বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই লোকসভায় প্রশ্নফাঁস রোধে ‘কঠোর’ বিল, কংগ্রেসের দাবি ‘লোকদেখানো’
ওয়েস্ট বেঙ্গল নিউজ ২৪

প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা আগেই ঘোষণা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেই ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার সংসদে সংশোধনী বিল পেশ করা হল। দুপুরে লোকসভায় বিলটি উত্থাপন করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জীতেন্দ্র সিংহ।
প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং ছাত্র-বিক্ষোভে পুলিশের ‘বাড়াবাড়ি’ নিয়ে কেন্দ্রের জবাবদিহি চাইছে বিরোধী দলগুলি। সোমবার অধিবেশনের শুরু থেকেই এই ইস্যুতে সংসদের দুই কক্ষ বারবার উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী সাংসদদের প্রবল হট্টগোলের মধ্যেই লোকসভায় পেশ করা হয় সংশোধনী বিলটি। বিলটির পোশাকি নাম ‘পাবলিক এগ্জ়ামিনেশনস (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬’।
সোমবার অধিবেশন শুরু হতেই প্রশ্নফাঁস নিয়ে প্রতিবাদে সরব হন বিরোধী সাংসদেরা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় দুপুর ১২টা পর্যন্ত সংসদের উভয় কক্ষ মুলতুবি করে দেওয়া হয়। দুপুর ১২টায় অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই সংশোধনী বিলটি লোকসভায় পেশ করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এর কিছুক্ষণ পরেই আবার দুপুর ২টো পর্যন্ত অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যায়।
আরও পড়ুন :: ককরোচদের পথেই এবার ‘ই-২০ জনতা পার্টি’! গড়করির নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে আপ
বিলটি পেশ হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রীয় সরকারকে আক্রমণ করতে শুরু করেছে কংগ্রেস। গোটা বিষয়টি ‘লোকদেখানো’ পদক্ষেপ বলে দাবি করেছেন কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ। তাঁর অভিযোগ, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় যুক্তিযুক্ত সংস্কার করতে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপির সরকার।

অধিবেশন কক্ষের ভিতরের পাশাপাশি সংসদ ভবনের বাইরেও প্রতিবাদে শামিল হন ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সাংসদেরা। অধিবেশন মুলতুবি থাকার সময় সংসদ চত্বরে একসঙ্গে বিক্ষোভ দেখান রাহুল গাঁধী, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী এবং অখিলেশ যাদব। ওই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কালীঘাট তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও।
প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধে আনা সংশোধনী বিলটি নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনার প্রস্তুতি নিয়েছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ধরে এই বিলের উপর আলোচনা হতে পারে। তবে বিরোধীদের লাগাতার হট্টগোল এবং বারবার অধিবেশন মুলতুবি হওয়ার কারণে সংসদে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন :: অরাজকতার প্রতিবাদে তেরঙ্গা হাতে বিজেপির মেগা মিছিল! ‘আরশোলা’দের বয়কটের ডাক দিয়ে উত্তপ্ত ধর্মতলা
সূত্রের দাবি, দুপুর ১২টার পর অধিবেশন মুলতুবি থাকাকালীন সংসদ ভবন চত্বরে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব। ওই বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়ল উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

বিলটি লোকসভায় পেশ হওয়ার পর সাংসদদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রস্তাব চাওয়া হয়। সূত্রের খবর, স্পিকার ওম বিড়লা সাংসদদের জানিয়েছেন, দুপুর ১টার মধ্যে ওই বিলের উপর সংশোধনের পরামর্শ জমা দিতে হবে। বিল নিয়ে আলোচনার জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হবে বলেও লোকসভার সাংসদদের আশ্বস্ত করেছেন তিনি।
নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে চলা ছাত্র ও যুবদের আন্দোলন সম্প্রতি কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বন্ধ করতে কঠোর আইন আনার বিষয়ে পড়ুয়াদের আগেই আশ্বাস দিয়েছিল কেন্দ্র। সোমবার লোকসভায় পেশ হওয়া বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা জরিমানার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে বিলে।
সংশোধনী বিলের সমর্থনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আঠওয়ালে বলেন, “প্রশ্ন ফাঁস করলে কঠোর শাস্তির কথা উল্লেখ করে একটি বিল আনা হচ্ছে। মোদী সরকার খুব ভাল একটি পদক্ষেপ করছে।” সংসদের অচলাবস্থা নিয়ে বিরোধীজোট ‘ইন্ডিয়া’কে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “বিরোধীদের কাজই হল হট্টগোল করা।”



