
স্বপ্নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ক্যারিয়ার গড়া খুব সহজ বিষয় নয়। ৫৪ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক মনে করেন, তারা তাদের স্বপ্নের পেশাকে বেছে নিতে পারবেন না। তাই তারা ঝুঁকছেন উচ্চ বেতনের চাকরির পেছনে, যেসব চাকরির ক্ষেত্রে রয়েছে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সম্ভাবনা ও নিরাপত্তা।
সম্প্রতি দ্য মেট্রো এক প্রতিবেদনে যুক্তরাজ্যভিত্তিক এমন ১০টি সম্ভাবনাময় চাকরির কথা জানিয়েছে, যেগুলোর জন্য কঠিন পরিশ্রম, অভিজ্ঞতা যেমন দরকার, আবার কখনো দরকার ভালো ডিগ্রির।
আর ২০২৩ সালের পর থেকে এসব পেশায় বেতনও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।
১. ফ্যাব্রিকেটর/ওয়েল্ডার : শুনে অবাক লাগলেও ওয়েল্ডিং বা লোহার ঝালাই দিয়ে জোড়া লাগানোর কাজ রয়েছে এ তালিকার সবার ওপরে। ব্লু প্রিন্ট থেকে শক্তিশালী কাঠামো নির্মাণ এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। এইচএনসি/এইচএনডি কোর্স বা এনভিকিউ ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে এসব চাকরিতে যুক্ত হওয়া সম্ভব।
২. রিস্ক সার্ভেয়ার/কনসালট্যান্ট : ব্যবসার ঝুঁকি নিরীক্ষা, বিশেষ করে বীমার ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিরীক্ষাও একটি দারুণ পেশা হতে পারে। এই পেশায় মূলত ব্যবসার নিরাপত্তা, বীমার ক্লেইমস ও অভিযোগ নিয়ে কাজ করতে হয়। এই পেশার জন্য দরকার হতে পারে প্রকৌশলবিদ্যা, রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি বিষয়ের ডিগ্রির সঙ্গে সিআইআইয়ের সনদ।
আরও পড়ুন :: যে ১০ টি উপায়ে উদ্যোগী লোকেরা সর্বাধিক অর্থ, শক্তি এবং সময় উপার্জন করে
৩. ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ার : এই পেশায় মূলত কারখানার উৎপাদন বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করতে হয়।
এ ক্ষেত্রে মেকানিক্যাল বা ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কিত ডিগ্রির প্রয়োজন হতে পারে। এ পেশার কাজগুলোর মধ্যে সাপ্লাই চেইন, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন অন্যতম।
৪. প্রযুক্তি ও সাইবার ব্যবস্থাপনা : এ ক্ষেত্রে সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও টেকনোলজি সম্পর্কিত কাজের দেখভাল বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ঝুঁকি ও অভিযোগ ব্যবস্থাপনা ও কাজের কৌশল নির্ধারণ উল্লেখযোগ্য। এসব পেশার জন্য আইটি ও সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক ডিগ্রি ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।
৫. সাইট সুপারভাইজার : নির্মীয়মাণ বিভিন্ন স্থাপনার কাজ দেখভাল, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, গুণমান নিরীক্ষণ ইত্যাদি বিষয় এ পেশার উল্লেখযোগ্য কাজ। এ ক্ষেত্রে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ অথবা কনস্ট্রাকশন সম্পর্কিত ডিগ্রির প্রয়োজন হয়। এই পেশা মূলত মাঠ পর্যায়ের কর্মী ও উচ্চতর ব্যবস্থাপকদের মধ্যে সেতু হিসেবে কাজ করে।
৬. ৭ থেকে ১০ বছরের অভিজ্ঞতা থাকলে প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আইনজীবী হিসেবে কাজ করে ২০২৪ সালে ৮৭ হাজার ৬২৫ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করেছেন অনেকে, যা আগের তুলনায় ৭.৬ শতাংশ বেশি। তারা মধ্যম থেকে সিনিয়র পদে থেকে বাণিজ্য ও শিল্প খাতে করপোরেট গভর্ন্যান্স, কমপ্লায়েন্স ও বাণিজ্যিক চুক্তি পরিচালনা করেন।
আরও পড়ুন :: ছেলেদের যে গুণগুলো গোপনে পছন্দ করেন নারীরা
৭. দক্ষ হিসাবরক্ষকদের একটি অংশ ২০২৪ সালে ৪১ হাজার ৩৭৫ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করেছেন। এ পেশায়ও প্রায় ৭.৬ শতাংশ আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এসিএ, এসিসিএ, সিআইএমএর মতো যোগ্যতা নিয়ে তারা ফাইন্যান্স সম্পর্কিত কাজ গুলো করে থাকেন।
৮. বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ আইনজীবীরা ২০২৪ সালে ৫৪ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আয় করেছেন, যা আগের তুলনায় ৭.২ শতাংশ বেশি। এই পেশাতে মূলত পেশাজীবীদের পরামর্শ দিতে হয়, যার জন্য আইন বিষয়ে ডিগ্রির প্রয়োজন হয়। সেই সঙ্গে এসকিউই ও দুই বছরের অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়।
৯. সফটওয়্যার আর্কিটেক্ট পেশায়ও আয় ৭.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পেশায় কর্মরতরা মাইক্রোসফট স্ট্যাক ব্যবহার করে ৮৩ হাজার ৪৪৪ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করেছেন। এই পেশায় কাজ করতে মূলত অ্যাডভান্স ডিজাইন, দল পরিচালনা ও সফটওয়্যার সম্পর্কিত দক্ষতার দরকার হয়।
১০. কন্ট্রাক্ট ম্যানেজার পেশার একেকজন গড়ে ৫৩ হাজার ৬৬৭ পাউন্ড পর্যন্ত আয় করেছেন। এই পেশায় মূলত সমঝোতা, চুক্তি নবায়নের মতো বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করতে হয়। পেশাটিতে ২০২৩ সাল থেকে ৬.৮ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি পেয়েছে।
সূত্র : এনডিটিভি



