‘হোমিওপ্যাথিতে হবে না, টোটাল অ্যালোপাথি দরকার!’ কালীঘাটকাণ্ডে অভিষেককে চরম দাওয়াই অর্জুনের
ওয়েবডেস্ক

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন ঘিরে কালীঘাটে উত্তেজনা, পুলিশের সঙ্গে বচসা এবং তৃণমূল-বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সংঘাতের পর এবার ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকে নিশানা করলেন অর্জুন সিং। শনিবার জগদ্দলের মজদুর ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “টোটাল অ্যালোপ্যাথি দেওয়া দরকার, হোমিওপ্যাথিতে হবে না।” একই সঙ্গে অভিষেককে এড়িয়ে চলা অথবা তাঁকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
কালীঘাটে কী ঘটেছিল?
৭ নভেম্বর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্মদিন। সেই উপলক্ষে শুক্রবার, ৬ নভেম্বর রাত থেকেই তাঁর কালীঘাটের বাড়ির সামনে জমায়েত হতে শুরু করেন অনুগামীরা। অভিযোগ, সেই সময় বিজেপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক কালীঠাকুর নিয়ে যাওয়ার পথে সেখানে পৌঁছলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
অভিযোগ, অভিষেকের বিরুদ্ধে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর ব্যানার ও কাটআউট ছিঁড়ে ফেলা হয়। পালটা বাধা দেন তৃণমূল সাংসদের অনুগামীরা। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ।
পুলিশের সঙ্গে বচসায় অভিষেক
ঘটনার পর বাড়ির ভিতর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে সামনে পেয়ে ফের স্লোগান দিতে শুরু করেন উপস্থিত লোকজন। পালটা স্লোগান ওঠায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এরপর অভিষেক তাঁর কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বাড়ির সামনে বসে পড়েন বলে সূত্রের দাবি। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে পুলিশ তাঁকে ভিতরে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানায়। কিন্তু সেই অনুরোধে তিনি রাজি হননি বলে অভিযোগ।
এই পরিস্থিতিতে পুলিশের সঙ্গে তীব্র বচসায় জড়িয়ে পড়েন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। এক পুলিশ আধিকারিকের দিকে আঙুল তুলে তাঁকে ধমক দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
অভিষেককে কী বললেন অর্জুন সিং?
শনিবার জগদ্দলের মজদুর ভবনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন অর্জুন সিং। কালীঘাটের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে অভিষেককে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে ওষুধের দরকার আছে, সেটা দেওয়া হচ্ছে না। ওই ওষুধ যদি দিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে চোখরাঙানি বন্ধ হয়ে যাবে।”
তিনি আরও বলেন, “মনে হচ্ছে, আমাদের পার্টি কর্মীদের ওই ওষুধের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।”
অর্জুনের দাবি, নির্বাচনে পরাজয়ের পর সংবাদমাধ্যমের নজরে থাকার জন্যই এ ধরনের আচরণ করছেন অভিষেক। তাঁর পরামর্শ, “হয় ওকে এড়িয়ে চলা উচিত, নয় উচিত শিক্ষা দেওয়া হোক।”
অভিষেকের আচরণ নিয়ে আক্রমণ আরও বাড়িয়ে অর্জুন বলেন, “রোজ রোজ আঙুল তুলে ধমকাবে, চমকাবে, কে হরিদাস পাল? বাংলায় কত মানুষের ক্ষতি করেছে, বিজেপি কর্মীদের খুন করেছে। যে কিষেণজির দৌলতে ক্ষমতায় এসেছিল, তাকেই খুন করা হয়েছে। সেই লোকটাই আবার ধমকাচ্ছে, চমকাচ্ছে। আমার মনে হয় জবাব দেওয়ার সময় এসেছে।”
শনিবারও উত্তেজনার রেশ, পথে মমতা
শুক্রবার রাতের ঘটনার রেশ শনিবারও কালীঘাটে অব্যাহত ছিল। এদিন পথে নামতে দেখা যায় তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাঁর অভিযোগ, এবছর তাঁর বাড়ির সামনে বেআইনিভাবে একটি পুজোর আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আগে কখনও এমন ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।
মমতার বক্তব্য, এই ব্যবস্থার ফলে বাড়ির নিজস্ব পুজোর আয়োজন করতে সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি গাড়ি চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর দাবি, বাড়ির পুজোর আয়োজন ব্যাহত করার উদ্দেশ্যেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কালীঘাট থানার পুলিশ বাধা দিলে কালীঘাট মন্দিরের সামনে পুজো করব।”
সব মিলিয়ে জন্মদিনের জমায়েতকে কেন্দ্র করে কালীঘাটে শুরু হওয়া উত্তেজনা শনিবার রাজনৈতিক চাপানউতোরে নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পুলিশের সঙ্গে বচসার অভিযোগ, অন্যদিকে তাঁকে নিশানা করে অর্জুন সিংয়ের মন্তব্য—দুই ঘটনাই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
FAQ
কালীঘাটে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে কী ঘটেছিল?
৬ নভেম্বর রাতে অভিষেকের জন্মদিন ঘিরে জমায়েতের সময় তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ও হাতাহাতির অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কী বললেন অর্জুন সিং?
অর্জুন সিং বলেন, “টোটাল অ্যালোপ্যাথি দেওয়া দরকার, হোমিওপ্যাথিতে হবে না।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি অভিষেককে কটাক্ষ করেন।
পুলিশের সঙ্গে অভিষেকের বচসা কেন হয়েছিল?
সূত্রের দাবি, উত্তেজনার মধ্যে অভিষেক বাড়ির সামনে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বসে পড়েন। পুলিশ তাঁকে ভিতরে যাওয়ার অনুরোধ জানালে তিনি রাজি হননি বলে অভিযোগ। এরপর বচসা হয়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কী অভিযোগ করেছেন?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, তাঁর বাড়ির সামনে পুজোর অনুমতি দেওয়ায় নিজস্ব পুজোর আয়োজন এবং গাড়ি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।



