কলকাতা

চার দিনের শিশুকন্যাকে বিষ খাইয়ে মারল বাবা ও ঠাকুমা !

চার দিনের শিশুকন্যাকে বিষ খাইয়ে মারল বাবা ও ঠাকুমা ! - West Bengal News 24

 

ওয়েবডেস্ক : কন্যা ভ্রুণ ও শিশুকন্যা হত্যার ঘটনা ভারতে নতুন নয়, বরং তা দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। রেহাই মেলেনি এই লকডাউনেও। এবার ঠাকুমা এবং বাবা মিলে হত্যা করল চারদিনের এক শিশুকন্যাকে। ঘটনাটি ঘটেছে মাদুরাইতে। অভিযোগ জন্মের চার দিন পরে তাকে হত্যা করে রটিয়ে দেওয়া হয়, অজানা অসুখে মারা গেছে শিশুটি!

স্থানীয় সূত্রের খবর, মাদুরাইয়ের শোলাভান্ডানে থাকতেন স্বামী-স্ত্রী, ধাভামনি ও চিত্রা। কিছুদিন আগেই এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেয় চিত্রা। এটি ছিল তাদের চতুর্থ সন্তান। কিছু দিন পরেই প্রতিবেশীরা জানতে পারেন চিত্রার সেই সন্তান মারা গেছে। কোনও এক অজানা অসুখে নাকি মৃত্যু হয়েছে তার। একথা শুনেই সন্দেহ দানা বাঁধে প্রতিবেশীদের মনে।

তাঁরা খবর দেন গ্রামের স্থানীয় প্রশাসককে। খবর পৌঁছয় মাদুরাই থানাতেও। পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তেই জানা যায় শিশুকন্যাটিকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে পুলিশি জেরার মুখে ভেঙে পড়ে শিশুটির খুনী বাবা ধাভামনি। সে স্বীকার করে, সে এবং তার মা পন্দিয়াম্মল- দু’জনে মিলে শিশুটিকে হত্যা করেছে।

সদ্যপ্রসূতি মা চিত্রা এই ব্যাপারে কিছুই জানেন না। ৩৫ বছরের ধাভামনি পুলিশের জেরায় জানায়, কন্যাসন্তান নিয়ে তার পরিবারের আপত্তি ছিল শুরু থেকেই। তাই শিশুটি জন্মানোর পরেই তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। সেইমতো তারা বাচ্চাটিকে বিষাক্ত একটি ভেষজ খাইয়ে দেয়। চিত্রা তখন অন্য কোন কাজে ব্যস্ত ছিল, সেই সুযোগেই এই কাজটি তারা করে।

বিষ খাওয়ানোর পরে পরেই তারা গ্রামের স্থানীয় নার্সকে খবর দেয়। কিন্তু ততক্ষণে বিষ ছড়িয়ে পড়ে নীল হয়ে গেছে একরত্তি ছোট্ট শরীর। তার পরে সুপরিকল্পিতভাবে রটিয়ে দেওয়া হয় চিকিত্‍সা শুরুর আগেই শিশুটি মারা গেছে। বস্তুত, এই অঞ্চলে শিশুকন্যা হত্যা নতুন নয়। গত দু’মাসে সেখানে তিনটি কন্যা শিশু হত্যার খবর রয়েছে।

এর আগে মার্চ মাসে, মাদুরাই জেলাতেই একই রকম অপরাধের কথা জানা গিয়েছিল। এক মাসের এক শিশুকন্যাকে তার নিজের বাবা-মা হত্যা করেছিল। মাদুরাইয়ের সেদাপট্টি থেকেও শিশুকন্যা হত্যার একটি ঘটনা জানা গেছে। এক সপ্তাহের এক শিশুকে তার বাবা-মা হত্যা করে তাদের বাড়ির উঠোনে পুঁতে দিয়েছিল।

শিশুটি ছিল এই দম্পতির তৃতীয় কন্যা। সে ক্ষেত্রেও রটিয়ে দেওয়া হয়েছিল মায়ের বুকের দুধ খেতে গিয়ে শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছে শিশুটি। করোনা আতঙ্কের কারণে গোটা দেশজুড়ে জারি হয়েছে লকডাউন। চতুর্থ পর্যায়ের লকডাউন শুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে। কিন্তু এর মধ্যেও স্বস্তি নেই। লকডাউন পরবর্তী সময়ে মহিলাদের ওপর অত্যাচারের ঘটনা অনেকটাই বেড়েছে বলে জানিয়েছে সমীক্ষা। এবার বাদ গেল না দুধের শিশুও।

সুত্র: THE WALL

আরও পড়ুন ::

Back to top button