অন্নপূর্ণা যোজনার ১৩ পাতার ফর্ম নিয়ে তোলপাড়! অবশেষে মুখ খুললেন শুভেন্দু ও অগ্নিমিত্রা, কারা পাবেন ৩০০০ টাকা? জেনে নিন আসল সত্য!
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

বুধবার থেকেই রাজ্যের ২৮ লক্ষেরও বেশি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় ৩ হাজার টাকা পৌঁছতে শুরু করেছে। তবে এই প্রকল্পের আবেদনপত্রের আকার এবং তাতে চাওয়া তথ্য নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে, একজন উপভোক্তার জন্য কেন পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের তথ্যও জমা দিতে হচ্ছে, তা নিয়ে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে বুধবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল।
সরকারের দাবি, শুধুমাত্র যোগ্য ভারতীয় নাগরিকদের কাছেই এই আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। কোনও অনুপ্রবেশকারী বা অযোগ্য ব্যক্তি যাতে এই প্রকল্পের সুবিধা না পান, সেই কারণেই আবেদন প্রক্রিয়াকে আরও বিস্তারিত করা হয়েছে।
সরকারি সূত্রের অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের সময় চালু থাকা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকায় একাধিক অসঙ্গতি ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি, স্থানান্তরিত ভোটার এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পুরুষদের নামও তালিকায় ছিল। তাই সরকারি অর্থ সঠিক উপভোক্তাদের হাতে পৌঁছে দিতে এবার বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন :: সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ‘মাসাজ পার্লার’! ওডিসিও-র ঘরে কন্ডোম-মদ-অস্ত্র, বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ
নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভোটার তালিকা থেকে বাদ যাওয়ার পরও অনেকে পূর্বতন সরকারের অনুদান পাচ্ছিলেন। তালিকায় ছিলেন মৃত, স্থানান্তরিত, ডুপ্লিকেটরাও। এই অনুদান শুধু যোগ্য ভারতীয়রাই পাবেন। কোনও অনুপ্রবেশকারীকে টাকা দেওয়া হবে না। আমরা কেউ চাই না কোনও অভারতীয়র অ্যাকাউন্টে টাকা যাক।”
সরকার আরও জানিয়েছে, অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য সংগ্রহ করা তথ্য ভবিষ্যতের অন্যান্য জনকল্যাণমূলক প্রকল্পেও কাজে লাগানো হতে পারে।
অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদনপত্রে মোট ১২ পাতার তথ্য চাওয়া হয়েছে। আবেদনকারীর পাশাপাশি পরিবারের প্রধান এবং অন্যান্য সদস্যদের তথ্যও দিতে হচ্ছে। এছাড়া জমি ও বাসস্থানের তথ্যও চাওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। সেই প্রসঙ্গে শিশু ও নারী কল্যাণ মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল বলেন, “প্রথমে বলেছিলাম ফর্ম পূরণ করতে হবে না। কিন্তু দেখালাম তালিকা লক্ষ লক্ষ ভুয়ো উপভোক্তা রয়েছে। সেই অসঙ্গতি রুখতেই এই পদক্ষেপ।”
এরপর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “২৮ লক্ষ ২৫ হাজার ৭৬৯ জনের অ্যাকাউন্টে এই টাকা আজকে থেকে যাওয়া শুরু হল।”
তবে এখনও বহু মহিলা এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করেননি। তাঁদের টাকা কবে থেকে মিলবে, সেই প্রশ্নও উঠছে। সরকার জানিয়েছে, বিডিও অফিস, পুরসভা এবং অন্যান্য নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে আবেদনপত্র সংগ্রহ করা যাবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে সাত দিনের মধ্যেই টাকা অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে।
এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রতিদিন ৭ দিন অন্তর মাননীয়া মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল প্রাপকদের তথ্য সামনে আনবেন। ৯০ দিন প্রক্রিয়া চলবে। তারপর বন্ধ হবে।”
তবে যাঁরা এখনও অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেননি, তাঁরা আপাতত পূর্বঘোষিত নিয়ম অনুযায়ী লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ১৫০০ ও ১৭০০ টাকার আর্থিক সহায়তা পেতে থাকবেন।



