খিদিরপুরে সুড়ঙ্গ খননে নেমে পড়ল দেশের বৃহত্তম টানেল বোরিং মেশিন, ‘দুর্গা’র হাত ধরে শুরু নির্মাণ
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

দীর্ঘ টালবাহানার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে শুরু হল খিদিরপুরে কলকাতা মেট্রোর টানেল তৈরির কাজ। রাজ্য সরকারের জমি সংক্রান্ত সমস্যার নিষ্পত্তির পাশাপাশি ভারতীয় সেনাবাহিনীর তরফেও মিলেছে ছাড়পত্র। বৃহস্পতিবার থেকে ভূপৃষ্ঠের ১৭ মিটার নিচে সুড়ঙ্গ নির্মাণে কাজে লাগানো হল দেশের বৃহত্তম টানেল বোরিং মেশিন।
‘রেল বিকাশ নিগম লিমিটেড’-এর উদ্যোগে এই প্রকল্পের সূচনা হল কলকাতা মেট্রো রেল কর্পোরেশনের জেনারেল ম্যানেজার পি উদয়কুমার রেড্ডির উপস্থিতিতে।
জমি সংক্রান্ত জটের জেরে এই প্রকল্প দীর্ঘদিন আটকে ছিল। অবশেষে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী জোকা-এসপ্ল্যানেড (পার্পল লাইন) মেট্রো রুটে কাজ শুরু করা গেল। দুইটি টানেল বোরিং মেশিন এই প্রকল্পে যুক্ত হয়েছে — ‘দুর্গা’ এবং ‘দিব্যা’।
‘দুর্গা’ টানেল করবে আপ লাইনে, অর্থাৎ পার্ক স্ট্রিটগামী পথে, এবং ‘দিব্যা’ নিযুক্ত হবে ডাউন লাইনে অর্থাৎ জোকা অভিমুখে। প্রতিটি মেশিনের দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ মিটার এবং ওজন ৬৫০ টনের কাছাকাছি। এই মেশিনগুলি তামিলনাড়ু থেকে প্রায় ৬৫৩ কিমি দূরত্ব অতিক্রম করে কলকাতায় আনা হয়েছে।
এই প্রকল্পে খিদিরপুর থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত সুড়ঙ্গ তৈরিতে ব্যবহার করা হবে টানেল বোরিং মেশিন। খিদিরপুর শ্যাফট এলাকা থেকেই শুরু হয়েছে এই কাজ। প্রথম ধাপে সেন্ট থমাস স্কুল চত্বর থেকে ভিক্টোরিয়া পর্যন্ত ১.৭ কিমি এবং পরে ভিক্টোরিয়া থেকে পার্ক স্ট্রিট পর্যন্ত ৯০০ মিটার অংশের টানেল খনন করবে এই মেশিন।
বর্তমানে জোকা থেকে মাঝেরহাট পর্যন্ত পার্পল লাইনে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালু রয়েছে। এই করিডরে আপাতত মোট চারটি ভূগর্ভস্থ স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে একটি অতিরিক্ত স্টেশনও সংযুক্ত হবে এই প্রকল্পে।



