উঃ ২৪ পরগনা

বিয়ের পর সর্বস্ব লুঠের ছক, ফাঁস হতেই গ্রেফতার নববধূ

সাতের দশকে ‘ঠগিনী’ সিনেমার কথা মনে আছে? বিয়ের রাতেই টাকাপয়সা, গয়নাগাঁটি নিয়ে চম্পট দিত ছবির নায়িকা করবী ৷ সন্ধ্যা রায় অভিনীত ধূর্ত করবী শেষ পর্যন্ত অবশ্য ধরা পড়ে গিয়েছিলেন ৷ কিন্তু জেলে যেতে হয়নি তাঁকে ৷ তবে বাস্তবের ঠগিনীর শেষটা সিনেমার মতো মধুরেণ সমাপয়েৎ হল না ৷ নববধূর জারিজুরি ফাঁস তো হলই ৷ শ্বশুরবাড়ির অভিযোগে শেষপর্যন্ত জেলে ঠাঁই হয়েছে মহিলার ৷ ঘটনাটি উত্তর ২৪ পরগনার বাগদার ৷ ধৃতের নাম রাখি বিশ্বাস ৷

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা গ্রাম পঞ্চায়েতের দেয়ালদহ গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জিত পাল ৷ বিয়ের জন্য পরিবারের সদস্যরা মেয়ে দেখছিলেন । খবর পেয়ে হঠাৎ করেই এক ঘটক এসে চলতি মাসের ২০ তারিখে রাখি বিশ্বাসকে সঞ্জিতের বাড়িতে নিয়ে আসেন ৷ সঙ্গে ছিলেন শান্তি বিশ্বাস নামে আরও এক মহিলা ৷ পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, পাত্রী সম্পর্কে ঘটক তাঁদের জানায়, মেয়েটির মা নেই, বাবা মানসিক রোগী । মেয়েটির অসহায়তার কথা শুনে মন গলে যায় সঞ্জিতের পরিবারের সদস্যদের । সেদিনই বিয়ের ব্যবস্থা করেন তাঁরা ।

আরও পড়ুন :: রাজ্যের কলেজগুলিতে ভরতি নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত মুখ্যমন্ত্রী!

নিয়ম মেনে, গত রবিবার প্রতিবেশীদের নিমন্ত্রণ করে বৌভাতের আয়োজন করেছিল সঞ্জিতের পরিবার । কিন্তু বিয়ের পর থেকেই নববধূর আচরণ ভাল লাগছিল না শ্বশুরবাড়ির লোকজনের । বৃহস্পতিবার হঠাৎ করে নববধূ চাকদায় ডাক্তার দেখাতে যাওয়ার কথা বলে । বিয়েতে পাওয়া সমস্ত গয়নাও সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছিল সে । আর সেখানেই সন্দেহ জোরাল হয় সঞ্জিতের । এই নিয়ে স্ত্রীকে চেপে ধরতেই চক্ষুচড়কগাছ শ্বশুরবাড়ির লোকজনের ৷ তাঁরা জানতে পারেন, রাখির আগেও একাধিকবার বিয়ে হয়েছে । পরবর্তীতে সঞ্জিতের পরিবার বাগদা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ৷ অভিযোগ পেয়ে শুক্রবার রাখিকে গ্রেফতার করে বাগদা থানার পুলিশ ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাখির এর আগেও একাধিক বিয়ে রয়েছে । সেখান থেকে বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই সোনার গয়না নিয়ে চম্পট দিয়েছিল সে । সঞ্জিত বলেন, “ওর (রাখি) অন্য একটা ছেলের সঙ্গে সম্পর্ক আছে । এর আগেও একাধিক জায়গায় বিয়ে হয়েছে । অসহায় মেয়ে শুনে বিয়ে করেছিলাম । এখন দেখি প্রতারক ।” রাখির শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সঞ্জিতের পরিবারের সদস্যরা ।

সূত্র : ইটিভি ভারত

আরও পড়ুন ::

Back to top button