
পঞ্চায়েত ও লোকসভা নির্বাচনের পর ফের আইনি প্যাঁচে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া ৮টি মামলায় নতুন করে কোনো অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দিল না কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, এখনই কোনো সার্বিক সুরক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়। স্বাভাবিকভাবেই উচ্চ আদালতের এই পর্যবেক্ষণে এক ধাক্কায় চাপ অনেকটা বেড়ে গেল ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের ওপর।
শুভেন্দু অধিকারীর দৃষ্টান্ত টেনে আদালতে কড়া সওয়াল কপিল সিব্বলের
আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে সওয়াল করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী তথা প্রবীণ রাজনীতিবিদ কপিল সিব্বল। শুনানিপর্বে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রসঙ্গ টেনে তিনি জোর সওয়াল পেশ করেন।
সিব্বল আদালতে যুক্তি দেন: “রাজ্যের বর্তমান বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে মোট ১৭টি মামলায় রক্ষাকবচ দিয়েছিল এই হাইকোর্টেই। শুধু তা-ই নয়, ভবিষ্যতে যাতে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো এফআইআর (FIR) দায়ের না করা হয়, সে ব্যাপারেও নির্দেশ ছিল। তা হলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্ষেত্রে কেন একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে না?”
অভিষেকের আইনজীবীর দাবি ছিল, তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া সমস্ত মামলাগুলোকে একত্রিত করে একটি সার্বিক রক্ষাকবচ প্রদান করা হোক।
‘সব মামলা একত্রিত করে রক্ষাকবচ কীভাবে সম্ভব?’— প্রশ্ন বিচারপতির
আইনজীবী কপিল সিব্বলের যুক্তির তীব্র বিরোধিতা ফুটে ওঠে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণে। বিচারপতি প্রশ্ন তোলেন, সবকটি ভিন্ন ভিন্ন মামলাকে একসঙ্গে যুক্ত করে কীভাবে রক্ষাকবচ দেওয়া যেতে পারে?
বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এজলাসে জানান:
মামলার ভিন্নতা: ৮টি মামলার চরিত্র ও বিষয়বস্তু আলাদা। তাই সবকটিকে একসঙ্গে মিশিয়ে সার্বিক নির্দেশ জারি করা আইনানুগ নয়।
রক্ষাকবচ নয় আজ: আজ অর্থাৎ শুনানির দিনই নতুন করে কোনো অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে না।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পিছোল শুনানি: আইনি অনিশ্চয়তায় অভিষেক
আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত কোনো সুরক্ষা না পেলেও মামলার শুনানি শেষ হয়ে যায়নি। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এই সংক্রান্ত শুনানি স্থগিত রাখা হয়েছে।
ফলে আগামী বৃহস্পতিবারের শুনানি না হওয়া পর্যন্ত এক প্রকার আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যেই থাকতে হচ্ছে তৃণমূলের দ্বিতীয় প্রধান মুখকে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI/ED) বা রাজ্য পুলিশের পদক্ষেপে কোনো বাধা থাকবে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।



