
এক আধ কোটি নয়, পুরো ১৩৫ কোটি টাকা। এই বিশাল অঙ্কের টাকা তোলা হয়েছে বেকার যুবকদের কাছ থেকে। কাউকে বলা হয়েছিল প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হবে। কাউকে বা বলা হয়েছিল আপার প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক পদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া হবে। আবার কাউকে বা বলা হয়েছিল রাজ্য সরকারের গ্রুপ ডি পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়া হবে। আর সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েই ১৩৫ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল।
সেই প্রতারণা কাণ্ডেই এবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হল অলোক মাইতি নামে এক যুবক যে কিনা পূর্ব মেদিনীপুর জেলার রাজনীতিতে শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ হিসাবেই পরিচিত। বুধবার রাতে জেলার সদর মহকুমার ময়না থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার অভিযুক্তকে তমলুক আদালতে তোলা হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, অলোক মাইতি ময়নার আড়ংকিয়ারানার বাসিন্দা। কয়েক বছর ধরেই সে প্রাইমারি, আপার প্রাইমারি এমনকি গ্রুপ ডির বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নাম করে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা প্রতারণা করেছে কয়েক শো মানুষের সঙ্গে। পরে স্থানীয় এক ব্যক্তির অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার সন্ধ্যায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে পাঠান তদন্তকারী অফিসাররা। প্রায় চার ঘন্টা ধরে সেই জিজ্ঞাসাবাদের পর অলোকের বক্তব্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি পাওয়া যায়। তারপরেই তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, পুলিশের খাতায় আগেও প্রতারণার নামে অভিযোগ উঠেছিল অলোকের বিরুদ্ধে। কিন্তু, যথোপযুক্ত প্রমাণ না থাকায় তাকে তখন গ্রেফতার করা যায়নি। এখন তদন্তকারীদের দাবি, অলোককে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের স্টেটমেন্ট থেকে এবং বেশ কিছু স্ট্যাম্পপেপারে লিখিত চুক্তিপত্রের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে।
এখনও পর্যন্ত প্রায় ১৩৫ কোটি টাকার হিসেব মিলেছে। গত সাত দিনে ওই সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা জমা পড়েছে। এই বিপুল অংকের টাকার সিংহভাগটাই গেছে রাজ্যের কয়েকজন প্রভাবশালীদের কাছে।
গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, চাকরি দেওয়ার নাম করে এবং চাকরি পাইয়ে দেওয়ার পর মোটা অঙ্কের টাকা নিতেন অলোক। সেই টাকার সিংহভাগ যেত রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রীদের পকেটে। তবে কে বা কারা এর নেপথ্যে রয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছিলেন, প্রাইমারি আপার প্রাইমারি নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনও সুপারিশ করা যাবে না। মেধার ভিত্তিতে যোগ্যরা চাকরি পাবে।
প্রশ্ন উঠছে তারপরেও কী করে এই প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছিল অলোক? তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অলোককে টাকা দিয়ে অনেকেই চাকরি পেয়েছিল। সেই সুপারিশ ধরেই অনেক চাকুরিপ্রার্থী যোগাযোগ করতেন অলোকের সঙ্গে। এইভাবে, কোটি টাকার প্রতারণা করেন অলোক।
সব থেকে বড় কথা বরাবরই শুভেন্দুর হয়ে কাজ করেছেন অলোক। শুধু তাই নয়, বিজেপি নেতা কর্মীদের সঙ্গে বহুদিন ধরেই গোপন যোগাযোগ ছিল অলোকের। এদিন জেলা আদালতের বিচারক অলোক মাইতিকে ১০ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
সূত্র : এই মুহুর্তে



