বিচিত্রতা

কথা না শোনায় মেয়েকে নির্জন দ্বীপে নিলেন বাবা-মা

কথা না শোনায় মেয়েকে নির্জন দ্বীপে নিলেন বাবা-মা - West Bengal News 24

১৩ বছরের মেয়ে, অথচ বাবা-মায়ের কথা শোনে না। এ থেকে নিস্তার পেতে মেয়েকে শিক্ষা দেওয়ার কথা ভাবেন বাবা-মা। নিয়ে যান একটি নির্জন দ্বীপে। কিন্তু, শিক্ষা নেওয়া তো দূরে থাক; বাবা-মা’র মনোযোগ অন্যদিকে থাকায় নিজেকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেয় মেয়েটি। জেলেদের কাছে বিপদ সংকেত পাঠিয়ে নিজেকে উদ্ধার করিয়েছে সে।

ঘটনাটি ঘটেছে চীনে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে বেশ আলোচনাও হয় দেশটিতে। কয়েকটি গণমাধ্যমে বেশ ফলাও করে প্রতিবেদনও প্রকাশিত হয়।

চীনা সংবাদমাধ্যম থেকে জানা গেছে, যে দ্বীপে মেয়েটিকে নিয়ে গিয়েছিলেন তার বাবা-মা, সেটি শানডং প্রদেশের ওয়েইহাই শহরের ভূখণ্ড থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। মেয়েটির পাঠানো সংকেত দেখে জেলেরা কাছে গেলে সে উপকূলে ফিরতে আবেদন করে।

মেয়েটি জেলেদের কাছে জানায়, ওই দ্বীপে দাঁড়াতে পারছে না সে। নির্জন দ্বীপটি তাকে টিকে থাকতে বাধ্য করছে তার বাবা-মা। তাদের কাছে কেবল পানি ও বিস্কুট আছে। আগুনও জ্বালাতে পারেনি তারা। জেলেরা তাকে উপকূলে নিয়ে যাবে কিনা। আবেদন শুনে জেলেরা তার খবর পৌঁছে দেয় স্থানীয় পুলিশের কাছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ওই দ্বীপে পৌঁছালে মেয়েটি জানায়, তার বাবা-মা তাকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে নিয়ে এসেছে। কিন্তু মেয়েটির বাবা-মায়ের ভাষ্য ভিন্ন। তারা জানান, তাদের মেয়ে কথা শোনে না। স্কুল থেকেও ছিটকে পড়েছে। খাবার সময় ছাড়া নিজের ঘরের বাইরে বের হতে চায় না। তাদের মনে হতে থাকে মেয়েটি তার সম্ভাবনা নষ্ট করছে। অনেক চেষ্টা করেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি ঘটাতে না পেরে তারা তাকে নির্জন দ্বীপে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাদের তাবি, মেয়েকে কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার কৌশল শেখাতেই নিয়ে গেছেন তারা।

তারা এও জানান এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তারা একজন সারভাইবাল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেন। এর মাধ্যমে মেয়ের সম্ভাবনাকে জাগিয়ে তুলতে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলতে চেয়েছেন তারা।

ওয়েইহাই শহরের পুলিশ জানিয়েছে, দ্বীপে পৌঁছে মেয়েটির বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বললে প্রথমে তারা মেয়েকে নিয়ে উপকূলে ফিরতে অস্বীকৃতি জানান। তারা দাবি করেছেন, প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতিসহ একজন সারভাইবাল বিশেষজ্ঞও দ্বীপে নিয়ে গিয়েছিলেন তারা। মেয়েকে শিক্ষা দেওয়ার প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে চান তারা। বাবার দাবি, তার মেয়ে ইতোমধ্যেই জেলেদের সঙ্গে যোগাযোগ করার মতো উন্নতি করতে পেরেছে, অথচ এক সময় সে কোনো কথাই বলতে চাইতো না। তবে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হস্তক্ষেপে মেয়েকে নিয়ে নিজেদের বাড়িতে ফিরে যেতে হয়েছে তাদেরকে।

আরও পড়ুন ::

Back to top button