রাজ্য

পশ্চিমবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি: খানাকুল-উদয়নারায়ণপুরে বিপদসীমার উপর জল, কী বললেন শুভেন্দু

ওয়েবডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি: খানাকুল-উদয়নারায়ণপুরে বিপদসীমার উপর জল, কী বললেন শুভেন্দু - West Bengal News 24
দক্ষিণবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

দক্ষিণবঙ্গের একাধিক এলাকায় ভারী বৃষ্টিতে জলস্তর বাড়ার মধ্যে বন্যা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর জলসম্পদ ভবনে আয়োজিত জরুরি বৈঠকে খানাকুল, জাঙ্গিপাড়া ও উদয়নারায়ণপুরের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ওই এলাকাগুলিতে নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইলেও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত এবং ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ কমিয়েছে।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনের ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিতে নিম্ন দামোদর উপত্যকার বিভিন্ন এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। হাওড়া ও হুগলির একাধিক এলাকাতেও জল ঢোকার খবর রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সংশ্লিষ্ট দফতরের আধিকারিক এবং জেলাশাসকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, খানাকুল, জাঙ্গিপাড়া এবং উদয়নারায়ণপুরে নদীর জল বিপদসীমার উপরে রয়েছে। জলবন্দি বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। একই সঙ্গে গবাদি পশুদেরও নিরাপদ স্থানে সরানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বৃষ্টি কমলে এবং ডিভিসির জল ছাড়ার পরিমাণ কম থাকলে বিকেলের পর সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে জলস্তর কিছুটা নামতে পারে। তবে নতুন করে ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে—এই বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে রয়েছে।

বন্যা পরিস্থিতির মধ্যেই দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন বা ডিভিসির ভূমিকার প্রশংসা করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, অতিরিক্ত বৃষ্টির চাপ থাকা সত্ত্বেও এখনও কোনও বাঁধ ভাঙেনি এবং ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ কমিয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, জলাধারের ধারণক্ষমতারও একটি সীমা রয়েছে। অতিরিক্ত জল জমলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে জল ছাড়ার প্রয়োজন হয়। তাঁর বক্তব্য, এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে শুধু দোষারোপ না করে বাস্তব পরিস্থিতির মোকাবিলা করাই গুরুত্বপূর্ণ।

ডিভিসির চেয়ারম্যান হিসেবে বেঙ্গল ক্যাডারের আইএএস রাজেশ পাণ্ডের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যের এই অংশটিও উঠে এসেছে।

দুর্গত এলাকাগুলিতে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে এসডিআরএফ, এনডিআরএফ এবং সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা মোতায়েন রয়েছেন। পুলিশকর্মীরাও উদ্ধার এবং ত্রাণ বণ্টনের কাজে যুক্ত রয়েছেন।

বন্যাকবলিত মানুষের জন্য খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দ্রুত উদ্ধারকাজের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গবাদি পশু সরানোর বিষয়টিকেও প্রশাসনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জলমগ্ন এলাকায় বাড়িঘর ও স্কুলে সাপ ঢোকার খবরও সামনে এসেছে। ঘাটালের একটি জলমগ্ন স্কুলের শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চের উপর বড় সাপ দেখা যাওয়ার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

এই পরিস্থিতিতে সর্পদংশনের চিকিৎসা নিয়ে সতর্ক রয়েছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় অ্যান্টিভেনাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বন্যার জলে আটকে পড়া মানুষের পাশাপাশি জল নামার পরবর্তী সময়েও সাপের উপদ্রবের বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে ডিভিসির জল ছাড়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, জল ছাড়ার পরিমাণ কমানো হয়েছে এবং অতিরিক্ত জলাধার-জলের পরিস্থিতি মোকাবিলায় ড্যামের নিজস্ব ধারণক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

একই সঙ্গে তিনি আগের সরকারের আমলে ডিভিসির জল ছাড়া নিয়ে যে রাজনৈতিক চাপানউতোর হতো, তার প্রসঙ্গও তোলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁর বক্তব্যের মূল জোর ছিল বন্যা মোকাবিলা এবং মাঠপর্যায়ে প্রশাসনের কাজের উপর।

এই মুহূর্তে প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য জলবন্দি মানুষ ও গবাদি পশুদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া, ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং নদী ও বাঁধের পরিস্থিতির উপর নজর রাখা। বৃষ্টি ও জল ছাড়ার মাত্রার উপর পরবর্তী পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং নতুন করে বড় বৃষ্টি না হলে জলস্তর কমার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বন্যাপ্রবণ এলাকাগুলিতে নজরদারি ও উদ্ধার-ত্রাণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।



FAQ

পশ্চিমবঙ্গে কোথায় বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে?

নিম্ন দামোদর উপত্যকার একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়েছে। খানাকুল, জাঙ্গিপাড়া ও উদয়নারায়ণপুরে নদীর জল বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন।

ডিভিসি কি জল ছাড়ার পরিমাণ কমিয়েছে?

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ কমিয়েছে।

কোনও বাঁধ ভেঙেছে কি?

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জলের চাপ থাকা সত্ত্বেও এখনও কোনও বাঁধ ভাঙেনি। এটি তাঁর প্রশাসনের দেওয়া তথ্য হিসেবে উল্লেখ করা উচিত।

বন্যাকবলিত মানুষদের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরানো, গবাদি পশু সরিয়ে নেওয়া, খাবার ও পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া এবং উদ্ধারকাজ চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বন্যার এলাকায় সাপের কামড়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে?

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় অ্যান্টিভেনাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button