‘আমফানের সময় প্রচুর গাছ ভেঙেছে, সেগুলি কোথায় গেল?’ ৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব মুখ্যমন্ত্রীর

সেচ দফতরের কাজ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ‘প্রতিবছরই সেচ দফতর বাঁধ সারাচ্ছে, প্রতিবছরই ভেঙে যাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে জলে যাচ্ছে।’ এই নিয়ে ৩ দিনের মধ্যে রিপোর্ট তলব করেছেন তিনি। একই সঙ্গে আমফানের সময় উপড়ে যাওয়া গাছগুলি কোথায় গেল, তারও রিপোর্ট দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
আরও কড়া হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নবান্নে আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে মমতা বলেন, ‘টাকা ঠিকমতো ব্যবহার করা উচিত। সেটা ঠিক মতো হয়নি। আমাদের টাকা অপচয় করা হচ্ছে। প্রত্যেক বছর বাঁধ সারালেও কেন তা ভেঙে যাচ্ছে? লাখ লাখ টাকা জলে যাচ্ছে।’
মমতার মতে, বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে ব্যবস্থা করতে হবে। অন্তত ১০ বছরের জন্য ঠিকাদারদের দায়িত্ব দিতে হবে।’ মুখ্যমন্ত্রী এদিন মনে করিয়ে দেন, ‘১১ জুন ও ২৬ জুন ভরা কটাল রয়েছে। তার আগে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ করতে হবে।’
গত ১০ বছর ধরে দিঘাকে সাজিয়ে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই দিঘাই তছনছ হয়ে গিয়েছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসে। এজন্য গাফলতিকেই দায়ি করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দিঘায় লক্ষ লক্ষ মানুষের উপার্জন হয়। কংক্রিটের পাথওয়ে কেন ভেঙে গেল? সমুদ্রের বোল্ডার নষ্ট হয়ে গিয়েছে। হকারদের দোকানগুলি আবার তৈরি করতে হবে। বর্ষার আগে চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে চাই। দিঘার সৌন্দর্যায়ন নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
বন দফতরের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ উগরে দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট কী করেছে? ৫ কোটির ম্যানগ্রোভ পুঁতবে বলেছিল। কিন্তু তা হয়নি। আগামী দিনে ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় ১৫ কোটি ম্যানগ্রোভ লাগানোর কথা বলেন মমতা। এর মধ্যে ৫ কোটি লাগান হবে সুন্দরবনে, ৫ কোটি উত্তর ২৪ পরগনায় এবং বাকি ৫ কোটি পূর্ব মেদিনীপুরে।
প্রসঙ্গত, আমফানের সময় সেচমন্ত্রী ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিজেপিতে যোগদানের আগে গতবছর নভেম্বরে সেচমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি। শুধু তাই নয়, দিঘা-মন্দারমনি, এই এলাকাগুলি তিনিই দেখতেন। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মুখ্যমন্ত্রীর নিশানায় যে শুভেন্দু, তা প্রশাসনিক বৈঠকেই স্পষ্ট।
সুত্র : কলকাতা ২৪*৭



