রাজনীতিরাজ্য

হাই কোর্টের দ্বারে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির, ভোটের আগেই কি গ্রেফতার? তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Jahangir Khan Falta : হাই কোর্টের দ্বারে ফলতার তৃণমূল প্রার্থী ‘পুষ্পা’ জাহাঙ্গির, ভোটের আগেই কি গ্রেফতার? তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি! - West Bengal News 24

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগেই বড়সড় রাজনৈতিক মোড়। ভোটগ্রহণের আগেই গ্রেফতার হতে পারেন, এই আশঙ্কা প্রকাশ করে সোমবার সরাসরি কলকাতা হাই কোর্টের (Kolkata High Court) দ্বারস্থ হলেন ফলতার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান (Jahangir Khan)। তাঁর করা মামলার আবেদন মঞ্জুর করেছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। সোমবার দুপুর ২টোতেই এই মামলার জরুরি শুনানির দিন ধার্য হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর হুঁশিয়ারির পরেই কি এই আইনি পদক্ষেপ? তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা।

আদালতের দ্বারস্থ হয়ে জাহাঙ্গির খানের স্পষ্ট অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা এবং এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে। ভোটের আগে তাঁকে চক্রান্ত করে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

আরও পড়ুন :: ‘মানুষের সঙ্গে মিশে থাকতে চাই’, গাড়ি থেকে লালবাতি সরালেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া!

হাই কোর্টের কাছে ফলতার তৃণমূল প্রার্থীর মূল আবেদন দুটি:

  • রাজ্য পুলিশের কাছে তাঁর বিরুদ্ধে ঠিক কতগুলি মামলা এবং এফআইআর রয়েছে, তা রাজ্যকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে।

  • পুনর্নির্বাচনের আগে যাতে তাঁকে আইনি রক্ষাকবচ দেওয়া হয়, যাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করতে না পারে।

গত শনিবারই ফলতায় একটি হাইভোল্টেজ নির্বাচনী সভা করেছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেখান থেকেই ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত জাহাঙ্গির খানকে প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দেন তিনি। শুভেন্দু অধিকারী কড়া সুরে বলেছিলেন, “ভোট শেষ হোক। ওর ব্যবস্থা করব। সেই দায়িত্ব আমার।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, বিরোধী দলনেতার এই চরম হুঁশিয়ারির পর থেকেই গ্রেফতারির আশঙ্কা দানা বাঁধে জাহাঙ্গির খানের মনে। আর তার পরেই আর সময় নষ্ট না করে সোমবার সকালেই হাই কোর্টের রক্ষাকবচের আবেদন জানান তিনি।

গত কয়েক বছরে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, বিশেষত ডায়মন্ড হারবার ও ফলতার রাজনীতিতে জাহাঙ্গির খান অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেছেন। বিধানসভা ভোটে এই ডায়মন্ড হারবার পুলিশ জেলার পর্যবেক্ষক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন আইপিএস অজয়পাল শর্মা। উত্তরপ্রদেশের এই এনকাউন্টার স্পেশ্যালিস্ট আইপিএস-কে তাঁর কাজের জন্য ‘সিংহম’ (Singham) বলে ডাকা হয়।

আরও পড়ুন :: দখলমুক্ত ভেড়িতে নৌকা বাইলেন দিলীপ, মাছভাজা-মুড়িতে জমল প্রাতঃরাশ

এই পুলিশ কর্তার সঙ্গে জাহাঙ্গির খানের ঠান্ডা লড়াই এখন রাজ্য রাজনীতির হট টপিক। অজয়পাল শর্মাকে নিশানা করে জাহাঙ্গির খান ফিল্মি কায়দায় চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে বলেছিলেন: “উনি সিংহম হলেও আমিও পুষ্পা… ঝুঁকেগা নহি।”

ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোট মিটে যাওয়ার পর থেকেই বিরোধীরা বুথ দখল, ছাপ্পা ভোট এবং সন্ত্রাসের দেদার অভিযোগ তুলেছিল। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে নির্বাচন কমিশন আগামী ২১ মে ফলতার বেশ কয়েকটি বুথে পুনর্নির্বাচনের (Re-polling) সিদ্ধান্ত নেয়।

বিজেপি সহ বিরোধী শিবিরের দীর্ঘদিনের অভিযোগ:

  • ফলতা ও ডায়মন্ড হারবার লোকসভা এলাকায় জাহাঙ্গির খানের নেতৃত্বেই দেদার সন্ত্রাস, তোলাবাজি ও বুথ দখলের ঘটনা ঘটে।

  • তাঁর দাপটে বহু বিরোধী কর্মী তো বটেই, সাধারণ মানুষও এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী। তাঁর দাবি, ফলতা থেকে ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল প্রার্থীকে দেড় লক্ষ ভোটের লিড দেওয়াই তাঁর মূল লক্ষ্য। ইতিমধ্যেই শুক্রবার দলীয় কার্যালয় খুলে তিনি জানিয়ে দিয়েছেন, ভোটের জন্য তিনি সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

জাহাঙ্গিরের পাল্টা বক্তব্য, “তৃণমূল জমানায় ফলতায় আমি কী কী উন্নয়নমূলক কাজ করেছি, তার জবাব আগামী দিনে সাধারণ মানুষই ব্যালট বক্সে দেবে।” তবে ভোটের ঠিক আগের দিন হাই কোর্টের এই মামলা ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে ঘোরায়, এখন সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন ::

Back to top button