আইন-আদালতরাজ্য

প্রতিবন্ধী ভাতা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, ১৫টির মধ্যে ১৩ শংসাপত্র ‘ভুয়ো’! দ্রুত তদন্তের নির্দেশ হাই কোর্টের

ওয়েবডেস্ক

প্রতিবন্ধী ভাতা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ, ১৫টির মধ্যে ১৩ শংসাপত্র ‘ভুয়ো’! দ্রুত তদন্তের নির্দেশ হাই কোর্টের - West Bengal News 24
সামশেরগঞ্জের প্রতিবন্ধী ভাতা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগের মামলায় দ্রুত তদন্ত শেষ করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট

মুর্শিদাবাদের সামশেরগঞ্জে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রকল্পে অনিয়ম ও স্বজনপোষণের অভিযোগে দায়ের হওয়া জনস্বার্থ মামলায় কলকাতা হাই কোর্ট পুলিশকে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছে। আদালতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, সামশেরগঞ্জ থানায় ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের হয়েছে এবং তদন্তে ১৫টি শংসাপত্রের মধ্যে ১৩টিকে প্রাথমিকভাবে ভুয়ো বলে পাওয়া গিয়েছে।

তবে আদালতে ওঠা অভিযোগ এবং পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের তথ্যকে এখনও চূড়ান্ত প্রমাণিত দুর্নীতি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মামলাটি তদন্তাধীন এবং অভিযোগগুলির সত্যতা নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে।

কী অভিযোগ উঠেছে?

সামশেরগঞ্জের বাসিন্দা সুরজ শেখ কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের সময়ে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রকল্পে অনিয়ম হয়েছে এবং প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের পরিবর্তে অযোগ্য ব্যক্তিদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।

মামলায় সামশেরগঞ্জের তৃণমূলের পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য আশিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগও তোলা হয়েছে। আবেদনকারীর দাবি, যোগ্য প্রতিবন্ধীদের বঞ্চিত করে তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম ভাতা পাওয়ার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

এই অভিযোগগুলিই আদালতের সামনে এনে তদন্তের দাবি জানান মামলাকারী।

আদালতে কী জানাল রাজ্য?

মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। সামশেরগঞ্জ থানায় গত ৫ জুলাই মামলা রুজু করা হয়েছে বলে আদালতকে জানানো হয়।

রাজ্যের বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্তের অংশ হিসেবে কয়েকজন অভিযুক্তকে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫(৩) ধারায় নোটিস দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাক্ষীদের বক্তব্যও নেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ, মামলাটি শুধুমাত্র আদালতে ওঠা অভিযোগের পর্যায়ে আটকে নেই; স্থানীয় পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

১৫টি শংসাপত্রের মধ্যে ১৩টি নিয়ে প্রশ্ন

মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে সামশেরগঞ্জ থানার আইসি-র রিপোর্টে।

আদালতে পেশ করা ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, তদন্তের সময় পরীক্ষা করা ১৫টি শংসাপত্রের মধ্যে ১৩টিকে প্রাথমিকভাবে ভুয়ো বলে পাওয়া গিয়েছে। এই তথ্যের পরই তদন্ত দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আদালত জোর দেয়।

তবে ‘ভুয়ো’ বলে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত হওয়ার অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক ব্যক্তি বা মামলার সব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়ে গিয়েছে। তদন্তের পরই চূড়ান্ত অবস্থান স্পষ্ট হবে।

হাই কোর্ট কী বলেছে?

ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি অতরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়।

শুনানিতে আদালত জানায়, নথি ও বক্তব্য পর্যালোচনা করে আবেদনকারীর তোলা অভিযোগগুলি এই পর্যায়ে সরাসরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যেহেতু পুলিশ ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে, তাই সেই তদন্তের অগ্রগতি দেখতেই আদালত আগ্রহী।

সেই কারণেই পুলিশকে দ্রুত তদন্ত শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবন্ধী ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে কী কী শর্ত?

