সুপ্রিম কোর্টে পিছোল আইপ্যাক মামলার শুনানি, নতুন দিন ধার্য করল সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

আইপ্যাক (I-PAC) সংক্রান্ত মামলায় রাজ্য সরকার ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-র আইনি লড়াইয়ে আপাতত বিরতি। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়া-র বেঞ্চে মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। আদালত জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
সোমবার রাজ্য সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে একটি হলফনামা জমা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর পক্ষে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আবেদন করেন, রাজ্যের হলফনামা খতিয়ে দেখার জন্য আরও সময় প্রয়োজন। পাশাপাশি তিনি জানান, ইডি-ও পাল্টা হলফনামা দাখিল করতে চায়।
ইডির এই আবেদনের প্রেক্ষিতে বেঞ্চ রাজ্য সরকারের মত জানতে চাইলে রাজ্য সম্মতি দেয়। এরপরই আদালত শুনানির দিন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
রাজ্য সরকারের হলফনামায় ইডির দায়ের করা মামলাটি খারিজের আবেদন জানানো হয়েছে। রাজ্যের প্রধান যুক্তি—
সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করার মৌলিক অধিকার ইডির নেই।
যে পদ্ধতিতে তল্লাশি চালানো হয়েছে, তা আইনসম্মত নয়।
আইপ্যাককে কোনও আগাম নোটিস না দিয়ে কেন তল্লাশি চালানো হল, সে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
রাজ্যের আরও দাবি, আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈন-এর বাড়ি ও দফতরে ইডির অভিযান সংবিধানের ২১ নম্বর ধারা (জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার)-র পরিপন্থী।
ইডির অভিযোগ কী
এর আগে ইডি সংবিধানের ৩২ নম্বর ধারায় মামলা দায়ের করে অভিযোগ তোলে যে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য সরকার তদন্তে বেআইনি হস্তক্ষেপ করেছে। ইডির বক্তব্য, তাদের তল্লাশির সময় বাধা দেওয়া হয়েছে।
কী ঘটেছিল ৮ জানুয়ারি
গত ৮ জানুয়ারি সকালে, বেআইনি কয়লা পাচার মামলার সূত্র ধরে কলকাতায় জোড়া অভিযান চালায় ইডি।
একটি দল যায় সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে।
অন্য দলটি যায় লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে।
আইপ্যাক রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থা। অভিযোগ, তল্লাশি চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী নিজে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নথিপত্র, ফাইল ও ল্যাপটপ বাইরে নিয়ে যান—প্রথমে প্রতীকের বাড়ি থেকে, পরে সল্টলেকের দফতর থেকেও।
হাই কোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট
এই ঘটনার পর তদন্তে বাধা পাওয়ার অভিযোগ তুলে ইডি কলকাতা হাই কোর্টে যায়। তবে ৯ জানুয়ারি বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলার শুনানি ১৪ জুলাই পর্যন্ত মুলতুবি করে দেন। এরপরই ইডি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়।
এফআইআর ও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ
আইপ্যাক-কাণ্ডে ইডির বিরুদ্ধে কলকাতা পুলিশ এফআইআর দায়ের করেছিল। আগের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতির বেঞ্চ—
ইডির বিরুদ্ধে দায়ের করা তিনটি এফআইআরের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেয়।
মামলার সব পক্ষকে নোটিস জারি করে।
দুই সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয়।
যে এলাকাগুলিতে ইডি তল্লাশি চালিয়েছিল, সেখানে ও আশপাশের সব সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দেয়।
এই নির্দেশ মেনেই সোমবার রাজ্য সরকার হলফনামা জমা দেয়।
সব মিলিয়ে, আইপ্যাক-কাণ্ডে ইডি ও রাজ্য সরকারের টানাপড়েন আপাতত ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষায়। সেদিনই স্পষ্ট হবে, এই মামলার পরবর্তী দিকনির্দেশ কী হতে চলেছে।



