
নয়াদিল্লি : শুধু কাশি, গলা ব্যথা, জ্বর বা শ্বাসকষ্টই নয়। করোনা নিয়ে আসছে একের পর এক উপসর্গ। নিত্য নতুন উপসর্গ নিয়ে রীতিমত চিন্তিত বিজ্ঞানী ও চিকিত্সকরা। এবার জানা গিয়েছে পেটে ব্যথা নিয়েও দেখা দিতে পারে করোনা।
পেটে ব্যাথা হলে সাধারণত হজমের গোলমাল বা গ্যাসের সমস্যা বলে ধরে নিই আমরা। কিন্তু আরও নানা কারণে পেটে ব্যথা হতে পারে। চিকিত্সকরা বলছে এই ধরণের ব্যথা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেও হয়। এর নাম দেওয়া হয়েছে গ্যাস্ট্রো করোনা। নিজের ট্যুইটার হ্যান্ডেলে ডঃ ফার্ন রিডল নামে এক মহিলা এই তথ্য দিয়েছেন। তিনি নিজে এই উপসর্গের শিকার।
গ্যাস্ট্রো করোনা ভাইরাসের লক্ষণ হল পেটে তীব্র ব্যথা। বিজ্ঞানীরা বলছেন শ্বাসযন্ত্র বা ফুসফুসে না হামলা চালিয়ে এই ভাইরাস পেটে আক্রমণ করছে। সাম্প্রতিক সমীক্ষা বলছে এতে কাশি বা সর্দি বা ঠাণ্ডা লাগার কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। আমেরিকান জার্নাল অফ গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি জানাচ্ছে এক্ষেত্রে হজমের গোলমাল দেখা যায়। হতে পারে ডায়েরিয়া।
গবেষকরা জানাচ্ছেন ২০৬ জন রোগি, যারা কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত, তাদের মধ্যে ৪৮ শতাংশ পেটের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। চিনের হুবেই প্রদেশে এই ঘটনা ঘটেছে। তাদের ডায়েরিয়া, বমি ও তলপেটে ব্যথা ছিল। এরা প্রত্যেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। বলা হচ্ছে এটি ফুসফুসের নীচের অংশের নিউমোনিয়ার একটি ভার্সন।
তবে চিকিত্সকরা বলছেন গ্যাস্ট্রো করোনার উপসর্গ সাময়িক। তারপরেই জ্বর, সারা শরীরে ব্যথা ও কাশি শুরু হয়।
এদিকে, বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আবার নতুন করে একঝাঁক মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। আর সেটা বর্ষাকালে অর্থাত্ জুলাই-অগাস্ট মাসে। ততদিনে ভারত যদি যথাযথ সোশ্যাল ডিসট্যান্সিং বজায় রাখতে না পারে, তাহলেই সমস্যা আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
শিব নাদার ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক সমিত ভট্টাচার্য বলেন, ‘প্রত্যেকদিনের নতুন আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে গিয়েছে। এবার সংখ্যাটা কমতেও শুরু করবে। তাঁর আশঙ্কা, জুলাই-অগস্টে ফের আক্রান্ত হবেন অনেকে, যাকে বলা হয় সেকেন্ড ওয়েভ।
সুত্র:কলকাতা24×7



