
ডিজে মামলায় আপাতত কোনও স্বস্তি পেলেন না তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বিধাননগর আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে আবেদন করেছিলেন তিনি। সেই আবেদন খারিজ করে দেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, অভিষেকের মূল মামলা ইতিমধ্যেই অন্য একটি বেঞ্চে বিচারাধীন এবং সেখানে আদালত তাঁকে রক্ষাকবচ দিয়েছে। তাই নতুন করে একই বিষয়ে রক্ষাকবচ চাওয়ার যৌক্তিকতা কোথায়, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। পাশাপাশি বিচারপতি স্পষ্ট বলেন, ‘‘তদন্তে কোনটা প্রয়োজন, আর কোনটা নয়, সেটা তদন্তকারী সংস্থাকে বলে দিতে পারে না আদালত।’’ এরপরই তিনি এই মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়ান এবং বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে পাঠিয়ে দেন। কোন বেঞ্চে মামলার পরবর্তী শুনানি হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধান বিচারপতিই।
বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের সময় উস্কানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। সেই ঘটনার তদন্তভার নেয় সিআইডি। নিজের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআর বাতিলের দাবিতে আদালতের দ্বারস্থ হন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। ওই মামলায় বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অভিষেককে রক্ষাকবচ দিলেও স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন, তদন্তে তাঁকে পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। পাশাপাশি আদালত জানিয়েছিল, তদন্তে সহযোগিতা না করলে তদন্তকারী সংস্থা বিষয়টি আদালতের নজরে আনতে পারবে।
আরও পড়ুন :: মাসের প্রথম দিনেই দারুণ ধামাকা! এক ঝটকায় কমল পেট্রোল-ডিজেলের দাম, পকেটে স্বস্তি আমজনতার
এই মামলার তদন্ত চলাকালীন অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে সম্প্রতি বিধাননগর আদালতের দ্বারস্থ হয় সিআইডি। সেই আবেদনের ভিত্তিতে আদালত নির্দেশ দেয়, ৩০ জুন ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে অভিষেকের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। এই মর্মে সিআইডি তাঁর কালীঘাটের বাসভবনেও নোটিস পৌঁছে দেয়। নিম্ন আদালতের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই হাই কোর্টে পৃথক আবেদন করেন অভিষেক। প্রথমে বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চে শুনানির কথা থাকলেও, তিনি অনুপস্থিত থাকায় বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের এজলাসে শুনানির আবেদন করা হয়। মঙ্গলবার শুনানির সময় অভিষেকের আইনজীবী দাবি করেন, তাঁর মক্কেল রাজনৈতিক সভা থেকেই ওই মন্তব্য করেছিলেন এবং সেটি তিনি অস্বীকারও করছেন না। তাহলে কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজনীয়তা কোথায়? তার উত্তরে বিচারপতি ঘোষ বলেন, ‘‘তদন্তে কোনটা প্রয়োজন তদন্তকারী সংস্থাকে আদালত তা বলতে পারে না। ফলে তদন্তে কণ্ঠস্বর প্রয়োজন কি না তা বলতে পারে না আদালত।’’
হাই কোর্ট আরও জানায়, অভিষেকের মূল মামলা এখনও বিচারাধীন এবং সেখানে আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত তাঁর রক্ষাকবচ বহাল রয়েছে। তাই নতুন করে রক্ষাকবচ চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা আদালতের কাছে স্পষ্ট নয়। আদালতের পর্যবেক্ষণ, যদি তদন্তে সহযোগিতা না করা হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারবে।
এদিকে অভিষেকের আইনজীবী আদালতে আবেদন করেন, এই মামলা যেহেতু নিম্ন আদালতের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা হয়েছে, তাই পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া হোক। তবে সেই আবেদনও খারিজ করে দেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ। তিনি জানান, মূল মামলায় ইতিমধ্যেই রক্ষাকবচ রয়েছে। তদন্তে অসহযোগিতা হলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী তদন্তকারী সংস্থা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে পারবে। ফলে এই মুহূর্তে নতুন করে কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবারই ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহের নির্ধারিত দিন। হাই কোর্ট আপাতত তাঁর আবেদনে সাড়া না দেওয়ায়, পরবর্তী পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও আইন মহলের।



