মাঝরাতে আইসিইউ-তে জেপি নাড্ডা! ২৭ দিনে সোনম ওয়াংচুকের অনশন, নিট বিতর্কে বাড়ছে চাপ
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

নিট (NEET) পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে ২৭ দিনে পড়ল সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের (Sonam Wangchuk) অনশন। দিল্লি হাই কোর্টের হস্তক্ষেপে তাঁকে মেদান্ত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে মঙ্গলবার গভীর রাতে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন সোনমকে দেখতে ছুটলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা (JP Nadda) এবং জিতেন্দ্র সিং। জাতীয় রাজনীতিতে এই হাই-প্রোফাইল সাক্ষাৎ ঘিরে বাড়ছে জল্পনা।
মাঝরাতে হাসপাতালে কেন দুই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী?
টানা অনশনে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। মঙ্গলবার গভীর রাতে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে (Medanta Hospital) আচমকাই উপস্থিত হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং।
স্বাস্থ্যের খোঁজ: আইসিইউ-তে গিয়ে তাঁরা সরাসরি চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সোনমের শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত খোঁজ নেন।
রুদ্ধদ্বার আলোচনা: সূত্রের খবর, দুই মন্ত্রী সোনমের সঙ্গেও কথা বলেছেন। যদিও তাঁদের মধ্যে ঠিক কী আলোচনা হয়েছে, তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, অনশনের ২৬ দিনের মাথায় কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের এই সাক্ষাৎ পরিস্থিতি প্রশমনের একটি বড় চেষ্টা।
আরও পড়ুন :: আধার কার্ড কি বাসস্থানের প্রমাণ? বেআইনি দখলদার মামলায় বড় সিদ্ধান্ত কলকাতা হাই কোর্টের!
আইনি হস্তক্ষেপে মেদান্তে স্থানান্তর
টানা ২১ দিন যন্তর মন্তরে অনশনের পর গত শনিবার পুলিশ জোরপূর্বক সোনমকে তুলে নিয়ে গিয়ে দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করে। এর প্রতিবাদে আইনি পথে হাঁটেন তাঁর স্ত্রী গীতাঞ্জলী।
দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ: সরকারি হাসপাতাল থেকে স্বামীকে মেদান্তে স্থানান্তরের জন্য দিল্লি হাই কোর্টে আবেদন জানান গীতাঞ্জলী।
আইসিইউ-তে ভর্তি: আদালত সেই আর্জি মঞ্জুর করার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অ্যাম্বুল্যান্সে করে তাঁকে মেদান্তে আনা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানকার আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এত কিছুর পরেও নিজের সিদ্ধান্তে অনড় সোনম, এখনও অনশন ভাঙেননি তিনি।
জাতীয় রাজনীতিতে আলোড়ন: সংসদে কোণঠাসা সরকার
নিট (NEET) পরীক্ষায় দুর্নীতি এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে সোনমের এই একক লড়াই এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় ইস্যু।
বিরোধীদের চাপ: সংসদের চলতি বাদল অধিবেশনে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিরোধী দলগুলো। পরীক্ষায় অনিয়ম এবং আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের উপর লাঠিচার্জের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে।
সরকারের অবস্থান: প্রবল চাপের মুখে পড়ে সরকার বাধ্য হয়ে জানিয়েছে যে, তারা সংসদে পুরো বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। পাশাপাশি, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ফেরাতে প্রয়োজনীয় সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
সোনম ওয়াংচুকের এই আন্দোলন নিট দুর্নীতির বিরুদ্ধে সারা দেশের ক্ষোভের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। জেপি নাড্ডার মতো শীর্ষ মন্ত্রীর মাঝরাতে হাসপাতালে ছুটে যাওয়া প্রমাণ করে যে, সরকার এই আন্দোলনকে আর হালকাভাবে নিতে পারছে না। এখন দেখার, কেন্দ্রের এই বার্তার পর সোনম তাঁর অনশন প্রত্যাহার করেন কি না এবং সরকার নিট বিতর্কে কী স্থায়ী সমাধান সূত্র বের করে।



