বাংলায় মোড় ঘুরছে স্বাস্থ্য পরিষেবার! জুলাই থেকেই পাবেন কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত কার্ড, বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর স্বাস্থ্য পরিষেবাকে নতুনভাবে সাজাতে একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার আয়োজিত স্বাস্থ্য বৈঠকের পর তিনি জানান, খুব শীঘ্রই রাজ্যে চালু হতে চলেছে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প। পাশাপাশি স্পষ্ট করে দেন, বর্তমানে যাঁরা স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় রয়েছেন, তাঁরাও এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, জুলাই মাস থেকেই রাজ্যের বাসিন্দাদের জন্য আয়ুষ্মান ভারত কার্ড প্রদান শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধাভোগীরাই এই পরিষেবার অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। পরবর্তীতে আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে এই প্রকল্পের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে সরকারের। এই খাতে মোট ৯৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলার প্রায় ৬ কোটি মানুষ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সুবিধা ভোগ করছেন। স্বাস্থ্য বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘যে ৬ কোটি মানুষ এখন স্বাস্থ্যসাথীর সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁরাই সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন। পরে এই প্রকল্পের আওতায় আরও মানুষ যুক্ত হবেন। নতুন যাঁরা যুক্ত হতে চান, তাঁরা জুলাই থেকে আবেদন করতে পারবেন।”
আরও পড়ুন :: ওএমআর শিটের কার্বন কপি পাবেন পরীক্ষার্থীরা! নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর
এছাড়াও তিনি জানান, ‘‘জুনের প্রথম সপ্তাহে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির তৈরির প্রকল্পের চুক্তি হবে দিল্লিতে, কেন্দ্রের সব স্তরের আধিকারিকরা থাকবেন সেখানে। শুধু বাংলায় নয়, কাজ বা শিক্ষার কারণে গোটা ভারতে যেসব পশ্চিমবঙ্গবাসী বিভিন্ন রাজ্যে রয়েছেন, তাঁরা সকলে যাতে আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির অর্থাৎ বিনামূল্যে চিকিৎসাকেন্দ্রগুলি থেকে পরিষেবার সুবিধা পান, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সেই কারণেই দিল্লিতে বসে চুক্তি হবে।”
উল্লেখ্য, প্রাক্তন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের আমলে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে দীর্ঘদিন মতবিরোধ চলেছিল। সেই সময় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বিকল্প হিসেবে চালু করা হয় স্বাস্থ্যসাথী। ওই প্রকল্পে পরিবারের মহিলাদের নামে কার্ড ইস্যু করা হত এবং চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের জন্য সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা মিলত।
নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন উঠেছিল স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তবে শনিবার মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার পর সেই জল্পনায় অনেকটাই ইতি পড়েছে। পাশাপাশি তিনি আগের সরকারের বিরুদ্ধে পরোক্ষে সমালোচনাও করেন। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয়ের অভাবের কারণে স্বাস্থ্য পরিষেবায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটবে বলেই আশাবাদী রাজ্য সরকার।



