⚡ শুভেন্দুর পিঠ চাপড়ালেন রাজনাথ! ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারে কি ঘুচবে বাংলার আর্থিক সংকট?
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর এই প্রথম দিল্লি সফরে গিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। সেই বৈঠকের ছবি নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন রাজনাথ সিং। সাক্ষাতের পর বাংলার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে শুভেন্দুর ভূমিকায় আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।
সোশাল মিডিয়ায় রাজনাথ সিং লেখেন, “বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা হল। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় ভরপুর একজন ব্যক্তি তিনি। শুভেন্দু বাংলাকে উন্নতির শিখরে পৌঁছনোর লক্ষ্যে কাজ করবেন বলেই আমি আত্মবিশ্বাসী।” তবে তাঁদের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরে প্রশাসনিক বৈঠক শেষ করেই দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজধানীতে পৌঁছে রাতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন তিনি। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চলে সেই আলোচনা। রাজনৈতিক মহলের অনুমান, মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে তাঁদের মধ্যে। শুক্রবারও রাজধানীতে একাধিক কর্মসূচি রয়েছে শুভেন্দুর।
আরও পড়ুন :: ককরোচ জনতা পার্টির এক্স অ্যাকাউন্ট বন্ধ! কেন্দ্রকে তুলোধোনা মহুয়া-শশীর, তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা
এদিন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গেও সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি উপরাষ্ট্রপতি এবং নীতিন নবীনের সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসবেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই সাক্ষাৎ শুধুমাত্র সৌজন্যমূলক নয়, বরং প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দিক থেকেও যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ।
বর্তমানে বিপুল ঋণের চাপে রয়েছে বাংলা। রাজ্যের আয়ের বড় অংশই ব্যয় হচ্ছে ঋণের সুদ ও কিস্তি মেটাতে। প্রশাসনের একাংশের মতে, এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সহযোগিতা ছাড়া উন্নয়নের গতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তাই কেন্দ্রের বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্য সরকার।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, দিল্লি সফরে গিয়ে “ডবল ইঞ্জিন” সরকারের সুবিধা কীভাবে বাংলার উন্নয়নে কাজে লাগানো যায়, সেই বিষয়েই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করতে পারেন শুভেন্দু। একইসঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দ, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং শিল্পে বিনিয়োগ টানার ক্ষেত্রেও বিশেষ সহযোগিতা চাওয়া হতে পারে।
এদিকে বাংলার জন্য কেন্দ্রীয় বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও। যদিও তাঁর বক্তব্য, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কারণে প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় কিছুটা সময় লাগতে পারে। সব মিলিয়ে দিল্লিতে শুভেন্দু-মোদি বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ আর্থিক প্যাকেজ, কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয় এবং “ডবল ইঞ্জিন” সরকারের বার্তা এই তিন বিষয়কে সামনে রেখেই বাংলার রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মত পর্যবেক্ষকদের।



