আন্তর্জাতিক

‘পরমাণু বোমার দোরগোড়ায় ইরান’, IAEA-র হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে বাড়াল উত্তেজনা

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

‘পরমাণু বোমার দোরগোড়ায় ইরান’, IAEA-র হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে বাড়াল উত্তেজনা - West Bengal News 24

‘আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার পরেও ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়নি’ — আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ প্রকাশ করল ‘ইন্টারন্যাশনাল অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি (IAEA)’। সংস্থার প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানিয়েছেন, ইরান হয়তো খুব শীঘ্রই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ আবার শুরু করতে পারে। আর তার অর্থ, পরমাণু অস্ত্র তৈরির খুব কাছেই পৌঁছে যেতে পারে তেহরান। এই সতর্কবার্তা এমন এক সময় এল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্ব মঞ্চে দাবি করছেন, ইরানের পরমাণু কেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে IAEA প্রধান রাফায়েল গ্রোসি বলেন, “মার্কিন হামলার ইরানের কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঠিকই, কিন্তু পুরো কাঠামো এখনও অক্ষত রয়েছে। ফলে ইরান চাইলে সেন্ট্রিফিউজ পুনরায় চালু করতে পারে। এবং কয়েক মাসের মধ্যেই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম তৈরি করতে পারে তারা।”

তিনি আরও বলেন, ‘ইরান উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তিসম্পন্ন দেশ। সমস্ত রকম সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি এই সংক্রান্ত জ্ঞান ও পরিকাঠামো রয়েছে ইরানের কাছে।’ তাঁর এই বক্তব্যে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে, ট্রাম্পের দাবি বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কারণ, ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছিলেন যে, ইরানের পরমাণু প্রকল্প সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং তেহরানকে কয়েক দশক পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এর আগেই জানা গিয়েছিল, মার্কিন আক্রমণের ঠিক আগে ইরান তাদের ফোরদো পারমাণবিক ঘাঁটি থেকে প্রায় ৪০০ কেজিরও বেশি ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলেছে। IAEA এই তথ্য জানিয়ে জানিয়েছিল, এই ইউরেনিয়াম প্রায় ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ। অর্থাৎ অস্ত্র তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়ামের মাত্রার একেবারে কাছাকাছি। এই পরিমাণ ইউরেনিয়াম প্রায় ৯টি পারমাণবিক বোমা তৈরির পক্ষে যথেষ্ট।

এদিকে আরেকটি বড় সিদ্ধান্তে, ইরানের পার্লামেন্ট IAEA-র সঙ্গে করা পরমাণু নজরদারি চুক্তি বাতিলের পক্ষে রায় দিয়েছে। এর ফলে, ইরান যে ‘শান্তিপূর্ণ’ উদ্দেশ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি চালাচ্ছে, তা আর আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকবে না। এর আগে উত্তর কোরিয়াও IAEA থেকে বেরিয়ে গিয়ে নিজস্বভাবে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করেছে। তাই প্রশ্ন উঠছে— এবার কি সেই পথেই হাঁটবে ইরানও?

আরও পড়ুন ::

Back to top button