গোটা বাংলার মিড ডে মিলের দায়িত্ব পাচ্ছে ইসকন, সিদ্ধান্তের কারণ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিল সরবরাহের দায়িত্ব ইসকনের হাতে তুলে দেওয়ার পর থেকেই মেনু নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। এবার সেই উদ্যোগ শুধু কলকাতাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। নদিয়ার পর ধাপে ধাপে গোটা রাজ্যে ইসকনের মাধ্যমে মিড ডে মিল চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নানা মহলে প্রশ্ন উঠলেও কেন এই দায়িত্ব ইসকনকেই দেওয়া হল, তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোরও তীব্র হয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতার অ্যালবার্ট রোডের ইসকন মন্দিরে রথযাত্রার অনুষ্ঠানে সেই সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, “আমরা ইসকন, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, ভারত সেবাশ্রম সংঘ এবং মানুষের সেবায় নিয়োজিত অন্যান্য সংগঠনকে সঙ্গে নিয়েই বাংলার নবনির্মাণের পথে এগোতে চাই। সমাজের উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি এই প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, “একটা ভাল, পুষ্টিকর আহার পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। আমাদের স্কুলগুলিতে যে ছাত্রছাত্রীরা মিড ডে মিল গ্রহণ করে, তারা মূলত মধ্যবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সন্তান। সচ্ছল পরিবারের শিশুদের অধিকাংশই এই প্রকল্পের উপর নির্ভর করে না। তাই অপুষ্টি দূর করতে পুষ্টিকর খাবারের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে।”
আরও পড়ুন :: বড় ধাক্কা ঘাসফুলে! রাজ্যসভায় তৃণমূলের ৪ নম্বর উইকেট পতন, বিজেপি-র পথে টলিউড কুইন কোয়েল?
আগের তৃণমূল সরকারের আমলে মিড ডে মিল প্রকল্পে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। সেই প্রসঙ্গ তুলে শুভেন্দু বলেন, “গত কয়েক বছরে পশ্চিমবঙ্গে মিড ডে মিল নিয়ে যে ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। শিশুদের খাবার নিয়ে অনিয়ম করা পাপের সমান। আগামী দিনে ইসকন এই দায়িত্ব পালন করে আমাদের শিশুদের কাছে উন্নতমানের পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেবে। সেটাই আমাদের কর্তব্য।”
প্রসঙ্গত, গত ২২ জুন বিধানসভায় বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বাজেট পেশের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, ”শ্যামাপ্রসাদের দেখানো পথেই বাংলা চলবে। স্বামী বিবেকানন্দের ভাবনায় বাংলা চলবে। রামকৃষ্ণ মিশন, গৌড়ীয় মঠ, ভারত সেবাশ্রম, ইসকনের দেখানো পথে পশ্চিমবঙ্গ চলবে। এই সংস্কৃতির থেকে বিচ্যুতি ঘটবে না। আমরা ইসকনকেই মিড ডে মিল খাবার সরবরাহ করার জন্য উদ্যোগ নিচ্ছি। পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে পুরো কলকাতাকেই দেওয়া হচ্ছে। ইসকন খাওয়াবে। আপত্তি থাকলে হরে কৃষ্ণ বলবেন না। কেউ আপনাদের জোর করবে না। ভালো খাবার পাবেন। শুদ্ধ খাবার পাবেন। চিন্তার কোনও কারণ নেই।”
সরকারের এই পদক্ষেপ ঘিরে এরপরই বিতর্ক আরও জোরালো হয়। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলাও দায়ের করা হয়েছে।



