রাজনীতিরাজ্য

২১ জুলাইয়ের আগেই মমতাকে বিরাট ধাক্কার ছক? সব বিদ্রোহী এক ছাতায় আনার ইঙ্গিত সুদীপের!

ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

২১ জুলাইয়ের আগেই মমতাকে বিরাট ধাক্কার ছক? সব বিদ্রোহী এক ছাতায় আনার ইঙ্গিত সুদীপের! - West Bengal News 24

একুশে জুলাই— তৃণমূল কংগ্রেসের আবেগ, ইতিহাস এবং শক্তি প্রদর্শনের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। কিন্তু ২০২৬ সালের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে গিয়েছে। ক্ষমতা হারানোর পর ঘাসফুল শিবিরে এখন তীব্র ডামাডোল। ‘আসল তৃণমূল’ বনাম ‘নতুন তৃণমূল’ দ্বন্দ্বে যখন দল জেরবার, ঠিক তখনই ধোঁয়াশা বাড়ল শহিদ স্মরণ অনুষ্ঠান নিয়ে। এই পরিস্থিতির মাঝেই কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আরও বড় রাজনৈতিক ধাক্কা দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে? লোকসভার প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে কিন্তু তেমনই বিস্ফোরক ইঙ্গিত মিলছে।

তৃণমূলের প্রতীক ও সম্পত্তি হাতছাড়া হওয়ার মুখে? আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি!

সম্প্রতি তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ ২০ জন সাংসদ নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগ দেওয়ায় রাজনৈতিক মহল ধরে নিয়েছিল, তাঁরা হয়তো জোড়াফুল প্রতীক এবং দলের সম্পত্তির আশা ত্যাগ করেছেন। কিন্তু মঙ্গলবার দিল্লি থেকে ফিরেই উল্টো সুর শোনা গেল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সুদীপবাবু স্পষ্ট জানান: “দলের পরবর্তী কার্যক্রম কী হবে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকচিহ্ন, সম্পদ—সেগুলো নিয়ে কী পদক্ষেপ হবে, সেগুলো বিচার্য বিষয়। তবে আমার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বলছে, এগুলো সবই আদালতে নিষ্পত্তি হবে।”

আরও পড়ুন :: রামপুরহাটে নার্সিং ছাত্রীদের বাথরুমে উঁকি দিয়ে ভিডিও! হাতেনাতে ধরা পড়ল যুবক, এলাকায় তীব্র উত্তেজনা

অর্থাৎ, শুধু দলত্যাগই নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আইনি লড়াইয়ে টেনে এনে দলের প্রতীক ও সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার এক চরম প্রস্তুতি যে পর্দার আড়ালে চলছে, তা সুদীপের এই কথাতেই পরিষ্কার।

লোকসভা ও বিধানসভার বিদ্রোহীরা এক ছাতায়! কী সেই গোপন প্ল্যান?

অন্য দলে যোগ দেওয়ার পর কীভাবে মূল তৃণমূলের প্রতীকের দাবি করা সম্ভব? এখানেই উঠে আসছে দিল্লির এক চাঞ্চল্যকর পরিকল্পনার কথা। রাজনৈতিক অন্দরমহলের খবর, দিল্লিতে এখন তৃণমূলের লোকসভা এবং বিধানসভার সমস্ত বিক্ষুব্ধ অংশকে এক ছাতার তলায় আনার জোরকদমে চেষ্টা চলছে।

যদি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিধানসভার বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠী এবং কাকলি-সুদীপদের লোকসভার বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে এক জোট করা যায়, তবেই আইনিভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রতীকের লড়াইয়ে কোণঠাসা করা সম্ভব। দিল্লি থেকে ফেরার পথে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও এই জল্পনা উসকে দিয়ে বলেন, “ব্যাপারটা অনেক দূর এগিয়েছে। বিধানসভাতেও একই ধরনের প্রস্তুতি চলছে। উভয় পক্ষ কীভাবে একসঙ্গে বসবে, কীভাবে কাছাকাছি আসবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে।”

আগামী ২১ জুলাই তৃণমূলের শহিদ দিবস। আর তার ঠিক একদিন আগে, অর্থাৎ ২০ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের অধিবেশন। সূত্রের খবর, সংসদ শুরু হওয়ার আগেই নিজেদের ঘুঁটি সাজিয়ে নিতে চাইছে বিদ্রোহী শিবির।

পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ:

  • “একটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ শেষ হয়েছে। এবার সকলের নিজ নিজ ক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার পালা।”

  • “দ্বিতীয় দফায় আবার ডাক এলে পরবর্তী আলোচনা হবে।”

  • “২০ জুলাই লোকসভা খোলার আগেই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপগুলি গ্রহণ করব।”

এই ‘পরবর্তী পদক্ষেপ’ আসলে কী? লোকসভায় আলাদা আসনে বসে এনডিএ (NDA)-কে সমর্থন করা, নাকি ঋতব্রতদের সঙ্গে জোট বেঁধে দলের প্রতীক ও সম্পত্তির ওপর চূড়ান্ত আঘাত হানা? তা নিয়েই এখন রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা।

লোকসভা ও বিধানসভার বিদ্রোহীদের এক ছাতার তলায় আসার এই তত্ত্ব যখন ডানা মেলছে, ঠিক তখনই এতে কিছুটা জল ঢেলে দিয়েছেন বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

সুদীপের দাবির প্রেক্ষিতে ঋতব্রত জানান: “আমরা গতকাল দেখেছি তৃণমূলের সাংসদরা NCPI-তে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা এখন NDA-র শরিক দল। তাঁরা হয়তো সম্মিলিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে আমাদের এই (এক ছাতার তলায় আসা) নিয়ে কোনও ধারণা নেই।”

ঋতব্রতর এই মন্তব্য কি সত্যিই দূরত্বের কারণে, নাকি এটিও কোনো বড় রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, তা আগামী কয়েকদিনেই পরিষ্কার হয়ে যাবে। তবে এ কথা নিশ্চিত, ২১ জুলাইয়ের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর চাপ বাড়াতে কোনো খামতি রাখছে না বিদ্রোহী শিবির।

আরও পড়ুন ::

Back to top button