জাতীয়

তৃতীয় পর্বের বৃহত্তর ট্রায়াল শুরু ভারতে; পুণেতে ‘কোভিশিল্ড’ টিকা দিচ্ছে সেরাম

তৃতীয় পর্বের বৃহত্তর ট্রায়াল শুরু ভারতে; পুণেতে 'কোভিশিল্ড' টিকা দিচ্ছে সেরাম

জট কেটেছে আগেই। অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় তৈরি কোভিশিল্ড টিকার ক্লিনিকাল ট্রায়াল ফের শুরু করার অনুমতি পেয়ে গেছে সেরাম ইনস্টিটিউট। ড্রাগ কন্ট্রোলের অনুমোদনেই পুণের হাসপাতালে কোভিশিল্ড টিকার তৃতীয় পর্বের ট্রায়াল শুরু করে দিল দেশের প্রথম সারির এই ভ্যাকসিন নির্মাতা সংস্থা।

দ্বিতীয় ও তৃতীয় পর্ব মিলিয়ে মোট ১৬০০ জনকে টিকা দেওয়ার কথা ছিল সেরামের। তবে অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকায় এক মহিলা স্বেচ্ছাসেবকের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা সামনে আসার পরে দ্বিতীয় পর্বের ট্রায়াল শেষের দিকে বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় সেরাম। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, তৃতীয় স্তরে আরও বেশি জনকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা আছে তাদের।

স্যাসন জেনারেল হাসপাতালে টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে গতকাল থেকেই। হাসপাতালের প্রধান ডক্টর মুরলিধর তাম্বে বলেছেন, তৃতীয় পর্বে দুটি ডোজে টিকার ট্রায়াল হবে। প্রাথমিকভাবে ১৫০-২০০ জনকে টিকা দেওয়া হচ্ছে এই হাসপাতালে। পরে স্বেচ্ছাসেবকের সংখ্যা বাড়ানো হবে।

টিকার ডোজ দেওয়ার পরে তাঁদের পর্যবেক্ষণে রেখে ফলাফল সামনে আনা হবে। সেরাম জানিয়েছে, এটাই কোভিশিল্ড টিকার চূড়ান্ত পর্বের ট্রায়াল। দেশের অন্তত ১৭টি হাসপাতালে এই ট্রায়াল চলবে। যার মধ্যে রয়েছে, দিল্লির অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল কলেজ (এইমস), পুণে বি জে মেডিক্যাল কলেজ, পাটনার রাজেন্দ্র মেমোরিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল কলেজ, চণ্ডীগড়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, যোধপুর-এইমস, গোরক্ষপুরের নেহরু হাসপাতাল, বিশাখাপত্তনমের অন্ধ্র মেডিক্যাল কলেজ, মাইসোরের জেএসএস অ্যাকাডেমি অব হাইয়ার এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ।

এই পর্বে টিকার ট্রায়ালের রিপোর্ট দেখেই উত্‍পাদন শুরু হয়ে যাবে। আশা করা যাচ্ছে এ বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে টিকা চলে আসবে দেশের বাজারে। অ্যাস্ট্রজেনেকার তৃতীয় পর্যায়ের টিকার ট্রায়ালে এক মহিলা স্বেচ্ছাসেবকের অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় হইচই শুরু হয়ে যায় নানা মহলে।

আরও পড়ুুন: দিল্লির পাঁচতারকা হোটেলে ট্যুর গাইডকে গণধর্ষণ

অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকাতেই এতদিন বেশি ভরসা রেখেছিল বিশ্ববাসী। সেখানে টিকার ডোজের এমন গলদ সামনে আসায় স্বভাবতই চিন্তা বাড়ে। তার উপর জানা যায় টিকার ইঞ্জেকশন নেওয়ার পরেই এক মহিলা স্বেচ্ছাসেবকের ট্রান্সভার্স মায়েলিটিস নামে স্নায়ুর রোগ দেখা দিয়েছে। উদ্বেগ আরও বাড়ে।

সুরক্ষার জন্য টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় অ্যাস্ট্রজেনেকা। তবে ব্রিটেনের মেডিসিনস হেলথ রেগুলেটরি অথরিটির (MHRA) অনুমতি পেয়ে অক্সফোর্ড টিকার ট্রায়াল ফের শুরু করে দিয়েছে ব্রিটিশ-সুইডিশ ফার্ম অ্যাস্ট্রজেনেকা। টিকা সুরক্ষিত বলেই ঘোষণা করা হয়েছে।

অক্সফোর্ড দাবি করেছে, টিকার ডোজে মহিলার মধ্যে এমন রোগ দেখা যায়নি। সম্ভবত, মহিলার শরীরে আগে থেকেই কোনও ক্রনিক রোগ ছিল যার প্রতিক্রিয়ায় এমন হয়েছে অথবা অন্য কারণ রয়েছে যা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অ্যাস্ট্রজেনেকার টিকা সুরক্ষিত ঘোষণা করার পরে ভারতেও টিকার ট্রায়ালে ছাড়পত্র দেন ড্রাগ কন্ট্রোলার জেনারেল ভি জি সোমানি। তিনি জানান, সেরামের টিকার ক্লিনিকাল ও সেফটি ট্রায়ালের রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ভ্যাকসিন রেগুলেটরি কমিটির বিশেষজ্ঞরা।

এই টিকার ডোজে কোনওরকম ‘অ্যাডভার্স সাইড এফেক্টস’ হচ্ছে কিনা সেটা ভালভাবে দেখে, বুঝে তবেই টিকার ট্রায়াল ফের শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সেরামের সিইও আদর পুনাওয়ালা যদিও আগেই বলেছিলেন, অক্সফোর্ডের ফর্মুলায় তৈরি তাদের কোভিশিল্ড টিকা একেবারেই নিরাপদ ও সুরক্ষিত।

১০০ জনকে টিকার ইঞ্জেকশন দিয়েও জটিল রোগ দেখা যায়নি। তবে দেশের ড্রাগ কন্ট্রোল যা বলবে সেই মতোই কাজ করা হবে। নির্দেশিকা কোনওভাবেই অমান্য করা হবে না।

 

 

সুত্র: THE WALL

আরও পড়ুন ::

Back to top button