খেলা

পিএসজির সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার ব্যর্থ প্রোজেক্ট



শুধুমাত্র একটি শিরোপা। ইউরো চ্যাম্পিয়ন্সশিপ। এই একটি শিরোপা জন্য একটি দল কতটাকা ঢালতে পারে? আরবের পেট্রোডলারে ফুলে-ফেঁপে ওঠা কাতারি ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানির একটি প্রতিষ্ঠান কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট। ২০১২ সালে ক্লাবটির মালিকা পুরোপুরি কেনার পর থেকেই তারা উঠেপড়ে লেগেছে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স হওয়ার মিশন সফল করার জন্য।

এই একটি লক্ষ্যে পানির মত টাকা ঢালছেন নাসের আল খেলাইফি। অজস্র টাকা ঢালার পর অবশেষে স্বপ্নপূরণের একেবারে দ্বারপ্রান্তে এসেও ব্যর্থ হতে হলো তাদেরকে। বায়ার্নের গতিময় পাওয়ার ফুটবলের সামনে অসহায় হয়ে পড়েছিলেন নেইমার আর এমবাপেরা।

২০১১ সাল থেকেই মূলতঃ ক্লাবটির কাতারি মালিক স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট পিএসজিকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। ২০১২ সালে তারা হয়ে যায় একক মালিক। সেই থেকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল পর্যন্ত মোট ১.২৫৬ বিলিয়ন ইউরো (বাংলাদেশি টাকায় ১২ হাজার ৫৪৫ কোটি ৬১ লাখ টাকা) ব্যায় করেছে তারা পিএসজির পেছনে।

ইউরোপিয়ান ফুটবলে তথা উয়েফা কিংবা ফিফার যে ফাইনান্সিয়াল ফেয়ার প্লে রয়েছে, সেগুলোকেও পর্যন্ত তোয়াক্কা করেনি। শুরুতে থিয়াগো সিলভা, ডেভিড লুইজ, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, এডিনসন কাভানি, এঞ্জেল ডি মারিয়াদের কিনতে শুরু করে। শেষ পর্যন্ত ২২২ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে বার্সেলোনা থেকে কিনে আনে নেইমারকে। মোকানোর ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপেকে কিনে রাখে ১৮০ মিলিয়ন ইউরোয়।

[ আরও পড়ুন : রোনালদোর রেকর্ড ভাঙতে পারবেন কি লেভানদোভস্কি? ]

এই বিশাল পরিমাণ অর্থ ব্যায় করে গত ৮-৯ বছরে কাতারি স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্টের অর্জন ৭টি লিগ ওয়ান শিরোপা, ৫টি কোপা ডি ফ্রান্স ট্রফি, ৬টি কোপা ডি লা লিগা এবং সাতটি ট্রফি ডাস চ্যাম্পিয়ন্স শিরোপা।


২০১১-১২ সালে পিএসজি খেলোয়াড় কিনতে খরচ করেছিল ১০৭.১ মিলিয়ন ইউরো (১ হাজার ৭১ কোটি টাকা প্রায়)। এর মধ্যে ৪২ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কিনে নেয় হ্যাভিয়ের পাস্তোরেকে।

২০১২-১৩ মৌসুমে তারা খেলোয়াড় কিনতে খরচ করে ১৫১ মিলিয়ন ইউরো (১ হাজার ৫১০ কোটি টাকা)। এর মধ্যে ৪২ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে থিয়াগো সিলভা, ৪০ মিলিয়ন দিয়ে লুকাস মউরা, ৩০ মিলিয়ন দিয়ে এজেকুয়েল লাভেজ্জি এবং ২১ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কিনে নেয় জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে।

২০১৩ সালে এডিনসন কাভানি, মার্কুইনহোস এবং ইয়োহান ক্যাবাইকে পিএসজি কিনে নেয় ১৩৫.৯ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে। এরপর ওই একই বছর শেষ দিকে পিএসজিতে ৪৯.৫ মিলিয়ন ইউরোয় যোগ দেন ডেভিড লুইজ।

২০১৫-১৬ মৌসুমে পিএসজি খেলোয়াড় কিনতে খরচ করে ১১৬.১ মিলিয়ন ইউরো। ২০১৬-১৭ মৌসুমে খরচ করে ১৩৪.৫ মিলিয়ন ইউরো। তবে, ২০১৭ সালের গ্রীষ্মে তারা যা করেছিল, তা কোনো কিছুর সঙ্গেই তুলনীয় নয়।

সেবার তারা বার্সেলোনা থেকে ২২২ মিলিয়ন ইউরো কিনে নেয় ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমারকে। একই মৌসুমেই কিলিয়ান এমবাপেকে ১৪৫ মিলিয়ন ইউরো কিনে নেয় পিএসজি। তবে ২০১৯ সালে প্যারিসের ক্লাবটি শুধু ব্যায় করেছিল ৯৫ মিলিয়ন ইউরো। কিনেছিল কেইলর নাভাস এবং পাবলো সারাভিয়াকে।

এতকিছু করার পর অবশেষে একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে উঠেও ব্যর্থ হতে হলো নেইমারের পিএসজিকে। প্রায় সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার যে প্রজেক্ট তৈরি করেছিল পিএসজির মালিকপক্ষ কাতারি স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট, সেটাকে গতির খেলায় পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলো বায়ার্ন মিউনিখ।


Related Articles

Back to top button