‘নিতম্ব’ বাড়িয়ে বিপাকে সংবাদ উপস্থাপিকা

সোফি এলিস। একজন নরওয়েজিয়ান ব্লগার ও টিভি উপস্থাপিকা। ২০ বছর বয়সী এই সেলিব্রেটি সিদ্ধান্ত নিলেন নিজের নিতম্বের আকার বড় করবেন। শরীরের গঠন নিয়ে উদ্বিগ্ন রেশ থেকেই এমন সিদ্ধান্ত তার। এছাড়া নিজেকে চিকন আর খাটোও লাগারও প্রেরণা থেকে এ সিদ্ধান্ত।
শরীরের ওই (নিতম্ব) অংশটায় পরিবর্তন এনে একটু উঁচু করতে চেয়েছিলেন নিজেকে। নিজের ইচ্ছে মোতাবেক নিতম্বের আকার পরিবর্তনও করেছিলেন তিনি। কিন্ত পাঁচ বছরে মাথায় এখন তা থেকে মুক্তি চান সোফি। শরীরের যে অংশটিতে তিনি বাড়িয়ে নিয়েছিলেন এখন সেটিকেই নিজের কাছে অতিরিক্ত মনে হয় তার।
ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি সোফি এলিসের নিতম্ব বাড়ানোর সেই গল্প তুলে ধরেছেন।
দুটি টিভি শো ও ব্রডকাস্ট উপস্থাপন করে অত্যন্ত পরিচিত মুখ হয়ে ওঠা তরুণী সোফির বর্তমান ইন্সটাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যা প্রায় পাঁচ লাখ।
যেভাবে নিতম্ব বড় করেছিলেন সোফি
নিতম্ব বড় করতে সোফির সার্জারি বিষয়ে প্রথমেই তথ্য সংগ্রহ করতে থাকেন। ইন্সটাগ্রামে এমন অনেক প্রমোশনাল থেকে এ সম্পর্কিত তথ্যও নিয়েছিলেন তিনি। যেখানে সার্জারি কোথায় করবে, সার্জন কে হতে পারেন এবং এর প্রক্রিয়া সব কিছুই ছিল।
নিতম্ব বাড়ানো নিয়ে তুরস্কে একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। কিন্তু মূল্য সম্পর্কে কিছু জানাননি তারা। তবে দর কষাকষির সুযোগ ছিল বলে জানান সোফি।
রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সোফি বলেন, ‘সত্যি বলতে ধারণার চেয়েও সস্তা ছিল। এর আরও মূল্য হওয়া উচিত ছিল।’
তিনি বলেন, ‘তারা একটি বিলাসী স্বপ্ন দেখিয়েছিল আমাকে। প্যাকেজে সার্জারি পরবর্তী পরিচর্যা, একজন প্রাইভেট ড্রাইভার, বাসায় মেডিকেল সহকারী ও এবং যে হাসপাতালে করা হবে সেটি খুবই পরিচ্ছন্ন। আমার কাছেই এটাকেই সবচেয়ে ভালো মনে হয়েছিল সেসময়।’
কিন্তু নিতম্ব ইমপ্ল্যান্ট বা সার্জারি করে নিতম্বের আকার বড় করার পাঁচ বছর পর এসে সোফি এখন তা থেকে মুক্তি চান। বাড়তি অংশ সরিয়ে ফেলে আগের অবস্থায় ফিরতে চান।
নিতম্ব বড় করার পর সমস্যার শুরু
সমস্যাটা শুরু হলো যখন তিনি নিতম্ব বাড়িয়ে দেশে ফিরেছিলেন। দেশে ফেরার পর নানা ধরনের মন্তব্য পেতে থাকেন তিনি। মানুষের ধারণা এটা খুবই অস্বাভাবিক ও শরীরের অন্য অংশের সঙ্গে এটি মোটেও ম্যাচ করেনি সোফির।
সোফি বলেন, ‘এখন মনে হচ্ছে আমার যা থাকার কথা সত্যিকার অর্থে তা নেই। সবকিছু খুব দ্রুততার সঙ্গে হয়েছে। আমি বলতে পারি যে খুব চিন্তা ভাবনা করে এটি আমি করতে পারিনি।’
কারণ নিতম্ব বাড়ানোর জন্য সোফি সিলিকন ইমপ্ল্যান্ট বেছে নিয়েছিলেন অর্থাৎ শরীরের অন্য অংশ থেকে ফ্যাট (অতিরিক্ত মাংস) নিয়ে নিতম্বে স্থাপন করা হয়েছিল।
সোফি বলেন, ‘আগে খুব একটা চিন্তিত ছিলাম না। এমনকি কসমেটিক সার্জারির জন্য বিদেশে যাওয়ার আগে সতর্কতা সত্ত্বেও এমন কিছু মনে হয়নি। সার্জারির পর খুব ব্যথা হতো। এমন হবে ধারণায় ছিল না কিন্তু এখন সত্যিই সমালোচনার মুখে পড়ছি বিষয়টি নিয়ে।
তিনি বলেন, ‘আমি দুঃখিত নই তবে আমি যেটা করেছিলাম সেটি আমার সঙ্গে মানায়নি।’
নিতম্ব সরিয়ে ফেলার বিষয়ে ইতিমধ্যে ওয়েবসাইট ঘেঁটে একজন ভালো সার্জনেরও খোঁজ পেয়েছেন সোফি। কিন্তু এখানেও একটি জটিলতা আছে। কারণ তিনি সব সিলিকন পুরোপুরি সরিয়ে ফেলতে পারবেন না। বরং কিছু ছোট সিলিকন প্রতিস্থাপন করতে হবে তার শরীরে।
তিনি আগে যে সিলিকন ব্যবহার করেছেন নিতম্বের আকার বাড়াতে, সেটি আসলে ব্যবহার হয় স্তনের আকার বাড়াতে।
সোফি বলেন, ‘এটা নিয়ে খোলামেলা কথা বলাটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যাতে করে আর কেউ একই ফাঁদে না পড়ে, যেমন আমি পড়েছি। আমি চাই না কেউ এটি করুন। আর আমি যদি এক বা দুজন বোনকে সহায়তা করতে পারি সেটিই বড় কিছু। আমার পরামর্শ হবে ভালো করে জানুন। তাড়াহুড়া করে কিছুই করবেন না। কোনো কিছু সস্তা হলেও হয়ত সেটি যথেষ্ট ভালো নাও হতে পারে।’
ব্রিটিশ প্লাস্টিক সার্জনদের একটি অ্যাসোসিয়েশন বলছে, রোগীর শরীরে মারাত্মক জটিলতা দেখা দিতে পারে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
ব্রিটিশ প্লাস্টিক সার্জনদের একটি অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট সাইমন হুইদে বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সস্তায় কসমেটিক সার্জারির জন্য প্রলুব্ধ হচ্ছেন এবং এর প্রবণতা বাড়ছে। ফলে বিদেশে গিয়ে এ ধরনের সার্জারি করিয়ে অনেকে বিপদে পড়ছেন। কারণ নিতম্বের জন্য শুধু শারীরিক নয় মানসিক বিষয়টাও জড়িত। চিকিৎসকরা এই “কসমেটিক সার্জারি ট্যুরিজম” সম্পর্কে সবাইকে সচেতনও করছেন।’
sophie elise instagram
View this post on Instagram
the best time of year: when your deformed cheap ass goes viral thanks to Daily Mail ❤️😂



