অপরাধবিচিত্রতা

অনলাইনে ভাইব্রেটার অর্ডার দিতেই ডেলিভারি বয়ের কুপ্রস্তাব, ‘এসব কেন, আমি তো আছি’!

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

অনলাইনে ভাইব্রেটার অর্ডার দিতেই ডেলিভারি বয়ের কুপ্রস্তাব, ‘এসব কেন, আমি তো আছি’! - West Bengal News 24

অনলাইনে যৌন খেলনা বা ‘ভাইব্রেটার’ অর্ডার করে চরম হেনস্তার শিকার হলেন দিল্লির এক তরুণী। সিল ছেঁড়া পার্সেল ফেরত দিতে যাওয়াই যেন কাল হলো তাঁর! ডেলিভারি বয়ের এমন অশালীন ও লজ্জাজনক মন্তব্যে তোলপাড় সমাজমাধ্যম। ঠিক কী ঘটেছিল? জেনে নিন বিস্তারিত।

আজকালকার ব্যস্ত জীবনে গোপনীয়তা বজায় রেখে যেকোনো জিনিস অনলাইনেই কেনা সম্ভব। দিল্লির ওই তরুণীও সেই ভরসাতেই একটি নামী ই-কমার্স অ্যাপ থেকে নিজের জন্য একটি ‘ভাইব্রেটার’ (Vibrator) অর্ডার করেছিলেন। যথাসময়ে পার্সেলটি তাঁর বাড়িতে পৌঁছায়। কিন্তু তরুণী লক্ষ্য করেন, পার্সেলটির সিলটি আগেই কেউ বা কারা ছিঁড়ে ফেলেছে।

প্যাকিং ঠিক না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই তিনি পণ্যটি ফেরত (Return) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু অ্যাপে কোনো অভিযোগ জানানোর আগেই তাঁর ফোনে একটি কল আসে। ফোনটি করেছিলেন স্বয়ং ওই ডেলিভারি বয়।

তরুণীর দাবি অনুযায়ী, ফোনটি রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে ডেলিভারি বয় অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশালীন মন্তব্য করা শুরু করেন। পার্সেলের ভেতরে কী আছে তা কোনোভাবে জেনে ফেলেছিল ওই যুবক। তরুণী জানান, ডেলিভারি বয় তাঁকে সরাসরি বলেন: “এইসব কেন ব্যবহার করেন ম্যাডাম? আমি তো আছি। আমাকে ব্যবহার করুন। খুব মজা হবে।”

এই আকস্মিক ও কুরুচিকর কুপ্রস্তাব শুনে স্তব্ধ হয়ে যান তরুণী। নিজের ঘরের ভেতরেও একজন নারী কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে বড়সড় ধাক্কা খান তিনি।

যুবকের এই চরম ধৃষ্টতা মুখ বুজে সহ্য করেননি ওই তরুণী। তিনি তৎক্ষণাৎ রাগে ফেটে পড়েন এবং ওই ডেলিভারি বয়ের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ ও সংস্থায় অভিযোগ জানানোর কড়া হুঁশিয়ারি দেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং আইনি বিপাকের ভয়ে সঙ্গে সঙ্গে সুর নরম করে ওই যুবক। ফোনেই তরুণীর কাছে ক্ষমা চাইতে শুরু করে সে।

ঘটনাটি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ হতেই ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়ে যায়। নেটিজেনদের একাংশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলছেন, এটি কেবল সাধারণ কোনো অভদ্রতা নয়, এটি সরাসরি ‘যৌন হেনস্তা’ (Sexual Harassment)-র শামিল। গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য এবং কেনাকাটার গোপনীয়তা কীভাবে একজন ডেলিভারি বয়ের কাছে এভাবে ফাঁস হয়ে গেল, তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে শোরগোল পড়ে যেতেই নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট ই-কমার্স সংস্থাটি। ঘটনার ভয়াবহতা ও জনরোষের কথা মাথায় রেখে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। সংস্থার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই তরুণীর কাছে দুঃখপ্রকাশ ও ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অভিযুক্ত ডেলিভারি বয়কে চাকরি থেকে বরখাস্ত (Terminated) করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনাটি বর্তমান ডিজিটাল যুগের অন্ধকার দিকটিকে আবারও সামনে এনে দাঁড় করিয়েছে:

  • ডেটা প্রাইভেসি কোথায়? একজন গ্রাহক কী অর্ডার করছেন, তা ডেলিভারি পার্টনার কীভাবে জানতে পারল? প্যাকেজিং কি এতটাই দুর্বল ছিল?

  • মহিলাদের নিরাপত্তা: পার্সেল ডেলিভারির সূত্র ধরে গ্রাহকের ফোন নম্বর ও বাড়ির ঠিকানা ডেলিভারি বয়দের কাছে থাকে। এই অবস্থায় নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে কে?

ডিজিটাল দুনিয়ায় এই ধরণের ঘটনা রুখতে ই-কমার্স সংস্থাগুলোর আরও কঠোর নিয়মাবলী এবং ডেলিভারি কর্মীদের ব্যাকগ্রাউন্ড ভেরিফিকেশন (Background Verification) করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন ::

Back to top button