
রাজ্যের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। সেখানে দ্রুত ভোট হোক, চান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকৈ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি সাত দিনের মধ্যে ভোটের কথা ঘোষণা করে, আমাদের তাতে আপত্তি নেই। প্রসঙ্গত, মুখ্যমন্ত্রীকেও এই সাত কেন্দ্রের কোনও একটিতে প্রার্থী হতে হবে।
বিধায়ক না হয়েও ছয় মাস মন্ত্রী থাকা যায়। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ইতিমধ্যে দেড় মাসের বেশি সময় কেটে গিয়েছে। বাকি সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চান না মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নবান্নে দ্রুত উপনির্বাচনের দাবি তুললেন তিনি। কোভিড পরিস্থিতিতে ভোট নিয়ে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন তো পরিস্থিতি অনেকটাই ভাল।
কমিশন চাইলে এখন ভোট করে নিতে পারে।’ নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার সঙ্গে কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের কোনও সম্পর্ক নেই। খানিক কটাক্ষের সুরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি, প্রধানমন্ত্রী বললেই কমিশন উপনির্বাচনের দিন ঘোষণা করবে। আমি তাই প্রধামন্ত্রীকে সেই উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করব।’
প্রসঙ্গত, সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দল বারে বারেই নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছে, কমিশন চলছে প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি নেতাদের কথায়। ভোটের সময়ে মুর্শিদাবাদের দুই কেন্দ্র সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরের কংগ্রেস ও আরএসপি প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে ভোট স্থগিত হয়ে গিয়েছিল। ভোট হয়ে যাওয়ার পর খড়দহের তৃণমূল প্রার্থী কাজল সিনহার মৃত্যু হয়। ফল ঘোষণার পর দেখা যায় প্রয়াত কাজলই জিতেছেন খড়দহে। তাই এই তিন কেন্দ্রে যে ভোট হবে তা জানাই ছিল।
এদিকে বিধানসভায় দাঁড়িয়ে জেতার পরেও বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন বিজেপির নিশীথ প্রামাণিক ও জগন্নাথ সরকার। তাঁরা সাংসদ হিসেবে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ফলে নিশীথের দিনহাটা ও জগন্নাথের শান্তিপুর আসন ফাঁকা হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য ভবানীপুর আসন ছেড়ে দিয়েছেন বিদ্যুত্মন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়।
আর গত সপ্তাহে গোসাবার বিধায়ক জয়ন্ত নস্কর প্রয়াত হন। এই সাতটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন করতে হবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, এক দিনেই এই সাত কেন্দ্রের উপনির্বাচন যেন করা হয়। অনেকের মতে, প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর কথা বলে মমতা কৌশলে বোঝাতে চেয়েছেন, কমিশন নরেন্দ্র মোদীর কথাতেই চলে। এই সাত কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফলাফলে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বিশেষ কোনও বদল হবে না। তবে বেশ কিছু দিকে নজর থাকবে।
তা হল মমতার বিরুদ্ধে ভবানীপুরে বিজেপি কাকে দাঁড় করায়। কংগ্রেস সেখানে প্রার্থী দেয় কি না। কংগ্রেস যদি ভবানীপুরে প্রার্থী শেষপর্যন্ত না দেয় সেখানে বামেরা কী সিদ্ধান্ত নেয়। দিনহাটা, শান্তিপুর বিজেপি ধরে রাখতে পারে কিনা তাও দেখার। মুর্শিদাবাদে দুটি আসনে ভোট হবে। অধীর চৌধুরীর জেলার এই দুই আসনের একটি জিতে কংগ্রেস খাতা খুলতে পারে কি না সেদিকেও নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
সূত্র : দ্য ওয়াল



