অলিম্পিকের মশালধারী পিঙ্কিকে ভুলে গেছে সরকার, আজ সে অসমের এক চা বাগানের শ্রমিক

২০১২-র লন্ডন অলিম্পিকে মশাল হাতে দৌড় শুরু করা কিশোরীর ভবিষ্যত্ যেন আচমকাই থমকে গেছে। সেই সেদিনের পর দু দুটে অলিম্পিক গেমস হয়ে গেছে। বদলেছে খেলার দুনিয়ার প্রেক্ষাপট। শুধু শূন্যতেই থেকে গিয়েছেন পিঙ্কি কর্মকার (Pinky Karmakar)। বয়স বেড়েছে সংসারের ব্যাটন এখন তাঁর হাতে। ইউনিসেফের মশাল বাহিকা কিশোরী আজ অসমের এক চা বাগানের শ্রমিক।
দৈনিক বেতন ১৬৭ টাকা। বৃদ্ধ বাবা ছোট দুই বোন ও এক ভাইয়ের অভিভাবক তিনি। তাঁর উপার্জনেই কোনওরকমে চলে সংসার। ২০১২-র পর গোটা একটা দশক কেটে গেছে, পিঙ্কিকে কেউ মনে রাখেনি। প্রতিশ্রুতি দিয়েও ভুলেছে অসম সরকার।
মায়ের মৃত্যুর পর ছাড়তে হয়েছে পড়াশোনা। আর কলেজে যাওয়া হয়নি। সংসার চালাতে চা শ্রমিকের কাজই বেছে নিয়েছেন তিনি। এতদিনে পিঙ্কি কর্মকারের উপলব্ধি, শ্রমিকের মেয়ে শ্রমিকই হয়। একটা সময় বিরাট স্বপ্ন দেখতেন এই অহমিয়া কন্যা।
কিন্তু মায়ের মৃত্যু তাঁকে বাস্তবের কঠিন মাটিতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। মায়ের মৃত্যুতে স্বপ্ন দেখা ভুলেছেন। স্কুলে এক সময় ইউনিসেফের খেলের উন্নয়ন প্রোগ্রাম চালাতেন পিঙ্কি। সন্ধেবলায় মহিলাদের পড়াশোনা শেখাতেন। সেসব আজ অতীত। সে যাইহোক পিঙ্কির গায়ে এখন ব্যর্থতার ছাপ্পা লেগেছে।
এখন আর কাউকেই কোনও পরামর্শ দেন না তিনি। তাহলেই তো সবাই জানতে চাইবে, পিঙ্কি এতকিছু করে ঠিক কী অর্জন করলেন? পিঙ্কির দাবি, UNICEF ও সরকার একযোগে তাঁকে ভুলে গেছে। এখন শুধু মাত্রই চা বাগানে উদয়াস্ত পরিশ্রম করে ১৬৭ টাকা নিত্য বাড়ি নিয়ে আসা ও পরিবারের দেখভাল করাই পিঙ্কির মূল লক্ষ্য।
সূত্র : লেটেস্ট লি



