পূর্ব মেদিনীপুররাজনীতি

প্রশান্ত কিশোর বলছে, আমি বলছি না, তেমন হলে ভাল হবে কি! : শুভেন্দু

গত শনিবার নন্দীগ্রামে তাঁর অফিসে ভাঙচুর করেছে দুষ্কৃতীরা। কর্মীদের মারধর করেছে। বাইক ভেঙেছে। তারা তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী বলেই অভিযোগ। সোমবার সেই ঘটনার প্রতিবাদে নন্দীগ্রামে পদযাত্রা করেন শুভেন্দু।

কয়েক হাজার সমর্থক ও অনুগামীদের নিয়ে সেই পদযাত্রার শেষে শুভেন্দু এদিন বলেন, ‘কারা ভাঙচুর করেছে, কী তাদের পরিচয় সবাই জানে। আমি একটা কথা বলতে চাই, এটা আমার কথা নয়। ওই কিশোরের (পড়ুন প্রশান্ত কিশোর) কথা। তিনি বলছেন, বিজেপি শুধু ৭০ শতাংশ মানুষের কথা বলছে।

মানে উনি বোঝাতে চাইছেন বাকি ৩০ শতাংশ ওদের কাছে আছে। ফিক্সড ডিপোজিট। স্থায়ী আমানত।’ এর পরই ওই তরুণ বিজেপি নেতা বলেন, ‘আচ্ছা বলুন তো আমি যদি নন্দীগ্রামে ৬২ হাজার বনাম ২ লক্ষ ১৩ হাজারের কথা বলি, তা হলে কি ভাল লাগবে? আবারও বলছি, এটা আমার কথা নয়, কিন্তু ভাল লাগবে কি?’

শুভেন্দুর ইশারা যে কোন দিকে তা পর্যবেক্ষকদের অনেকেরই বুঝতে অসুবিধা হয়নি। নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রে হিন্দু ভোট রয়েছে ২ লক্ষ ১৩ হাজার। আর সংখ্যালঘু ভোট রয়েছে ৬২ হাজার।

আরও পড়ুন: নন্দীগ্রামে ভাঙা হচ্ছে বিজেপি অফিস, উত্তপ্ত কাঁথিও

পিকে-র কথা টেনে শুভেন্দু হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন, তিনি যদি ভোটে ধর্মীয় মেরুকরণের কথা বলেন, তা হলে কি তা কারও ভাল লাগবে! অনেকের মতে, এ কথার মধ্যে শেখ সুফিয়ানের মতো তৃণমূলের নেতাদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা রয়েছে।

নন্দীগ্রামে স্থানীয় অনেকের কথায়, ধর্মের আধারে সেখানে কখনওই রাজনীতি করেননি শুভেন্দু। দুর্গাপুজোয় যেমন গরিবদের অন্ন, বস্ত্র দিয়ে সাহায্য করেন। তেমনই ইদের সময়ে সংখ্যালঘু পরিবারদের জামাকাপড়, সেলাই মেশিন, সাইকেল ইত্যাদি দিয়ে পাশে থাকেন।

নন্দীগ্রামের শহিদ পরিবারগুলির ঠেকা-বেঠেকায় সব সময়েই পাওয়া যায় তাঁকে। শুভেন্দুর কথায়, ‘আমি ব্রাহ্মণ পরিবারের সন্তান। সনাতন হিন্দু ধর্মে বিশ্বাস করি। কিন্তু সাংসদ, বিধায়ক তথা জনপ্রতিনিধি হিসাবে কখনও গরিব, বেকার, দুঃস্থকে ধর্মের বিচারে দেখিনি।

তাঁদের গরিব, বেকার, দুঃস্থ হিসেবেই দেখেছি। অনেক দিন পর নন্দীগ্রামকে অনেকের মনে পড়েছে। ভোট আসছে তো তাই। তাঁরা ধর্মের নামে অশান্তি লাগাতে চাইছে। কিন্তু নন্দীগ্রামের মানুষকেও বুঝতে হবে, এই ফাঁদে পড়লে তাঁদেরই ক্ষতি। অবশ্য আমি জানি, তাঁরা এই ফাঁদে পা দেবেন না।’

 

সুত্র: দ্য ওয়াল

আরও পড়ুন ::

Back to top button