
রাজনীতিতে কঠিন সময়ের পরীক্ষা! একদিকে যখন দলের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই, ঠিক তখনই খোদ দলনেত্রীর ধর্না কর্মসূচিতে ঘটে গেল এক চরম বিপত্তি। ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে (Y-Channel) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা ধর্না মঞ্চে আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়লেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তীব্র গরমে ধকল সহ্য করতে না পেরে তিনি জ্ঞান হারানোর মতো পরিস্থিতি হলে স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীকে তাঁর মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে এবং হাওয়া করতে দেখা যায়। এই ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার দুপুর থেকেই কলকাতার পারদ ছিল ঊর্ধ্বমুখী। তার ওপর সকাল থেকে একের পর এক কর্মসূচি সামলাচ্ছিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক। ওয়াই চ্যানেলে মমতার ধর্নাস্থলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি তীব্র শারীরিক অস্বস্তি বোধ করেন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন।
আরও পড়ুন :: ৫০ বিধায়ককে নিয়ে নতুন তৃণমূল? ‘কাল কী হবে কে জানে!’ ঋতব্রতর মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি
সহযোদ্ধারা বিষয়টি টের পেয়েই তড়িঘড়ি কুণাল ঘোষকে শুইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সেই সময় দেখা যায় এক অন্য রূপ— সমস্ত রাজনৈতিক প্রোটোকল সরিয়ে রেখে হাতের কাছে যা ছিল, তা দিয়েই সহযোদ্ধাকে হাওয়া করতে শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। পরম স্নেহে বিধায়কের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেও দেখা যায় দলনেত্রীকে।
বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি: প্রাথমিক শুশ্রূষার পর কুণাল ঘোষ বর্তমানে কিছুটা স্থিতিশীল ও সুস্থ বোধ করছেন। তবে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, প্রবল গরম এবং দিনভর অতিরিক্ত দৌড়ঝাঁপের কারণেই এই ‘হিট স্ট্রোক’ বা সানস্ট্রোকের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
কুণাল ঘোষের ঘনিষ্ঠ মহল সূত্রে খবর, দলের এই কঠিন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবারের সকাল থেকেই চরম ব্যস্ততার মধ্যে ছিলেন তিনি:
সকাল: প্রথমে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে ছুটে যান এবং ওয়াই চ্যানেলের কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন।
দুপুর (১ম পর্ব): এরপর সরাসরি চলে যান রানি রাসমণি রোডের দলীয় কর্মসূচিতে।
দুপুর (২য় পর্ব): বিধানসভায় ‘প্রধান বিরোধী’র তকমা এবং দলের অস্তিত্ব ধরে রাখার আইনি লড়াইয়ে চিঠি হাতে হাজির হন বিধানসভায়।
বিকেল: সেখান থেকে সোজা পৌঁছান ওয়াই চ্যানেলের ধর্নাস্থলে, যেখানেই এই বিপত্তি ঘটে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুদিনে দলের চারপাশে মানুষের ভিড় থাকলেও, বর্তমানের এই রাজনৈতিক সংকটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত একা। বৈঠক হোক বা রাজপথের আন্দোলন— হাতে গোনা কয়েকজন বিশ্বস্ত মুখ ছাড়া পাশে কাউকে দেখা যাচ্ছে না।
সেই ‘বিপদের বন্ধু’দের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন কুণাল ঘোষ। দলের একাধিক সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অতীতে তিনি বারবার সরব হলেও, কঠিন সময়ে দলনেত্রীকে একা ফেলে যাননি। মঙ্গলবারের এই ঘটনা যেন প্রমাণ করে দিল, দলে কুণালের অবস্থান এবং তাঁর প্রতি মমতার ভরসা কতটা গভীর।



