রাজ্য

ইন্দ্রনীলের পর এবার তদন্তকারীদের নজরে স্ত্রী মধুছন্দা! জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি, আগাম জামিনে স্বস্তি হাই কোর্টের

ওয়েবডেস্ক

Indranil Sen wife Madhuchhanda Sen : ইন্দ্রনীলের পর এবার তদন্তকারীদের নজরে স্ত্রী মধুছন্দা! জিজ্ঞাসাবাদের প্রস্তুতি, আগাম জামিনে স্বস্তি হাই কোর্টের - West Bengal News 24
দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রি সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে ইন্দ্রনীল সেনের পর এবার তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে কলকাতা পুলিশ

প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারির পর এবার তাঁর স্ত্রী মধুছন্দা সেনকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নিল কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকার আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের তদন্তে মধুছন্দার ভূমিকা খতিয়ে দেখতে চান তদন্তকারীরা। ৩১ অক্টোবরের একটি প্রতিবেদনে তাঁকে লালবাজারে তলবের কথা জানানো হয়েছে। তবে তাঁর হাজিরার নির্দিষ্ট সময় ও পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

এই মামলায় মধুছন্দা সেনের আগাম জামিন মঞ্জুর করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। ফলে তদন্তে তাঁকে ডাকা হলেও আগাম জামিনের সুরক্ষা এবং আদালতের নির্দেশ মেনে পরবর্তী পদক্ষেপ করতে হবে পুলিশকে। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তকারী সংস্থা যখন প্রয়োজন মনে করবে, তখন তাঁকে তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।

কেন তদন্তকারীদের নজরে মধুছন্দা সেন?

দুর্গাপুজোর বিশেষ প্রিভিউ শো এবং পুজো মণ্ডপে বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রিকে কেন্দ্র করেই এই মামলার সূত্রপাত। অভিযোগ, ‘মাস আর্ট’ বা ‘মহানির্বাণ রোড মাস আর্ট সোসাইটি’ নামে একটি সংস্থার মাধ্যমে ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন পুজোর বিশেষ প্রবেশের পাস ও প্রিভিউ শোয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।

তদন্তকারীদের অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছে এমন ধারণা তৈরি করা হয়েছিল যে, এই আয়োজনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সংস্থাটির অনুমোদন বা প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। সেই পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে পাস বিক্রি করে টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

মধুছন্দা সেন ওই সংস্থার সঙ্গে যুক্ত এবং সংস্থাটির সভাপতি হিসেবে তাঁর নাম আদালতের নথিতেও উল্লেখ রয়েছে। ফলে সংস্থার আর্থিক লেনদেন, পাস বিক্রির প্রক্রিয়া এবং সংগৃহীত অর্থ কোথায় গিয়েছে, সে বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে পুলিশ।

আগাম জামিন দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট

এই মামলায় গ্রেফতারির আশঙ্কায় ইন্দ্রনীল সেন এবং মধুছন্দা সেন দু’জনেই কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে দু’জনের ক্ষেত্রে আদালতের সিদ্ধান্ত আলাদা হয়।

১৫ অক্টোবরের আদালতের নির্দেশে মধুছন্দা সেনের আগাম জামিন মঞ্জুর করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে তদন্তকারী সংস্থার প্রয়োজন অনুযায়ী হাজির থাকতে এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ইন্দ্রনীল সেনের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়।

এই আইনি সুরক্ষার কারণে মধুছন্দাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলেও তাঁকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়টি সাধারণ গ্রেফতারির মতো নয়। আদালতের নির্দেশ এবং জামিনের শর্ত মেনেই তদন্ত এগোতে হবে।

২৮ অক্টোবর গ্রেফতার ইন্দ্রনীল, ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজত

গত ২৮ অক্টোবর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন ইন্দ্রনীল সেন। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পর কলকাতা পুলিশ গ্রেফতার করে।

পরের দিন, ২৯ অক্টোবর তাঁকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হয়। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত তাঁকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয়। পুজোর পাস বিক্রির অর্থ সংগ্রহ এবং সেই অর্থের গতিপথ জানতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন খতিয়ে দেখছে পুলিশ

এই মামলার তদন্তে ইন্দ্রনীল সেন, তাঁর স্ত্রী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ‘মাস আর্ট’-এর অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া অর্থ কীভাবে অন্য অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, সেই আর্থিক লেনদেনের ধারাবাহিকতা বোঝার চেষ্টা চলছে।

