
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচন (Bengal Election 2026) সামনে রেখে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জোরকদমে প্রচার চালাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার মুরারইয়ে সভা শেষ করে খড়দহে পৌঁছতে কিছুটা দেরি হয় তাঁর। এই বিলম্বকে ঘিরেই সভামঞ্চ থেকে কলকাতা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন তিনি।
মমতার অভিযোগ, “আমি অনেকক্ষণ বেরিয়েছি। রানওয়েতে আমাকে আধঘণ্টা আটকে রাখল। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব প্লেন নামাল, অথচ আমাকে দেরি করিয়ে দিল। গতকাল হেমন্ত সোরেনের কপ্টারও ৪০ মিনিট আটকে রেখেছিল।” ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির হাত রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, ”বিমান বন্দরে সব বিজেপির লোক বসে আছে।”
আরও পড়ুন :: ‘আগামী ১৫০ ঘণ্টা খুব গুরুত্বপূর্ণ, অপ্রিয় পরিস্থিতির আশঙ্কা’, সতর্কবার্তা তৃণমূলের
এরপর নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি অনেকক্ষণ বেরিয়েছি। রানওয়েতে আমাকে আধ ঘণ্টা আটকে রাখল। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব প্লেন নামাল, অথচ আমাকে দেরি করিয়ে দিল। গতকাল হেমন্ত সোরেনের কপ্টারও ৪০ মিনিট আটকে রেখেছিল। এরা আমাদের সঙ্গে এরকমই ব্যবহার করছে। এয়ারপোর্টে বিজেপির লোকগুলো বসে আছে। লোকের অ্যাক্সিডেন্ট হলে দেখে না, শুধু আমাদের কত দেরি করানো যায় সেই চেষ্টায় থাকে। মাঠের পারমিশন দিতেও দেরি করে। বিজেপি পরিবার দেখে দেখে লোক দায়িত্বে বসিয়েছে। অনেক কষ্ট করে এই মিটিংয়ের পারমিশন নিতে হয়েছে। আমার চারটেয় বেলেঘাটায় মিটিং আছে, তারপর নিজের জায়গায়। পাঁচটায় টাইম ছিল, কিন্তু ফর নাথিং আমাকে দেরি করাল। এটা একটা ডেলিবারেট অ্যাটেম্পট।”
শুধু বিমানবন্দর ইস্যুতেই থেমে থাকেননি তৃণমূল সুপ্রিমো। এদিন আরও একাধিক বিষয়ে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “পুরো যুদ্ধজাহাজ নিয়ে এসেছে! পহেলগাঁওতে জঙ্গি হানা আটকাতে পারে না, আর বাংলার লোক কি জঙ্গি? আমার প্রশ্ন ভারত সরকারের কাছে-ভোটে কেন মিলিটারি ব্যবহার করছ? তোমরা কি মানুষকে হত্যা করতে চাও, না শান্তিতে নির্বাচন করতে চাও? আমরা শান্তিতে নির্বাচন করব। ওদের বন্দুক আর এজেন্সির জোর বড়, না মানুষের ক্ষমতা বড়-আমি এই চ্যালেঞ্জ করে যাচ্ছি। বাংলা যদি আমি বুঝে থাকি, তবে বলছি-ওদের জেতার কোনও ক্ষমতা নেই।”
এসআইআর প্রসঙ্গেও কেন্দ্রকে নিশানা করেন মমতা। তিনি বলেন, “সুপ্রিম কোর্টে কেস করে আমি ৩২ লক্ষ লোকের নাম ভোটার লিস্টে তুলেছি। ইচ্ছা করে আমাদের ভোটার দেখে দেখে নাম কাটা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর লজ্জা হওয়া উচিত। যার কোনও জাত নেই সেই বজ্জাত, আর এরাই জাতের নামে জোচ্চুরি খেলে।”



