এসআইআর-এর চাপে প্রাণ – রাঙ্গামাটিতে আইসিডিএস কর্মীর মর্মান্তিক আত্মহত্যা
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

মাল ব্লকের রাঙ্গামাটি গ্রাম পঞ্চায়েতে সংঘটিত হলো এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বুধবার ভোরে নিউ গ্ল্যান্ড কো চা বাগানের ১০১ নম্বর পাটে ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন শান্তিমনি এক্কা (৪৮)। তিনি ছিলেন আইসিডিএস কর্মী এবং বুথ লেভেল অফিসার (বিএলও)। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবরে এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর সংক্রান্ত অতিরিক্ত কাজের চাপ ও মানসিক যন্ত্রণা দীর্ঘদিন ধরে সহ্য করতে পারছিলেন না শান্তিমনি। বাড়ি ফিরে প্রতিদিন কান্নাকাটি করতেন তিনি। স্বামী ও সন্তানের দাবি অবসাদ ও দুশ্চিন্তায় ভেঙে পড়েই ভোরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন তিনি।
খবর পেয়ে মালবাজার থানার আইসি সৌম্যজিৎ মল্লিকের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেহ উদ্ধার করে মালবাজার সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, ঠিক এমন সময়েই দেশজুড়ে দ্বিতীয় দফায় ১২টি রাজ্যে শুরু হয়েছে এসআইআর (Special Intensive Revision)। ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে এনুমারেশন ফর্ম প্রক্রিয়া, ৯ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা। তার পর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে অভিযোগের ভিত্তিতে শুনানি, আর ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ পাবে চূড়ান্ত তালিকা।
২০০২ সালের পর এবারই বৃহৎ পরিসরে আবার শুরু হয়েছে এসআইআর। পুরনো তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে, তাঁদের আলাদা করে নথি জমা দিতে হবে না। তবে তালিকায় নাম মিল না থাকলে বাবা-মায়ের নামের ভিত্তিতে ‘ম্যাচিং’ প্রক্রিয়া করা যাবে অনলাইনে। যাদের বাবা-মায়ের নামও তালিকায় নেই, তাদেরকে জেলা প্রশাসনের কাছে নথি জমা দিতে হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফর্ম ৬, ৭ বা ৮ পূরণ করতে হবে।
বাংলা ছাড়াও মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, কেরল, গুজরাট, তামিলনাড়ু সহ মোট ১২টি রাজ্যে চলছে দ্বিতীয় দফার সংশোধন প্রক্রিয়া। যেখানে স্থানীয় সংস্থার নির্বাচন চলছে, সেখানে আপাতত পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে এই কাজ।
পুরনো ভোটার তালিকা (২০০২–২০০৪) মিলিয়ে বেআইনি বিদেশি অভিবাসী চিহ্নিত করা এই এসআইআর-এর অন্যতম উদ্দেশ্য। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার থেকে অনুপ্রবেশের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই প্রক্রিয়া আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
শান্তিমনি এক্কার মৃত্যু তাই আবারও বড় প্রশ্ন তোলে – এসআইআর-এর চাপ কি সরকারি কর্মীদের উপর অসহনীয় হয়ে উঠছে?