২৯ অক্টোবর আদালতে সরকারি আইনজীবীর বক্তব্য ছিল, মাস আর্টের অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা পড়ার দিনই ইন্দ্রনীল সেনের অ্যাকাউন্টে টাকা স্থানান্তরের তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে। এই দাবির ভিত্তিতে আর্থিক লেনদেনের নথি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তদন্তকারীদের আরও দাবি, অর্থের গতিপথ খতিয়ে দেখতে একাধিক সংস্থার ভূমিকা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তবে এই লেনদেনের প্রকৃতি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় এখনও তদন্তের বিষয়।

ইউনেস্কোর নাম ব্যবহার নিয়ে কী অভিযোগ?

এই মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল দুর্গাপুজোর পাস বিক্রিতে ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহারের অভিযোগ। ২০২১ সালে কলকাতার দুর্গাপুজো ইউনেস্কোর ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজের স্বীকৃতি পাওয়ার পর এই আন্তর্জাতিক পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে বিশেষ পুজো পরিক্রমা ও প্রিভিউ শোয়ের পাস বিক্রি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

ইডি এবং পুলিশের তদন্তে মাস আর্টের সঙ্গে ইউনেস্কোর সম্পর্ক, চুক্তির সময়কাল এবং বাণিজ্যিক কাজে লোগো ব্যবহারের অনুমতি ছিল কি না, সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

২৯ অক্টোবর আদালতে সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, ২০২৫ সালে ইউনেস্কোর সঙ্গে মাস আর্টের একটি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু তার আগের বছরগুলিতে পাস বিক্রি এবং অর্থ সংগ্রহের বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে।

তদন্তে পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

মধুছন্দা সেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে মাস আর্টের কাজকর্ম, পাস বিক্রির প্রক্রিয়া এবং আর্থিক লেনদেন সম্পর্কে তথ্য জানতে চাইছে কলকাতা পুলিশ। পাশাপাশি ইন্দ্রনীল সেনের জিজ্ঞাসাবাদ থেকেও পাওয়া তথ্যের সঙ্গে তাঁর বক্তব্য মিলিয়ে দেখার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, আর্থিক লেনদেন ও অর্থ পাচারের অভিযোগের দিকটি খতিয়ে দেখতে পৃথকভাবে তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। দুই তদন্তের অগ্রগতির উপর নির্ভর করছে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ।

ইন্দ্রনীল সেনের পুলিশি হেফাজতের মেয়াদ ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। অন্যদিকে, মধুছন্দার ক্ষেত্রে আগাম জামিনের শর্ত মেনে তদন্ত এগোতে হবে। এই মামলায় অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।




FAQ

১. মধুছন্দা সেনকে কেন জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে কলকাতা পুলিশ?

দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রিতে ‘মাস আর্ট’ সংস্থার ভূমিকা ও আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইছে পুলিশ।

২. মধুছন্দা সেন কি আগাম জামিন পেয়েছেন?

হ্যাঁ। ১৫ অক্টোবর ২০২৬ কলকাতা হাই কোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন মঞ্জুর করে। তবে তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজন মনে করলে তাঁকে হাজির হতে এবং তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে।

৩. ইন্দ্রনীল সেন কবে গ্রেফতার হন?

২৮ অক্টোবর ২০২৬ কলকাতা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। পরদিন আদালত তাঁকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে পাঠায়।

৪. মাস আর্ট সংস্থাকে ঘিরে কী অভিযোগ?

অভিযোগ, ইউনেস্কোর নাম ও লোগো ব্যবহার করে দুর্গাপুজোর প্রিভিউ শো এবং বিশেষ প্রবেশের পাস বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই অর্থের উৎস ও ব্যবহার নিয়ে তদন্ত চলছে।

৫. এই মামলার তদন্ত করছে কোন কোন সংস্থা?

কলকাতা পুলিশ এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) পৃথকভাবে তদন্ত করছে। কলকাতা পুলিশ অপরাধ সংক্রান্ত অভিযোগ এবং ইডি আর্থিক লেনদেন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে।

৬. ইন্দ্রনীল সেনের পরবর্তী আদালতে পেশের তারিখ কবে?

প্রকাশিত আদালত-সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইন্দ্রনীল সেনকে ১০ নভেম্বর ২০২৬ আবার আদালতে পেশ করার কথা।

আরও পড়ুন ::

Back to top button