জীবন যাত্রা

আপনার প্রেম কিংবা বিবাহের সম্পর্কটি কতটা “সুস্থ” ?

অনেক সময় আমরা যে প্রেম বা বিবাহের সম্পর্কটিতে থাকি, সেটা আমাদের জন্য সঠিক কিনা তা বুঝে উঠতে পানি না। এমনকি সম্পর্কে থাকার পরও তা একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক কিনা, সেটাও বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক সময় কেবল এই বোঝার ভুলের কারণেই একটি ভুল সম্পর্ক আমরা টেনে নিয়ে যাই অনেকটা সময় ধরে। আর পরবর্তীতে সে সম্পর্কটির আসল রূপ যখন আমাদের সামনে চলে আসে, তখন মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ি প্রচণ্ডভাবে।

তাই যে সম্পর্কটিতে রয়েছেন তা আপনার জন্য সঠিক কিনা এবং সেটি একটি স্বাভাবিক সম্পর্ক কিনা তা বোঝার চেষ্টা করা উচিত। তা না হলে পরবর্তীতে কষ্টে পড়তে হবে আপনাকেই। সে সময় সামলে উঠা সহজ নাও হতে পারে। তাই সম্পর্কটি সুস্থ কিনা তা বিশেষ কিছু পার্থক্যের মাধ্যমে জেনে নিন।

নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসা এবং কোনো কিছুর বিনিমিয়ে ভালোবাসার মধ্যে পার্থক্য জানুন
আজকালকার যুগে ভালোবাসার অপর নাম হয়েছে বিনিময়। আগের মতো নিঃস্বার্থ ভালোবাসা কারো মধ্যে দেখা যায় না। অনেকে এই ব্যাপারটি বুঝতেও পারেন না। ধরুন, আপনাকে কেউ উপহার দিলেন। এখানে দুটি জিনিস বোঝার রয়েছে। প্রথমত, তিনি কি মন থেকে শুধুমাত্র আপনার খুশির কথা ভেবে এবং কোনো কিছু বিনিময় আশা না করেই উপহারটি দিয়েছেন? দ্বিতীয়ত, তিনি উপহার দিলে আপনিও দেবেন সেই চিন্তা করে দিয়েছেন। এইসকল মানসিক ব্যাপার মানুষের ব্যবহার মাধ্যমেই বুঝে নেয়া যায়। ভালবাসার সম্পর্কেও একই জিনিস ঘটে থাকে। তাই বুঝে নিন ব্যবহার থেকেই নিঃস্বার্থভাবে ভালোবাসা এবং কোনো কিছুর বিনিমিয়ে ভালোবাসার মধ্যে পার্থক্য।

ভালোবাসা প্রকাশের ধরণের পার্থক্য
ভালোবাসা প্রকাশের ধরণ থেকেও আপনি বুঝতে পারবেন আপনার সম্পর্ক কতোটা স্বাভাবিক। লোক দেখানো ভালোবাসা প্রকাশ এবং সত্যিকারের ভালোবাসা প্রকাশের মধ্যে আবেগের অনেক বড় একটি পার্থক্য থাকে। আপনার সঙ্গী হয়তো সকলের সামনে আপনার সাথে সম্পর্কের ব্যাপারটি স্বীকার করেন, কিন্তু তার প্রকাশের মাঝে আবেগ কতোটা কাজ করছে তাও বোঝার চেষ্টা করুন। সঙ্গী যদি মুখে প্রকাশ নাও করেন, তারপরও তার ভেতরের আবেগ থেকেও কিন্তু সম্পর্কে স্বাভাবিকতা বুঝে নেয়া যায়।

মানিয়ে নেয়া এবং মানিয়ে নিতে বাধ্য করার মধ্যে পার্থক্য
ভালোবাসার সম্পর্কে বাধ্যগত কোনো কাজ থাকা একেবারেই উচিত নয়। এতে করে বোঝা যায় সম্পর্কটি স্বাভাবিক নয়। দোষগুণ মিলিয়েই একজন মানুষ। যদি তার সকল বিষয় মানিয়ে না নিয়ে তাকে সঙ্গীর পছন্দ অনুযায়ী মানিয়ে নিতে বাধ্য করা হয় তাহলে সেটি ভালোবাসার মধ্যে পড়ে না। অনেক সময় মুখে বলে বাধ্য না করা হলেও কিছু ইমোশোনাল ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে কাজটি কৌশলে করিয়ে নেয়া হয়। তাই নিজে বিচার বুদ্ধি করে ভেবে দেখুন আপনার সম্পর্কে আসলে কোনটি বিদ্যমান।

বোঝার জন্য কথা শোনা এবং পাল্টা উত্তরের জন্য শোনার পার্থক্য
অনেক সময়েই সম্পর্কে মনোমালিন্য হয়ে থাকে। তখন তা কথা বলে সমাধান করাটাই সব চাইতে ভালো উপায়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আমাদের মানসিকতায়। আমরা অনেকেই সঙ্গীর কথা বোঝার জন্য শুনি না, তার কথায় কোন ভুলটি রয়েছে এবং সে ভুল ধরে তাকে কীভাবে পাল্টা উত্তর দেয়া যায় সেকারণে সঙ্গীর কথা শুনে থাকি। আর এখানেই স্বাভাবিক এবং অসুস্থ সম্পর্কের মধ্যে পার্থক্য। একটু বোঝার চেষ্টা করুন আপনার সঙ্গী কি আপনার কথা বোঝার জন্য শুনছেন, নাকি আপনাকে উল্টো উত্তর দেবার জন্য কথা শুনছেন। তাহলে নিজেই বুঝে যাবেন আপনি কোন ধরণের সম্পর্কে রয়েছেন।

আরও পড়ুন ::

Back to top button