৭ বছর পর সারদা মামলায় জামিন দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের, নির্দেশ কলকাতা হাইকোর্টের

সারদা মামলায় শর্ত সাপেক্ষে কলকাতা হাইকোর্টে জামিন পেলেন দেবযানী মুখোপাধ্যায়। এদিন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি রাজেশ বিন্দালের বেঞ্চ দেবযানীর জামিন মঞ্জুর করেছে। তবে এখনই সুদীপ্ত সেন ঘনিষ্ঠ দেবযানীর জামিন হবে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এদিন কলকাতা হাইকোর্ট দেবযানীকে শুধু রাজ্যের মামলাগুলিতেই জামিন দিয়েছে।
অসম, ভুবনেশ্বরের মামলার সঙ্গে এই রায়ের কোনও সম্পর্ক নেই। আইনজ্ঞদের মতে, সিবিআই যদি মনে করে ভিন রাজ্যের মামলাগুলির তদন্তের জন্য দেবযানীকে জেলবন্দি রাখবে তাহলে তা করতেই পারে। সেক্ষেত্রে দেবযানীকে আবার গুয়াহাটি এবং ভুবনেশ্বর হাইকোর্টে নতুন করে জামিনের আবেদন করতে হবে।
গত ১৫ জুন সারদা কাণ্ডে জেলবন্দি দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের জামিনের আবেদন পিছিয়ে দেওয়ার জন্য হাইকোর্টে আবেদন জানায় কেন্দ্রীয় তদন্ত এজেন্সি সিবিআই। কিন্তু তদন্ত সংস্থার আর্জিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল হাইকোর্ট। সিবিআই আবেদন জানায়, এই শুনানি যেন পিছিয়ে দেওয়া হয়।
বিরক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আপনাদের সব সময় শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার মনোভাব দেখা যায় কেন? একটা মামলা নয়। পরপর বেশ কয়েকটা ক্ষেত্রেই আপনাদের এই প্রবণতা লক্ষ্য করছি।’ দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, ২০১৩ সালে দেবযানীকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই।
আট বছর কেটে গেলেও এখনও ট্রায়াল শুরু হয়নি। তা ছাড়া দেবযানীর আইনজীবীদের আরও যুক্তি ছিল, এই মামলায় এর আগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত জামিন পেয়েছেন। তাহলে দেবযানী কেন জামিন পাবেন না? প্রসঙ্গত দেবযানী ছিলেন সারদার সদর দফতর মিডল্যান্ড পার্কের রিসেপসনিস্ট। তারপর সারদা মালিক সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার কারণে প্রতিষ্ঠানে উল্কাগতি উত্থান হয়।
সোজাসুজি কোম্পানির ডিরেক্টর হয়ে যান দেবযানী। সারদা তদন্তে এর আগেই জানা গিয়েছিল, দেবযানী টাকা পয়সা লেনদেনের বিষয় দেখতেন। তা ছাড়া তিনিও কোম্পানির থেকে হিসেব বহির্ভূত টাকা পয়সা নিয়েছিলেন। তাঁর জীবনযাপনও ছিল আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন। তবে এদিন বাংলার মামলাগুলিতে জামিন পেলেন দেবযানী।
সূত্র : দ্য ওয়াল



