রাজ্য

‘মানুষের সঙ্গে মিশে থাকতে চাই’, গাড়ি থেকে লালবাতি সরালেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া!

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

Ashok Kirtania removes red light : ‘মানুষের সঙ্গে মিশে থাকতে চাই’, গাড়ি থেকে লালবাতি সরালেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া! - West Bengal News 24

রাজ্যের রাজনীতিতে এক বেনজির ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্যবাসী। মানুষের ভোটে জিতে, বিপুল জনসমর্থন নিয়ে বিধানসভায় পৌঁছানোর পর এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিলেন বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক তথা রাজ্যের বর্তমান খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। মন্ত্রী হওয়ার পর নিয়মমাফিক তাঁর গাড়িতে বসেছিল লালবাতি। কিন্তু ক্ষমতার অলিন্দে থেকেও অহংকার ছুঁতে পারল না তাঁকে। নিজের সরকারি গাড়ি থেকে লালবাতি খুলে ফেলার সিদ্ধান্ত নিলেন মন্ত্রী নিজেই। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত? এর পেছনে কি অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ রয়েছে?

বনগাঁ উত্তরের দু’বারের বিধায়ক অশোক কীর্তনিয়া মতুয়া সম্প্রদায়ের এক অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ। তাঁদের প্রতিনিধি হয়েই তিনি বিধানসভায় গিয়েছেন এবং মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন। লালবাতি সরিয়ে দেওয়ার প্রসঙ্গে মন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্টভাবে জানান, তিনি কোনও ভিআইপি সংস্কৃতির মধ্যে নিজেকে আবদ্ধ রাখতে চান না। তাঁর কথায়: “আমি সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে থাকতে চাই। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী নিজে লালবাতি ব্যবহার করছেন না। ঠিক একই কারণেই আমিও এই লালবাতি গাড়ি থেকে সরিয়ে দিলাম। জনগণের প্রতিনিধি হয়ে জনগণের মাঝেই থাকতে পছন্দ করি।”

আরও পড়ুন :: দখলমুক্ত ভেড়িতে নৌকা বাইলেন দিলীপ, মাছভাজা-মুড়িতে জমল প্রাতঃরাশ

শুধু লালবাতি সরানোই নয়, শনিবার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ খোলেন খাদ্যমন্ত্রী। ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া উদ্বাস্তু মতুয়াদের নাগরিকত্ব নিয়ে তিনি এক বড় আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি জানান, যে সমস্ত মতুয়ারা সিএএ (CAA)-তে আবেদন করবেন, তাঁরা ভারতের বৈধ নাগরিকত্ব পাবেন এবং সমস্ত রকম সরকারি সুযোগ-সুবিধাও তাঁদের দেওয়া হবে।

তবে এরই পাশাপাশি অনুপ্রবেশকারী বা বিদেশি নাগরিকদের বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি সাফ জানিয়েছেন:

  • কোনও বিদেশি নাগরিককে সরকারি সুবিধা দেওয়া হবে না।

  • অবৈধ নাগরিকদের নামে থাকা রেশন কার্ডগুলো অবিলম্বে বাতিল করা হবে।

  • খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকদের ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে স্ক্রুটিনি করার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রবিবার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায় পরিদর্শনে গিয়েছিলেন খাদ্যমন্ত্রী অশোক কীর্তনিয়া। দেশের সুরক্ষার স্বার্থে সীমান্তে বিএসএফ-এর (BSF) কাঁটাতারের বেড়া লাগানোর কাজে রাজ্য সরকার যে বদ্ধপরিকর, সেই বার্তা দেন তিনি। কাঁটাতারের জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি কথাও বলেন মন্ত্রী।

সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও মন্ত্রীকে কাছে পেয়ে তাঁদের মনের কথা জানান। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য, দেশের সুরক্ষার স্বার্থে জমি দিতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই, তবে সরকার যেন জমির উপযুক্ত ও ন্যায্য মূল্য (Fair Price) প্রদান করে। কোন কোন এলাকা দিয়ে এই কাঁটাতার যাবে, তা নিয়ে প্রশাসনের তরফ থেকে জমি মালিকদের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় বজায় রাখার আশ্বাস দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন ::

Back to top button