অর্থনীতিরাজ্য

পাহাড়-সমুদ্রে দুর্ঘটনায় আর ভয় নেই! পর্যটকদের জন্য ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ছে শুভেন্দু সরকার

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

পাহাড়-সমুদ্রে দুর্ঘটনায় আর ভয় নেই! পর্যটকদের জন্য ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ছে শুভেন্দু সরকার - West Bengal News 24

সমুদ্র কিংবা পাহাড়ে বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনার কবলে পড়লে শুধু শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন অনেক পর্যটক। চিকিৎসায় শরীর সুস্থ হলেও দীর্ঘদিন থেকে যায় আতঙ্ক ও মানসিক ধাক্কা। সেই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় বিশেষ উদ্যোগের কথা ঘোষণা করল নতুন রাজ্য সরকার। শুভেন্দু অধিকারী সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের পাশাপাশি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্রগুলির কাছাকাছি আধুনিক ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, দীঘা, দার্জিলিং এবং ফরাক্কার নিকটবর্তী এলাকায় অ্যাডভান্সড স্পেশালাইজড ট্রমা কেয়ার সেন্টার নির্মাণ করা হবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, দুর্ঘটনার পর পর্যটকদের শারীরিক চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক পুনর্বাসনের দিকেও নজর রাখতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি শুটিংয়ের কাজে গিয়ে তালসারিতে জলে ডুবে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর ঘটনাও নতুন করে এই ধরনের পরিকাঠামোর প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। সোমবার স্বাস্থ্যভবনে বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে প্রয়াত অভিনেতার স্মৃতিচারণও করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন :: মমতা আর দলের চেয়ারপার্সন নন? নির্বাচন কমিশনে যাচ্ছে ‘আসল তৃণমূল’! ঋতব্রতর বিস্ফোরক দাবিতে তোলপাড় রাজনীতি!

চলতি বাজেটে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও শক্তিশালী ও জনমুখী করে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে রোগীদের খাবারের জন্য পূর্ববর্তী সরকারের আমলে যেখানে মাথাপিছু সাড়ে ৫৬ টাকা বরাদ্দ ছিল, বর্তমানে তা বাড়িয়ে ১১০ টাকা করা হয়েছে।

এছাড়াও তিনি জানান, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, ভুটান ও আফগানিস্তান-সহ একাধিক দেশ থেকে বহু রোগী চিকিৎসার জন্য বাংলায় আসেন। তাঁদের থাকার সুবিধার জন্য বেসরকারি হাসপাতালের সহযোগিতায় পিপিপি মডেলে রাজ্যের পাঁচটি স্থানে বিশেষ আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন হাসপাতালে ৫০ শতাংশ শয্যা বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য সংরক্ষিত রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।

অন্যদিকে, উন্নত চিকিৎসার জন্য দক্ষিণ ভারতে যাওয়া বাঙালি রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের স্বল্প খরচে থাকার ব্যবস্থা করতেও পিপিপি মডেলে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে চিকিৎসার খরচের পাশাপাশি আবাসনের আর্থিক চাপও অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজ্যে বর্তমানে ডবল ইঞ্জিন সরকার থাকায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পগুলির সুবিধাও আরও সহজে পৌঁছে যাবে সাধারণ মানুষের কাছে। আয়ুষ্মান যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী অমৃত যোজনার বিভিন্ন নিয়ম ও সুবিধা কার্যকর করা হবে। আয়ুষ্মান ভারতের আওতায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা যেমন থাকবে, তেমনই অমৃত যোজনার মাধ্যমে বিভিন্ন অস্ত্রোপচারে সর্বোচ্চ ৯০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যাবে। জীবনদায়ী ওষুধ, ক্যানসারের চিকিৎসা, হাঁটু প্রতিস্থাপন এবং স্টেন্ট বসানোর ক্ষেত্রেও বিশেষ সুবিধা মিলবে।

তবে এবারের স্বাস্থ্য বাজেটের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে উঠে এসেছে দুর্ঘটনাগ্রস্ত পর্যটকদের মানসিক ও শারীরিক পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ ট্রমা কেয়ার সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা। এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘‘মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যেগুলো ভেবেছেন, সেগুলো অনন্য। দিঘায় তিন মাস পরপর প্রচুর মানুষ জলে ডুবে মারা গিয়েছেন। আমরা তখন হাপিত্যেশ করতে থাকি। স্পেশালাইজড ট্রমা কেয়ার সেন্টার তাঁদের জন্যই।”

আরও পড়ুন ::

Back to top button