নদীয়ারাজনীতি

চাপড়ায় মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’, কালো পতাকা; একই দিনে নিরাপত্তা দিল হাই কোর্ট

ওয়েবডেস্ক

চাপড়ায় মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে ‘গো ব্যাক’, কালো পতাকা; একই দিনে নিরাপত্তা দিল হাই কোর্ট - West Bengal News 24
চাপড়ায় তৃণমূলের কর্মী সম্মেলন শেষে মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে কালো পতাকা ও গো ব্যাক স্লোগানের অভিযোগ

নদিয়ার চাপড়ায় তৃণমূলের কর্মী সম্মেলন শেষে মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, বিক্ষোভের মুখে পড়লেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তাঁর গাড়ি ঘিরে কালো পতাকা দেখানো এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই দিনে কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে মহুয়া মৈত্র সফর করলে তাঁর সঙ্গে অতিরিক্ত দু’জন পুলিশকর্মী মোতায়েন করতে হবে।

কী ঘটেছিল চাপড়ায়?

মঙ্গলবার নদিয়ার চাপড়ায় তৃণমূলের একটি কর্মী সম্মেলনে যোগ দেন মহুয়া মৈত্র। দলীয় কর্মসূচি শেষে তিনি বেরিয়ে যাওয়ার সময় একদল মানুষ তাঁর গাড়ির সামনে জড়ো হন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁদের হাতে কালো পতাকা ছিল এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান ওঠে।

পরিস্থিতি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তির পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছিল বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে।

মহুয়া মৈত্রের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাঁর গাড়িতে চড়-চাপড় মারা এবং সেটি ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়। তবে এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া যায়নি; তাই ঘটনাটিকে গাড়িতে হামলার অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বিক্ষোভের জন্য কাকে দায়ী করলেন মহুয়া?

ঘটনার পর মহুয়া মৈত্র বিক্ষোভের নেপথ্যে বিজেপি এবং তৃণমূল ছেড়ে অন্য শিবিরে যাওয়া নেতাদের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, দলীয় সংগঠনকে শক্তিশালী করার উদ্দেশ্যেই চাপড়ায় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছিল এবং সেই কর্মসূচি সফল হয়েছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণও এই ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মহুয়ার সঙ্গে স্থানীয় বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়ক জাবের শেখের তীব্র বাকবিতণ্ডার কথাও উঠে এসেছে। শেখ বর্তমানে বিরোধী শিবিরের সঙ্গে রয়েছেন বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজেপির পাল্টা বক্তব্য কী?

মহুয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব। চাপড়া বিজেপির আইটি সেলের দায়িত্বে থাকা গোপাল দাস এবং স্থানীয় বাসিন্দা অম্বরজিৎ রায় দাবি করেছেন, এই বিক্ষোভ বিজেপির পরিকল্পিত কর্মসূচি নয়।

তাঁদের পাল্টা অভিযোগ, এলাকার অশান্তি, মাদক ব্যবসা ও তোলাবাজির রাজনীতির জন্য মহুয়া মৈত্রকে দায়ী করা উচিত। তাঁরা আরও দাবি করেছেন, হিন্দু দেবদেবীকে নিয়ে মহুয়ার কথিত মন্তব্যের প্রতিবাদেই সাধারণ মানুষ কালো পতাকা দেখিয়েছেন। এই অভিযোগগুলিও রাজনৈতিক পক্ষগুলির বক্তব্য; স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা হয়নি।

মহুয়া মৈত্রের নিরাপত্তা নিয়ে হাই কোর্টের নির্দেশ

চাপড়ার ঘটনার পাশাপাশি মঙ্গলবারই মহুয়া মৈত্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেয় কলকাতা হাই কোর্ট।

বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের নির্দেশ অনুযায়ী, মহুয়া মৈত্র যখনই তাঁর কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে প্রবেশ করবেন, তখন তাঁর সঙ্গে দু’জন পুলিশকর্মী মোতায়েন করতে হবে। এই অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আপাতত ৩০ দিনের জন্য বহাল থাকবে।

আদালত জানিয়েছে, নিজের লোকসভা কেন্দ্রে যাওয়ার তারিখ আগে থেকে পুলিশকে জানাতে হবে মহুয়াকে, যাতে সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা যায়। মামলাটির পরবর্তী শুনানি ১ অক্টোবর

কেন নিরাপত্তা চেয়েছিলেন মহুয়া?

