাস্ত্র অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে রথযাত্রা শুরু হয়। যাত্রাপথে সবার আগে থাকে বলভদ্রের রথ, তার পরে সুভদ্রার রথ এবং সব শেষে ‘নন্দীঘোষ’ রথে চড়ে মাসির বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন জগন্নাথদেব। মূল মন্দিরে অহিন্দুদের প্রবেশাধিকার না থাকলেও রথযাত্রার সময় জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে সমস্ত ভক্ত দেবদর্শনের সুযোগ পান। তাই এটি শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, ওড়িশার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যেরও এক বৃহৎ উৎসব।

আরও পড়ুন :: মেয়েদের রাশি অনুযায়ী জেনে নিন কোন মেয়ে বউ হিসেবে কেমন হবে

২) রথযাত্রা উপলক্ষে পুরীতে লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাগম হয়। ভক্ত ও পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ওড়িশা প্রশাসন এবং মন্দির কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। উৎসবের দিনগুলিতে বড় রাস্তা বা গ্র্যান্ড রোডের দিকে যান চলাচলে একাধিক বিধিনিষেধ থাকবে। গাড়ি রাখার জন্য নির্ধারিত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অসুবিধা এড়াতে ট্রাফিক পুলিশের নির্দেশ মেনে চলাই সবচেয়ে ভালো।

৩) মূল জগন্নাথ মন্দিরে অহিন্দুদের প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও রথের রশি টানার ক্ষেত্রে কোনও ধর্মীয় বাধা নেই। জুলাই মাসে পুরীর আবহাওয়া অত্যন্ত গরম ও আর্দ্র থাকে। তাই আরামদায়ক ও হালকা সুতির পোশাক পরা উচিত। সঙ্গে পর্যাপ্ত পানীয় জল রাখাও জরুরি। মন্দির সংলগ্ন কঠোর নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যে মোবাইল ফোন, ক্যামেরা, চামড়ার বেল্ট বা পার্স নিয়ে প্রবেশ করা যায় না। সেই কারণে এই জিনিসগুলি হোটেলে রেখে বেরোনো সুবিধাজনক।

আরও পড়ুন :: বাড়িতে বাথরুমের দরজা কখনও বেশি ক্ষণ খুলে রাখতে নেই, কি বলছে জ্যোতিষ শাস্ত্র

৪) পুরী ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ জগন্নাথদেবের মহাপ্রসাদ। রথযাত্রার সময়েও ভক্ত ও পর্যটকেরা এর স্বাদ গ্রহণ করতে পারবেন। তবে শুধু ছাপ্পান্ন ভোগেই থেমে থাকলে চলবে না। ওড়িশার জনপ্রিয় ডালমা, বড়া, ঘুগনি, ছানাপোড়া এবং গরম খাজার স্বাদও নিতে পারেন। এই খাবারগুলি ছাড়া পুরী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা অনেকটাই অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

৫) রথযাত্রার সময় দেশ-বিদেশের বিপুল সংখ্যক পর্যটক পুরীতে আসেন। ফলে শেষ মুহূর্তে হোটেল বা অন্য কোনও থাকার জায়গা পাওয়া অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। তাই হোটেল, ধর্মশালা অথবা বিচ রিসোর্ট যেখানেই থাকতে চান, আগে থেকেই বুকিং করে রাখা ভালো। পুরী পৌঁছানোর জন্য ট্রেন তুলনামূলকভাবে আরামদায়ক মাধ্যম। বিমানে গেলে ভুবনেশ্বরের বিজু পট্টনায়ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামতে হবে। সেখান থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পথ বাস বা ট্যাক্সিতে পুরী পৌঁছানো যায়।

আগাম পরিকল্পনা করে সমস্ত নিয়ম মেনে চললে পুরীর রথযাত্রার আধ্যাত্মিক ও সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা স্মৃতিতে দীর্ঘদিন অমলিন থাকবে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button