আদিবাসীদের জন্য বিশেষ ভাতা থেকে ঘরে ঘরে পানীয় জল, জঙ্গলমহল সফরে একাধিক ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রথমবার মঙ্গলবার জঙ্গলমহল সফরে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুরে হুল দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জঙ্গলমহলের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক প্রতিশ্রুতির কথা ঘোষণা করেন তিনি। পাশাপাশি, পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে জঙ্গলমহলকে বঞ্চিত করার অভিযোগও তোলেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ভাষণের বড় অংশ জুড়ে আগের সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকারের আমলে আদিবাসীদের উপর যে অত্যাচার হয়েছে, তা ব্রিটিশ শাসনকালকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। একইসঙ্গে বর্তমান সরকার আদিবাসী সমাজের উন্নয়নে কী কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা চাই নীচে নয়, এক আসনে বসুক আদিবাসীরা। আমরাও আদিবাসীদের অর্থনৈতিক অধিকার এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে মন্ত্রিসভায় একাধিক আদিবাসী জনপ্রতিনিধিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসিয়েছি।’’
আরও পড়ুন :: অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম পূরণ নিয়ে চরম অশান্তি! ৯ বছরের ছেলের সামনেই স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে আত্মঘাতী স্বামী
জঙ্গলমহলের উন্নয়ন নিয়ে একাধিক পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘‘আমরা প্রত্যেকটি আদিবাসী গ্রাম এবং প্রতিটি আদিবাসী পরিবারকে উন্নয়নের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছে দেব। প্রাচীন আদিবাসীদের জন্য খাদ্য নিরাপত্তা-সহ বিভিন্ন প্রকল্প চালু করা হয়েছে। কৃষি, সেচ, হিমঘর এবং উদ্যান পালনের উন্নয়নের ক্ষেত্রে অনেক উদ্যোগী হয়েছে সরকার।’’
শুভেন্দু অধিকারী জানান, আদিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ ভাতা চালু করা, আরও বেশি সংখ্যক পাকা বাড়ি নির্মাণ এবং প্রতিটি পরিবারের কাছে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার উন্নয়নের জন্য চলতি রাজ্য বাজেটে ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ প্যাকেজ বরাদ্দ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিন আগের সরকারের বিরুদ্ধে আরও একটি গুরুতর অভিযোগ তুলে শুভেন্দু বলেন, ‘‘বিগত সরকারের আমলে হাজার হাজার ভুয়ো জাতিগত শংসাপত্র দেওয়া হয়েছিল। আমরা সরকারে এসে তার তদন্ত শুরু করেছি। প্রমাণিত হলে ওই শংসাপত্রপাপক এবং যিনি শংসাপত্র দিয়েছেন তাঁরা দু’জনই জেলে যাবেন।’’
পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ নিয়েও তৃণমূলকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গত তিন বছর ওই পর্ষদের জন্য কোনও অর্থ বরাদ্দ করেনি আগের সরকার। বর্তমান বিজেপি সরকার ইতিমধ্যেই এই দফতরের জন্য ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। শুভেন্দুর কথায়, ‘‘ওই টাকায় জঙ্গলমহলের ৭২টি ব্লকে ঢালাও উন্নয়নের কাজ হবে। জামশেদপুর এবং দুর্গাপুর দুই শিল্পাঞ্চলকে সড়কপথে যুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।’’
এদিন মুকুটমণিপুরে হুল দিবস উপলক্ষে সিধু ও কানুর নবনির্মিত মূর্তির আবরণ উন্মোচন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সভামঞ্চ থেকেই আদিবাসী সমাজের কৃতী পড়ুয়াদের সংবর্ধনা জানান তিনি। পাশাপাশি শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা আদিবাসী সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও সম্মানিত করেন মুখ্যমন্ত্রী।



