
১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে বড়সড় পরিবর্তনের প্রস্তাব আনছে কেন্দ্র। শুধু প্রকল্পের শর্তই নয়, বদলানোর প্রস্তাব এসেছে নামও। মনরেগা বা MGNREGA (Mahatma Gandhi National Rural Employment Guarantee Act)-এর নাম বদলে বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ) বা VB-G RAM-G, সংক্ষেপে ‘জি রাম জি’ করার কথা বলা হয়েছে। মোদি সরকারের এই প্রস্তাবিত বিল ঘিরে শুরু থেকেই বিরোধী শিবির আপত্তি তুলেছে। এবার জানা যাচ্ছে, এই বিল নিয়ে এনডিএ জোটের অন্দরেও অসন্তোষ দানা বাঁধছে।
নয়া বিলে ১০০ দিনের কাজের সীমা বাড়িয়ে ১২৫ দিন করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তবে একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ৯০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬০ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। ফলে প্রকল্পের খরচের বড় অংশ বহন করতে হবে রাজ্যগুলিকে। আগে রাজ্যের চাহিদার ভিত্তিতে এই প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হলেও, নতুন প্রস্তাবে কোন রাজ্যে কত টাকা যাবে, তা ঠিক করবে কেন্দ্র। এতে সাধারণ শ্রমিকদের ১০০ দিনের কাজ পাওয়ার নিশ্চয়তা কার্যত অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। আগে যেখানে কাজের আইনি নিশ্চয়তা ছিল, সেখানে নতুন কাঠামোয় সেই নিশ্চয়তা আর স্পষ্ট থাকছে না।
সূত্রের খবর, এনডিএ-র দুই গুরুত্বপূর্ণ শরিক জেডিইউ এবং তেলুগু দেশম পার্টির আপত্তি রয়েছে এই বিলের বিভিন্ন শর্ত নিয়ে। তবে আপত্তির কেন্দ্রবিন্দু প্রকল্পের নাম নয়, বরং আর্থিক কাঠামো। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১২৫ দিনের কাজের ব্যয়ের ৪০ শতাংশই বহন করতে হবে রাজ্য সরকারকে। এই বিষয়েই আপত্তি তুলেছেন জোটসঙ্গীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেডিইউয়ের এক সাংসদ বলেছেন, “বিহার এমনিই আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া। আমরা অতিরিক্ত প্যাকেজ দাবি করছিলাম। তার বদলে বাড়তি চাপ পড়তে চলেছে।” একই সুরে টিডিপির এক সাংসদ জানিয়েছেন, “এমন নয় যে আমরা বিলটির প্রবল বিরোধী। কিন্তু রাজ্যের উপর বাড়তি বোঝার বিষয়টা মাথায় রাখতে হবে। আমাদের উপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।”
যদিও এনডিএর শরিক দলগুলি প্রকাশ্যে এই বিলের বিরোধিতায় নামেনি, তবু একাধিক শর্ত নিয়ে যে তাদের অসন্তোষ রয়েছে, তা গোপন থাকছে না। এই অবস্থায় প্রস্তাবিত বিল ঘিরে জোটের অন্দরে চাপ যে বাড়ছে, তা স্পষ্ট বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহল।



