SIR শুরু, ভোটার তালিকা সংশোধনে কাদের লাগবে না কোনও অতিরিক্ত নথি জানাল কমিশন
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বিহারের পর এবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ দেশের মোট ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে শুরু হচ্ছে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা SIR (Special Intensive Revision)। সোমবার নির্বাচন কমিশনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় এই কর্মসূচির। সোমবার রাত ১২টার পর থেকেই শুরু হচ্ছে এই বৃহৎ প্রক্রিয়া।
দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের মাঝেই এদিন সাংবাদিক বৈঠকে আশ্বস্ত করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কারা এই প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকবেন।
সোমবার দিল্লিতে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মঙ্গলবার থেকেই ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চালু হচ্ছে SIR। এই তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ, ছত্তিশগড়, গোয়া, গুজরাট, কেরল, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, তামিলনাড়ু, উত্তরপ্রদেশ, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, লাক্ষাদ্বীপ এবং পুদুচেরি। এই প্রক্রিয়ায় বুথ লেভেল অফিসার (BLO) রা বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোটারদের হাতে এনুমারেশন ফর্ম তুলে দেবেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সেই ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে। তবে ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় যাঁদের নাম আগে থেকেই আছে, তাঁদের আর কোনও অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দিতে হবে না। এমনকি যদি কারও নিজের নাম তালিকায় না থাকে, কিন্তু বাবা-মায়ের নাম থাকে, তাহলেও বাড়তি কোনও নথি দিতে হবে না। ওই ভোটাররা শুধুমাত্র ফর্ম পূরণ করে কমিশনের ওয়েবসাইটে জমা দিলেই যথেষ্ট হবে।
নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেন, “বিএলওরা বর্তমান ভোটারদের কাছে ফর্ম বিতরণ শুরু করার পর, যাঁদের নাম এনুমারেশন ফর্মে থাকবে তাঁরা সকলেই ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় তাদের নাম ছিল কিনা তা মেলানোর চেষ্টা করবেন। যদি তালিকায় নাম থাকে, তাহলে তাদের কোনও অতিরিক্ত নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন, “যদি ভোটারদের নাম ২০০৩ সালের তালিকায় না থাকে তাহলে তাঁদের নিজের বাবা অথবা মায়ের নাম খুঁজতে হবে ২০০৩ সালের তালিকায়। যদি কোনও ভোটার নিজের কোনও অভিভাবকের নামের সঙ্গে নিজের নাম মেলাতে না পারেন সেক্ষেত্রে তাঁকে কমিশন নির্ধারিত নথি জমা দিতে হবে নিজেকে বৈধ ভোটার হিসেবে প্রমাণ করার জন্য।”
কমিশনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার থেকেই শুরু হবে এনুমারেশন ফর্ম ছাপার কাজ এবং বিএলওদের প্রশিক্ষণ। এই প্রক্রিয়া চলবে ৩ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর ৪ নভেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ফর্ম দেওয়া ও সংগ্রহ করা হবে।
খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে ৯ ডিসেম্বর। ওই তালিকা নিয়ে আপত্তি বা সংশোধনের আবেদন জানানো যাবে ৯ ডিসেম্বর থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। অভিযোগ যাচাই ও নিষ্পত্তির কাজ চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। সবশেষে, ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা।