নিজের সংসদীয় এলাকায় সফরের সময় বারবার বিক্ষোভ ও হয়রানির মুখে পড়ার অভিযোগ তুলে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, ডিম, আলু, টম্যাটো ও পাথর ছোড়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে এবং এর ফলে সাংসদ হিসেবে নিজের এলাকায় কাজ করতেও সমস্যা হচ্ছে।

রাজ্যের তরফে আদালতে জানানো হয়েছিল, মহুয়া সাংসদ হিসেবে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা পান এবং তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশি পদক্ষেপও করা হয়েছে। তবে আদালত প্রশ্ন তোলে, নিরাপত্তা থাকা সত্ত্বেও যদি এই ধরনের ঘটনা ঘটে, তাহলে অতিরিক্ত ব্যবস্থা কেন প্রয়োজন হবে না।

এরপরই সীমিত সময়ের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেয় আদালত।

গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও তথ্য

  • ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: চাপড়ায় মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে বিক্ষোভ।
  • ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে সফরের সময় অতিরিক্ত নিরাপত্তার নির্দেশ।
  • ৩০ দিন: আদালতের নির্দেশে অতিরিক্ত দু’জন পুলিশকর্মী মোতায়েনের সময়সীমা।
  • ১ অক্টোবর ২০২৬: নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি।

এরপর কী হতে পারে?

এখন নজর থাকবে কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে মহুয়া মৈত্রের পরবর্তী সফরগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কীভাবে কার্যকর হয় এবং বিক্ষোভের ঘটনায় পুলিশ কোনও নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেয় কি না, তার দিকে।

একই সঙ্গে ১ অক্টোবরের শুনানিতে রাজ্যের পক্ষ থেকে কী রিপোর্ট দেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা আরও বাড়ানো হবে কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। তবে এই মুহূর্তে ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত নিয়ে নিশ্চিত কোনও দাবি করার সুযোগ নেই।

ঘটনাটির রাজনৈতিক তাৎপর্য

চাপড়ার ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল, যখন মহুয়া মৈত্রের নিরাপত্তা নিয়ে আদালতে শুনানি চলছিল এবং একই দিনেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফলে ঘটনাটি স্থানীয় রাজনৈতিক সংঘাতের পাশাপাশি নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

তবে বিক্ষোভের নেপথ্যে বিজেপির সরাসরি ভূমিকা ছিল কি না, কিংবা গাড়িতে প্রকৃতপক্ষে ভাঙচুরের চেষ্টা হয়েছিল কি না—এই দুই বিষয়েই বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য পরস্পরবিরোধী। তাই তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া কোনও পক্ষের অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।



FAQ

চাপড়ায় মহুয়া মৈত্রকে ঘিরে কী হয়েছিল?

১ সেপ্টেম্বর তৃণমূলের কর্মী সম্মেলন শেষে মহুয়া মৈত্র বেরোনোর সময় তাঁর গাড়ি ঘিরে কালো পতাকা দেখানো এবং ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি ঘিরে উত্তেজনাও তৈরি হয়।

মহুয়া মৈত্রের গাড়িতে হামলা হয়েছিল কি?

মহুয়া মৈত্রের পক্ষ থেকে গাড়িতে চড়-চাপড় এবং ভাঙচুরের চেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীন নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি, তাই এটিকে অভিযোগ হিসেবেই উল্লেখ করা হচ্ছে।

মহুয়া মৈত্র বিক্ষোভের জন্য কাকে দায়ী করেছেন?

মহুয়া বিজেপি এবং তৃণমূল ছেড়ে অন্য শিবিরে যাওয়া নেতাদের মদতের অভিযোগ করেছেন। বিজেপির স্থানীয় প্রতিনিধিরা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মহুয়া মৈত্রের নিরাপত্তা নিয়ে হাই কোর্ট কী নির্দেশ দিয়েছে?

কৃষ্ণনগর লোকসভা কেন্দ্রে মহুয়া মৈত্র প্রবেশ করলে তাঁর সঙ্গে দু’জন পুলিশকর্মী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। এই ব্যবস্থা আপাতত ৩০ দিনের জন্য।

পরবর্তী শুনানি কবে?

মহুয়া মৈত্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলার পরবর্তী শুনানি ১ অক্টোবর ২০২৬ নির্ধারিত হয়েছে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button