
দীর্ঘ চাপানউতোর, রাজনৈতিক বিতণ্ডা, প্রকল্প গ্রহণ করা না করা নিয়ে নবান্ন-দিল্লি সংঘাতের অবসান। পিএম কিষান সম্মান নিধির প্রথম কিস্তির টাকা পেলেন বাংলার কৃষকরা। এদিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পিএম কিষান সম্মান নিধির অষ্টম কিস্তির অর্থ প্রদান করেন। তাতেই বাংলার কৃষকদের এই প্রকল্প পাওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে সারা দেশের প্রায় ১০ কোটি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সরাসরি ১৯ হাজার কোটি টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। বাংলার লক্ষ লক্ষ কৃষক এই প্রথম এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে চলেছেন।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘রাজ্য সরকার এরপর যেমন যেমন নাম পাঠাবে তেমন তেমন কিস্তি তাঁদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে।’ বাংলার ভোটের আগে বিজেপির অন্যতম প্রতিশ্রুতি ছিল, সরকারে এলেই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে রাজ্যের কৃষকদের জন্য পিএম কিষান সম্মান নিধি প্রকল্প বলবত্ হবে। সেইসঙ্গে একের পর এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন, বাংলার কৃষকরা যে সাত কিস্তির টাকা পাননি সেই বয়েকা ১৪ হাজার টাকাও তাঁরা পাবেন।
রাজ্যের কৃষকরা এই প্রকল্পের সুবিধা না পাওয়ায় বিজেপির অভিযোগ ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একগুঁয়েমির জন্যই এই সুবিধা থেকে বাংলার চাষিরা বঞ্চিত। যদিও মুখ্যমন্ত্রী গতকাল কৃষকদের উদ্দেশে চিঠি লিখে বলেন, ‘দীর্ঘ টালবাহানা ও নানা অজুহাত দেখিয়ে দিল্লির সরকার প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান প্রকল্পের টাকা দিচ্ছিল না। আপনাদের প্রাপ্য ছিল ১৮ হাজার টাকা। কিন্তু এই টুকুও পেতেন না যদি না আমরা আপনাদের হয়ে লড়াই করতাম।’
চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী আরও লিখেছেন, আপনারা চিন্তা করবেন না। আমরা আপনাদের প্রাপ্য বকেয়া আদায়ের জন্য লড়াই করব। প্রধানমন্ত্রী যে বকেয়া টাকা দেওয়ার কথা বলেছিলেন, তা কবে কীভাবে দেওয়া হবে সে ব্যাপারে এখনও কিছু স্পষ্ট নয়। এদিন ভার্চুয়াল বক্তৃতাতেও সে ব্যাপারে কিছু বলেনননি প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর এই ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন মেঘালয় থেকে আন্দামান, মহারাষ্ট্র থেকে কাশ্মীর-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের কৃষকরা।
ওই অনুষ্ঠান শেষ হওয়া মাত্রই রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর টুইট করে জানিয়েছে, বাংলার সাত লক্ষ কৃষক এই প্রথম পিএম কিষান সম্মান প্রকল্পের টাকা পেলেন। তাঁদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা ট্রান্সফার করা হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থে রাজ্য লড়াই চালিয়ে যাবে। সেইসঙ্গে এও বলা হয়েছে, এদিনের ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে রাজ্য কোনও আমন্ত্রণ পায়নি।
সুত্র: দ্য ওয়াল



