
প্রচারের শেষ দিনে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে রাজনৈতিক উত্তাপ ছিল তুঙ্গে। নিয়ম অনুযায়ী মঙ্গলবারই ছিল শেষ প্রচারপর্ব। বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে শুভেন্দু অধিকারীর ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রোড শো ঘিরে সকাল থেকেই সরগরম হয়ে ওঠে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা। এরই মধ্যে বড় ধাক্কা খায় তৃণমূল। কেন্দ্রের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান কার্যত প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়াতেই রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড় আসে। সেই পরিস্থিতিতে তৃণমূল সমর্থকদের দিকে সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দিল কংগ্রেস।
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের (Falta Election) তৃণমূল প্রার্থী সরে দাঁড়ানোর পরই সরব হন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। একটি ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, “বিজেপির সঙ্গে একমাত্র কংগ্রেসই। কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুল রেজ্জাক মোল্লাকে সমর্থন করুন।” শুধু তাই নয়, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের কাছেও কংগ্রেসকে সমর্থনের আবেদন জানান তিনি।
আরও পড়ুন :: ৩২১ শহীদ বিজেপি পরিবারে সরকারি চাকরি! ফলতায় দাঁড়িয়ে ঐতিহাসিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
শুভঙ্করের বক্তব্য, “তৃণমূল সমর্থকদের বলব যাঁরা অনেক অত্যাচার সহ্য করেছেন। আপনাদের নেতৃত্বরা বারবার আপনাদের অন্যায়ের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। বাংলার উন্নয়নের স্বার্থে কংগ্রেসের প্রতিনিধিকে বিধানসভায় পাঠান। বিজেপি বিরোধী শক্তি হয়ে তৃণমূলের যত সমর্থক আছেন সকলে কংগ্রেসকে সমর্থন করুন।”
ফলতা এলাকার প্রভাবশালী নেতা হিসেবেই পরিচিত জাহাঙ্গির খান। বিধানসভা নির্বাচনের আগেই একাধিক কারণে শিরোনামে উঠে এসেছিলেন তিনি। ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের তরফে উত্তরপ্রদেশের অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসার ‘সিংহম’ অজয় পাল শর্মাকে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছিল এলাকায়। সেই সময় পুলিশ পর্যবেক্ষকের কড়া হুঁশিয়ারির পরেও জাহাঙ্গির বলেছিলেন, ‘পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি।’
তবে এরপর দ্রুত বদলাতে থাকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি। রাজ্যে বিজেপির উত্থানের আবহে চাপে পড়ে তৃণমূল শিবির। এর মধ্যেই জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও দায়ের হয়। যদিও তিনি কলকাতা হাই কোর্ট থেকে আইনি সুরক্ষা পেয়েছিলেন, তবুও ভোটের লড়াই জমার আগেই কার্যত পিছিয়ে যেতে দেখা গেল তৃণমূলের এই নেতাকে।