মামলার প্রেক্ষাপটে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রকল্পের যোগ্যতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মামলায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট যোগ্যতা রয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে চিকিৎসকের দেওয়া অন্তত ৪০ শতাংশ বা তার বেশি শারীরিক অক্ষমতার শংসাপত্র, পশ্চিমবঙ্গে অন্তত ১০ বছর বসবাসের শর্ত এবং পরিবারের বার্ষিক আয় ১ লক্ষ টাকার বেশি না হওয়া

এছাড়াও নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অন্য সরকারি সুবিধা গ্রহণকারীদের এই সুবিধা না পাওয়ার শর্ত রয়েছে বলে মামলার উপস্থাপনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এই যোগ্যতার শর্তগুলিই ঠিকমতো মানা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

মামলাকারীর আইনজীবীর বক্তব্য কী?

মামলাকারীর আইনজীবী ওমর ফারুক গাজী অভিযোগ করেন, প্রকৃত যোগ্য প্রতিবন্ধীদের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ এমন ব্যক্তিদের মধ্যে দেওয়া হয়েছে, যাঁরা ওই ভাতা পাওয়ার আইনগত যোগ্য নন।

তাঁর আরও অভিযোগ, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য নিজের পদ ব্যবহার করে অযোগ্য ব্যক্তিদের ভাতা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন এবং পরিবারের সদস্যদের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। মামলায় সিবিআই তদন্তের আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

এগুলি অবশ্য মামলাকারী পক্ষের অভিযোগ; তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই হবে।

এখন কী হবে?

এই মুহূর্তে পুলিশের তদন্তই মামলার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আদালত সরাসরি অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে গ্রহণ না করে ইতিমধ্যে শুরু হওয়া তদন্তের ফলাফল দেখতে চেয়েছে।

১৫টি শংসাপত্রের মধ্যে ১৩টি প্রাথমিকভাবে ভুয়ো বলে যে তথ্য পুলিশের রিপোর্টে এসেছে, সেই বিষয়টিও তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে আরও যাচাই হওয়ার কথা।

তদন্ত শেষ হওয়ার পরই অভিযোগের পরিধি, দায়ী ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং সরকারি অর্থের কোনও অনিয়ম হয়েছে কি না—সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ছবি পাওয়া যেতে পারে।




FAQ

সামশেরগঞ্জের প্রতিবন্ধী ভাতা মামলায় কী অভিযোগ উঠেছে?

সামশেরগঞ্জে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রকল্পে অনিয়ম, অযোগ্য ব্যক্তিদের সুবিধা পাইয়ে দেওয়া এবং স্বজনপোষণের অভিযোগ উঠেছে। মামলাকারী সুরজ শেখ এই অভিযোগে কলকাতা হাই কোর্টে জনস্বার্থ মামলা করেন।

১৫টি শংসাপত্রের মধ্যে কতগুলি ভুয়ো বলে প্রাথমিকভাবে পাওয়া গিয়েছে?

আদালতে পেশ করা সামশেরগঞ্জ থানার আইসি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৫টি শংসাপত্রের মধ্যে ১৩টি প্রাথমিকভাবে ভুয়ো বলে পাওয়া গিয়েছে।

পুলিশ কবে মামলা দায়ের করেছে?

রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়েছে, সামশেরগঞ্জ থানার পুলিশ ৫ জুলাই মামলা রুজু করেছে।

হাই কোর্ট কী নির্দেশ দিয়েছে?

কলকাতা হাই কোর্ট পুলিশকে দ্রুত তদন্ত শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতি দেখতে চেয়েছে।

আশিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযোগ কি প্রমাণিত?

না। তাঁর বিরুদ্ধে মামলাকারী পক্ষ অভিযোগ তুলেছে। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন; আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত এই পর্যায়ে হয়নি।

আরও পড়ুন ::

Back to top button