স্মার্ট মিটার কি আদৌ বাধ্যতামূলক? বিধানসভায় শুভেন্দু অধিকারীর বড় ঘোষণা, বামেদের তীব্র আক্রমণ!
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

সাধারণ গ্রাহকদের ওপর জোর করে কি চাপিয়ে দেওয়া হবে স্মার্ট মিটার? গ্রাহকদের মনে তৈরি হওয়া এই বড় প্রশ্নের অবসান ঘটালেন শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় বাজেটের জবাবি ভাষণে স্মার্ট মিটার ও রাজ্য বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে একগুচ্ছ বড় ঘোষণা করেন তিনি। ডোমেস্টিক বা গৃহস্থ বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয় বলে স্পষ্ট করে দেওয়ার পাশাপাশি, প্রতিবাদী বাম দল ও ‘যাদবপুর পার্টি’কে নিশানা করে এক হাত নেন তিনি।
কৃষকদের জন্য বিশেষ বিদ্যুতের ভর্তুকি থেকে শুরু করে সীমানা সংলগ্ন জেলার উন্নয়ন—একনজরে দেখে নিন বিধানসভায় সরকারের বিদ্যুৎ সংক্রান্ত বড় সিদ্ধান্তগুলি।
গৃহস্থের জন্য বাধ্যবাধকতা নয়: কী জানালেন শুভেন্দু অধিকারী?
বিগত বেশ কিছুদিন ধরে রাজ্য জুড়ে স্মার্ট মিটার বসানো নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। এই বিষয়ে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে ভারত সরকার ডোমেস্টিক বা গৃহস্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্মার্ট মিটার বসানো বাধ্যতামূলক করছে না।
আরও পড়ুন :: আধার কার্ড কি বাসস্থানের প্রমাণ? বেআইনি দখলদার মামলায় বড় সিদ্ধান্ত কলকাতা হাই কোর্টের!
এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক হতে চলেছে। অর্থাৎ, গ্রাহক না চাইলে জোর করে এই মিটার চাপানো যাবে না। এর জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির ওপর জোর দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষের সুবিধাকে প্রাধান্য দিয়েই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়।
‘মিছিল বন্ধ, যাদবপুর পার্টি সাবধান!’—বামেদের ওপর চাঁচাছোলা আক্রমণ
স্মার্ট মিটার বন্ধের দাবিতে সম্প্রতি বাম ও এসইউসিআই (SUCI)-এর লাগাতার বিক্ষোভের জেরে উত্তাল হয়েছিল কলকাতা সহ একাধিক জেলা। সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী বামপন্থীদের তীব্র কটাক্ষ করেন।
“একটা কথা শুনলে বামপন্থীদের হাওয়া বেরিয়ে যাবে… মিছিল বন্ধ! মিছিল করার সুযোগ দেব না। এই সরকার পুরোপুরিভাবে মানুষের জন্য।”
একই সঙ্গে তথাকথিত ‘যাদবপুর পার্টি’কে কড়া বার্তা দিয়ে সতর্ক করে বলেন, “যাদবপুর পার্টি একটু সাবধান থাকুন। আমি লক্ষ্য রেখেছি, বেশি বাড়তে দেব না। এটা দুর্বল সরকার নয়, শক্তিশালী সরকার।”
কৃষকদের জন্য বিশাল স্বস্তি: ‘পিএম কুসুম’ প্রকল্পে বাড়তি ভর্তুকি
কৃষি ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খরচের হাত থেকে কৃষকদের বাঁচাতে এক বড় স্বস্তির খবর দেওয়া হয়েছে।
সেচের কাজে সৌর শক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘পিএম কুসুম’ প্রকল্পের আওতায় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ২ টাকা করে অতিরিক্ত ভর্তুকি দেওয়া হবে।
এর ফলে চাষবাসের খরচ অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নতুন প্রকল্প ও বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর উন্নয়ন
রাজ্যের বিদ্যুৎ ঘাটতি মেটাতে ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে বেশ কিছু বড় পরিকাঠামোগত প্রকল্পের কথা জানানো হয়েছে:
মেগা পাওয়ার স্টোরেজ: ডিভিসি (DVC) ও পাঞ্চেৎ মিলিয়ে ১০০০ মেগাওয়াটের মেগাওয়াট পাওয়ার স্টোরেজ পরিকল্পনার ঘোষণা।
বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র: বক্রেশ্বরে নতুন ইউনিট তৈরি হতে চলেছে।
সীমান্তবর্তী এলাকার উন্নয়ন: ‘ভাইব্রেন্ট ভিলেজ’ প্রকল্পের আওতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে থাকা রাজ্যের ৯টি সীমান্ত সংলগ্ন জেলায় বিদ্যুৎ দপ্তর বিশেষ কাজ করবে। এই প্রকল্পের জন্য ১৫০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ করা হয়েছে।
FAQ (সাধারণ জিজ্ঞাস্য)
১. গৃহস্থের জন্য কি স্মার্ট মিটার বসানো বাধ্যতামূলক? না, গৃহস্থ বা ডোমেস্টিক ব্যবহারের জন্য স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক নয়, এটি সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক।
২. ‘পিএম কুসুম’ প্রকল্পে কৃষকরা কী সুবিধা পাবেন? সেচের কাজে সৌর শক্তি ব্যবহার করলে কৃষকরা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে অতিরিক্ত ২ টাকা ভর্তুকি পাবেন।



